প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ইসরাইলের নির্বাচনে বিদেশি অর্থায়নের মাধ্যমে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগের তদন্ত করার জন্য দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা শিন বেতের প্রধান ডেভিড জিনিকে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির চেয়ারম্যান বিচারপতি নোআম সলবার্গ আহ্বান জানিয়েছেন। এই খবরটি ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম হারেৎজের একটি প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়েছে।
অন্যদিকে, আরেকটি ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম জেরুজালেম পোস্ট জানিয়েছে, কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির চেয়ারম্যানের নির্দেশনার পর বিদেশি অর্থায়ন ও হস্তক্ষেপের সন্দেহ নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে শিন বেত। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি আরব দলগুলোর বিরুদ্ধে ইসরাইলের নির্বাচন ‘চুরি’ করার অভিযোগ তোলার পর এই তদন্তের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। দলটি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি এসব অভিযোগ তদন্ত করার আহ্বান জানিয়েছে।
ক্ষমতাসীন দলের দাবি, ভোটকেন্দ্রগুলোতে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগের পক্ষে তারা ‘শত শত সাক্ষ্য ও তথ্যপ্রমাণ’ কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটি (সিইসি) এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেবে। গত মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) ইসরাইলের পার্লামেন্ট নির্বাচনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এরপর ভোট গণনা শুরু হয়। বুধবার (২৮ অক্টোবর) স্থানীয় সময় রাত ৯টা পর্যন্ত প্রায় ৯০ শতাংশ ভোট গণনা সম্পন্ন হলেও কোনো জোটই সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। অর্থাৎ প্রধান দুই রাজনৈতিক জোটই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১ আসনের ম্যাজিক ফিগার থেকে পিছিয়ে রয়েছে।
কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ১২০ আসনের নেসেটে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট ৫৩টি আসন পেতে যাচ্ছে। অন্যদিকে, বিরোধী জোটের নেতা গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন জোট ৪৮টি আসন পেতে পারে। নির্বাচনে সবচেয়ে বড় চমক দেখিয়েছে ফিলিস্তিনি আরব নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক দল ‘রা’আম ও ‘জয়েন্ট লিস্ট’। পূর্বাভাস অনুযায়ী, তারা রেকর্ড ১৯টি আসন জিততে পারে, যা বর্তমান সম্মিলিত ১০টি আসনের প্রায় দ্বিগুণ।
বিরোধী ও ফিলিস্তিনি আরব দলগুলোর সম্মিলিত আসন ৬৫টিতে দাঁড়াচ্ছে, যা জোট সরকার গঠনের জন্য যথেষ্ট। তবে বিরোধী দল ও ফিলিস্তিনি দলগুলো জোট সরকার গঠনের জন্য একসঙ্গে কাজ করবে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। যদিও নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন কট্টর ডানপন্থি সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরাতে ভূমিকা রাখার অঙ্গীকার করেছেন জয়েন্ট লিস্টের নেতা ইউসেফ জাবারিন। তিনি বলেছেন, এ লক্ষ্য অর্জনে দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত তার দল।
পার্লামেন্টে আরব দলগুলোকে সঙ্গে নিয়ে সরকার গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন ডেমোক্র্যাটস পার্টির প্রধান ইয়ার গোলানও। স্থানীয় সময় বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকালে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ২০২৬ সালের নির্বাচনে হেরে গেছেন।
নির্বাচনে বিদেশি অর্থায়নের অভিযোগ
জেরুজালেম পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কাতার ও তুরস্কসহ বিদেশি পক্ষগুলো নির্বাচনে ফিলিস্তিনি আরব জনগণের ভোটার উপস্থিতি প্রভাবিত করতে ইসরাইলে অর্থ পাঠিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে নেতানিয়াহুর দল লিকুদ পার্টি। এই সন্দেহের ভিত্তিতে আজ বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) নির্বাচন কমিটির প্রধান সলবার্গ শিন বেত প্রধানকে এ বিষয়ে চিঠি দিয়েছেন।
হারেৎজের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইসরাইলের স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডে যুক্ত বিদেশি পক্ষগুলোর অর্থায়নের মাধ্যমে নির্বাচনে ‘শত্রুতাপূর্ণ’ প্রভাব বিস্তারের গুরুতর সন্দেহের কথা সলবার্গ উল্লেখ করেছেন। জেরুজালেম পোস্ট জানিয়েছে, ইসরাইলের স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত কোনো পক্ষ নির্বাচনে অনুচিতভাবে প্রভাব বিস্তার করেছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে শিন বেতপ্রধান ডেভিড জিনিকে তদন্ত ক্ষমতা প্রয়োগের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
বিদেশি অর্থায়ন ও নির্বাচনে ঘুষ দেওয়ার অভিযোগ তদন্তের নির্দেশনায় সলবার্গ লিখেছেন, ‘নির্বাচনের সময় ইসরাইলের স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত পক্ষগুলোর বিদেশি অর্থায়নের মাধ্যমে অনুচিত প্রভাব বিস্তারের বিষয়ে গুরুতর সন্দেহের কথা আমার সামনে তুলে ধরা হয়েছে।’ তবে অভিযোগগুলোর সত্যতা এখনো প্রমাণিত হয়নি। এর আগে ইসরাইল পুলিশের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা হারেৎজকে জানিয়েছিলেন, এ পর্যন্ত উত্থাপিত অভিযোগগুলোর কোনো ভিত্তি পাওয়া যায়নি।
ইসরাইলের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম কান নিউজ জানিয়েছে, মঙ্গলবারের নির্বাচনের আগেই এ ধরনের কর্মকাণ্ড নিয়ে তদন্ত শুরু করেছিলেন দেশটির নিরাপত্তা কর্মকর্তারা। নিরাপত্তা বিভাগের এক কর্মকর্তা কান নিউজকে বলেন, ‘নির্ভরযোগ্য গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গত দুই সপ্তাহের মধ্যে এ তদন্ত শুরু করা হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা বুঝতে পারছি, কোথাও কিছু একটা ভুল হচ্ছে এবং তথ্যগুলো পুরোপুরি খতিয়ে দেখতে আমরা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছি। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে বিষয়গুলো আরও স্পষ্ট হবে।’ ইসরাইল পুলিশ জানিয়েছে, নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও অখণ্ডতা রক্ষায় তাদের ক্ষমতার মধ্যে থাকা সবকিছুই করা হবে এবং তারা ঠিক সেটিই করবে।
সূত্র: হারেৎজ, জেরুজালেম পোস্ট
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন