ঢাকা শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বিদ্যালয়ের অফিসকক্ষে আপত্তিকর ভিডিও, দুই শিক্ষক বরখাস্ত


বিদ্যালয়ের অফিসকক্ষে আপত্তিকর ভিডিও, দুই শিক্ষক বরখাস্ত

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দুজনের একটি আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার ভোলা বাদশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও এক সহকারী শিক্ষিকাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (চলতি দায়িত্ব) ইশরাত নাসিমা হাবীব। এর আগে গত রোববার পৃথক দুটি আদেশে তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

সাময়িক বরখাস্ত হওয়া শিক্ষকরা হলেন, বেগমগঞ্জের মীরওয়ারিশপুর ইউনিয়নের ভোলা বাদশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এবিএম সাইফুল ইসলাম ও বিদ্যালয়টির সহকারী শিক্ষিকা জেসমিন আক্তার।

বরখাস্তের আদেশে উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্তদের নৈতিক স্খলন এবং তাদের অশালীন ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ায় প্রাথমিক শিক্ষার ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে। এ ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৩৯(১) ধারা অনুযায়ী তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বরখাস্তকালীন বিধি মোতাবেক তারা খোরপোশ ভাতা প্রাপ্য হবেন।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালে ওই দুই শিক্ষকের অনৈতিক সম্পর্কের বিষয়টি জানাজানি হলে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে তদন্ত করা হয়। পরে তাদের নিজ কর্মস্থল ভোলা বাদশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে এবিএম সাইফুল ইসলামকে দূরবর্তী বালুচরা সমাজ কল্যান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও জেসমিন আক্তারকে ডহরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংযুক্তি দেওয়া হয়। যদিও কাগজপত্রে তাদের কর্মস্থল ভোলা বাদশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ২০২৬ সালের আগস্টের শেষের দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের একটি আপত্তিকর ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। এরপর তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে একটি বিভাগীয় মামলাও করা হয়েছে, যা বর্তমানে চলমান রয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি গত বছরের ডিসেম্বর মাসে ধারণ করা হয়েছিল। অভিযোগ রয়েছে, বিদ্যালয় চলাকালে বিদ্যালয়ের অফিসকক্ষেই ওই দুই শিক্ষক অবস্থান করছিলেন। ওই সময় ভিডিওটি ধারণ করা হয়।

এ বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (চলতি দায়িত্ব) ইশরাত নাসিমা হাবীব বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় এবং বিষয়টি প্রাথমিক শিক্ষার ভাবমূর্তিকে ক্ষুণ্ন করায় সরকারি চাকরি আইন অনুযায়ী তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা চলমান রয়েছে। তদন্ত শেষে বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মেধাবীদের হাত ধরেই গড়ে উঠবে আগামীর বাংলাদেশ : শিক্ষামন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ২ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:১২ পি.এম


মেধাবীদের হাত ধরেই গড়ে উঠবে আগামীর বাংলাদেশ : শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, বাংলাদেশ একদিন বিশ্বসভায় একটি নেতৃত্বদানকারী জাতি (লিডিং নেশন) হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে।

তিনি উল্লেখ করেন, ‘আমাদের প্রধান সম্পদ হলো মেধাবী তরুণ সমাজ। তাদের নৈতিকতা, আদর্শ ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে আগামী দিনের বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।’

আজ বুধবার সকালে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট অডিটোরিয়ামে ২০২৫ সালের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশ স্কাউটস-এর স্পেশাল ইভেন্টস বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ৫৮০ জন মেধাবী স্কাউট ও রোভার স্কাউটদের পদক, অভিনন্দন পত্র এবং দুই হাজার টাকা করে অর্থ পুরস্কার প্রদান করা হয়।

শিক্ষামন্ত্রী সংবর্ধিত স্কাউটদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ‘মেধাবীদের সংবর্ধনা দেওয়ার কোনো বিকল্প নেই। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্বনির্ভরতার দর্শন এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শিক্ষা বিস্তারের ধারায় বর্তমান সরকার শিক্ষাক্ষেত্রে বাজেট বৃদ্ধি ও বৈপ্লবিক সংস্কার হাতে নিয়েছে।’

মন্ত্রী স্কাউটিংয়ের পরিধি সম্প্রসারণে সরকারের বিশেষ বরাদ্দের কথা উল্লেখ করে জানান, প্রধানমন্ত্রী কাব, স্কাউট, গার্লস গাইড ও রোভারদের জন্য পৃথক স্কিম এবং অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দের নির্দেশ দিয়েছেন।

ড. মিলন মাদকমুক্ত ও বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে প্রাথমিক স্তর থেকেই নৈতিক শিক্ষার ওপর জোর দেওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, চতুর্থ শ্রেণি থেকেই কারিকুলামে খেলাধুলা, সংস্কৃতি, নৈতিকতা ও মূল্যবোধ এবং ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে কারিগরি শিক্ষা ও আনন্দময় শিখন অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে ২২ লাখ প্রাথমিক শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজন, বিনামূল্যে ড্রেস বিতরণ এবং মিড-ডে মিল চালুর মতো পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হচ্ছে।

শিক্ষা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় স্কাউটিংয়ের ভূমিকার প্রশংসা করে মন্ত্রী বলেন, ‘কোটা সংস্কার আন্দোলন ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শহীদ স্কাউট সদস্যরা যেমন ‘পানি পানি’ করে জনসেবার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে শহীদ হয়েছেন, স্কাউটিং ঠিক তেমনই আত্মত্যাগ ও নেতৃত্ব শেখায়।’

তিনি শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষ ও জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে শিক্ষক-অভিভাবকদের সম্মান এবং সততা বজায় রাখার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তারের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন ও মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও বাংলাদেশ স্কাউটস-এর সভাপতি নাসিমুল গনি।

অনুষ্ঠানে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. এহছানুল হক, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক, কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব জেসমিন নাহার এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রফেসর ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল বক্তব্য রাখেন।

বাংলাদেশ স্কাউটস-এর উপ-প্রধান জাতীয় কমিশনার মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পোরশায় মাদক, বাল্যবিবাহ ও সাইবার ক্রাইম প্রতিরোধে পুলিশ সুপারের সচেতনতামূলক সভা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

পোরশা (নওগাঁ) প্রতিনিধি

বুধবার, ২ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:১৩ পি.এম


পোরশায় মাদক, বাল্যবিবাহ ও সাইবার ক্রাইম প্রতিরোধে পুলিশ সুপারের সচেতনতামূলক সভা

নওগাঁর পোরশায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাদক, বাল্যবিবাহ ও সাইবার ক্রাইম প্রতিরোধে বিশেষ সচেতনতামূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় পোরশা থানা ও জেলা পুলিশের আয়োজনে মুশিদপুর দ্বিমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আল-মামুন সভাপতিত্ব করেন। সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন নওগাঁ জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম। বক্তব্যে তিনি বলেন, “মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে আসতে হবে। পুলিশ সুপার মাদকের ক্ষতিকর দিক তুলে ধরে শিক্ষার্থীদের মাদক থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানান। পাশাপাশি ফেসবুক ও ইন্টারনেট ব্যবহারের ক্ষেত্রে সাইবার অপরাধ থেকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন। একই সঙ্গে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে শিক্ষার্থীদের নিজেদের পাশাপাশি পরিবার ও সমাজের মানুষকে সচেতন করার আহ্বান জানান।অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাপাহার সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার শ্যামলী রানী বর্মন, সহকারী পুলিশ সুপার মোঃ মনিরুজ্জামান এবং পোরশা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জিয়াউর রহমান।এ সময় বক্তারা সাইবার জগতে নিরাপদ থাকার বিভিন্ন কৌশল, মাদকের ভয়াবহতা এবং মাদকমুক্ত সুস্থ জীবনযাপনের গুরুত্ব তুলে ধরে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেন।সভাপতির বক্তব্যে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আল-মামুন শিক্ষার্থীদের জন্য এমন জীবনমুখী ও সচেতনতামূলক উদ্যোগ গ্রহণ করায় পোরশা থানা ও জেলা পুলিশ প্রশাসনের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।অনুষ্ঠানে পোরশা উপজেলা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোঃ শহিদুল ইসলাম এবং কোষাধ্যক্ষ মোঃ তোফাজ্জল হোসেন উপস্থিত ছিলেন।এছাড়া মুশিদপুর দ্বিমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং বিভিন্ন শ্রেণির শিক্ষার্থীরা সচেতনতামূলক এ আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ব্রিটিশ-ইসরাইলি তেল প্রকল্প বন্ধে আর্জেন্টিনায় মামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ২ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:২৪ পি.এম


ব্রিটিশ-ইসরাইলি তেল প্রকল্প বন্ধে আর্জেন্টিনায় মামলা

আর্জেন্টিনার বিভিন্ন সংগঠন মঙ্গলবার আদালতে মামলা করেছে ব্রিটিশ-ইসরাইলি একটি তেল প্রকল্প বন্ধের দাবিতে, যা বিতর্কিত ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের উপকূলের নিকটবর্তী।

ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জকে আর্জেন্টিনা ‘লাস মালভিনাস’ নামে উল্লেখ করে। ১৯৮২ সালে আর্জেন্টিনা দ্বীপপুঞ্জটিকে ব্রিটেনের নিয়ন্ত্রণ থেকে নিজেদের দখলে নেওয়ার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়।

বার্তা সংস্থা এএফপি’র খবর অনুযায়ী, মামলাটি এমন এক সময়ে করা হলো, যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একদিন আগে বলেছেন, ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে ওয়াশিংটনের দীর্ঘদিনের নিরপেক্ষ অবস্থান পুনর্বিবেচনার বিষয়টি তিনি নাকচ করছেন না।

আর্জেন্টিনার ডানপন্থী প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলে মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান, বৃহস্পতিবার রাতে টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে তিনি আর্জেন্টিনার জন্য ‘পবিত্র’ মালভিনাস ইস্যু নিয়ে আলোচনা করবেন।

মিলে প্রশ্ন তোলেন, ‘জাতীয় স্বার্থের জন্য মালভিনাস ইস্যুর চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত আর কী বিষয় হতে পারে?’

ব্রিটিশ কোম্পানি রকহপার এক্সপ্লোরেশন এবং ইসরাইলি কোম্পানি নাভিটাস পেট্রোলিয়াম ‘সি লায়ন’ নামে পরিচিত এই তেলক্ষেত্রকে ঘিরে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করতে চায়।

মামলাকারী যুদ্ধের সাবেক সৈনিক ও পরিবেশবিষয়ক আইনজীবীদের মতে, ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ থেকে প্রায় ২২০ কিলোমিটার দূরে সমুদ্রে বড় আকারের তেল উত্তোলন কার্যক্রম চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

মামলাকারীরা দাবি করেছেন, জাতিসংঘের একটি প্রস্তাবের সঙ্গে এই প্রকল্পের বিরোধ রয়েছে।

প্রস্তাবে বলা হয়েছে, কোনো ভূখণ্ড নিয়ে বিরোধ চলমান থাকলে একতরফাভাবে এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া উচিত নয়, যা বিরোধের পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

যদিও প্রকল্পটি ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রিত এলাকায় বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তবে মামলাকারীরা মনে করছেন, স্থানীয় আদালতের কোনো সিদ্ধান্ত প্রকল্পটির অগ্রগতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।

আইনজীবী এনরিক ভিয়ালে এএফপিকে বলেন, মামলায় আদালতের কাছে আবেদন করা হয়েছে, যাতে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলো ‘কাজ শুরু বা চালিয়ে যাওয়া এবং হাইড্রোকার্বন উত্তোলন ও বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারের কার্যক্রম শুরু’ থেকে বিরত থাকে।

ফকল্যান্ড ইস্যুতে নতুন উত্তেজনা

ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের মালিকানা নিয়ে বিরোধ এখনও আর্জেন্টিনার মানুষের কাছে অত্যন্ত স্পর্শকাতর একটি বিষয়।

গত জুলাইয়ে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল ম্যাচে ২-১ গোলে জয়ের পর আর্জেন্টিনার কয়েকজন ফুটবলার একটি ব্যানার তুলে ধরেন, যাতে লেখা ছিল— ‘লাস মালভিনাস আর্জেন্টিনার।’

এই ঘটনার পর ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর সরকারি দপ্তর ডাউনিং স্ট্রিটের একজন মুখপাত্র পাল্টা মন্তব্য করেন, ‘বিশ্বকাপ হয়তো আমাদের নয়, কিন্তু ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ অবশ্যই আমাদের।’

১৯৮২ সালে আর্জেন্টিনা ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ দখলের চেষ্টা করলে তৎকালীন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী মার্গারেট থ্যাচার দ্বীপপুঞ্জ পুনর্দখলের জন্য একটি নৌবহর পাঠান।

এর জেরে শুরু হওয়া যুদ্ধে ৬৪৯ জন আর্জেন্টাইন, ২৫৫ জন ব্রিটিশ এবং তিনজন দ্বীপবাসী নিহত হন।

সোমবার সাংবাদিকরা ট্রাম্পকে জিজ্ঞেস করেন, যুক্তরাষ্ট্র ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে তার অবস্থান পুনর্বিবেচনা করছে কি না।

জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি সব অবস্থানই পর্যালোচনা করি। এটি সেগুলোর মধ্যে একটি।’

ফকল্যান্ড ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের নিরপেক্ষ অবস্থান পুনর্বিবেচনার বিষয়ে ট্রাম্পের এই মন্তব্যকে স্বাগত জানিয়েছেন আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
১৯৯১-৯২ বিপর্যয়

আধুনিক ফুটবলে বায়ার্ন মিউনিখ যে ১২ মাস ভুলে যেতে চায়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বুধবার, ২ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:২৯ পি.এম


আধুনিক ফুটবলে বায়ার্ন মিউনিখ যে ১২ মাস ভুলে যেতে চায়

জার্মান ফুটবলের রাজকীয় আঙিনায় বায়ার্ন মিউনিখের লাল জার্সির যে দাপট প্রতিনিয়ত দেখা যায়, তার পেছনে রয়েছে এক একচ্ছত্র আধিপত্যের কাহিনী। রেকর্ড বুন্দেসলিগা ট্রফি এবং ইউরোপীয় ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্বের স্মারক বহনকারী এই বাভারিয়ানরা যেন নিখুঁত জয়ের এক অবিরত যন্ত্র।

 

ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ার, জার্ড মুলার, লোথার ম্যাথিউস এবং ফিলিপ লামদের হাত ধরে সাফল্য শব্দটিকে নিজেদের সমার্থক বানিয়ে ফেলা বায়ার্ন মিউনিখের ইতিহাস কিন্তু সম্পূর্ণরূপে রোদেলা নয়। তাদের সমৃদ্ধ ইতিহাসে একটি কালো অধ্যায় বিদ্যমান, যেখানে টানা ১২ মাস ইউরোপের এই জায়ান্ট এক চরম দিশেহারা ও গড়পড়তা দলে রূপান্তরিত হয়েছিল।

অথচ ঐতিহাসিক পতনের জন্য কোনো পূর্বাভাস ছিল না বাভারিয়ানদের আঙিনায়। ১৯৮০-এর দশকে প্রখ্যাত কোচ ইউপ হাইনকেসের জাদুকরী ছোঁয়ায় জার্মানির ফুটবল মসনদে একচ্ছত্র রাজত্ব করছিল বায়ার্ন মিউনিখ।

 

একের পর এক লিগ শিরোপা জয়ের পর ১৯৯০ সালের দলবদলে স্টিফান এফেনবার্গ এবং ব্রায়ান লাউড্রুপের মতো তারকাদের দলে ভিড়িয়ে নিজেদের শক্তি আরো বাড়িয়ে নেয় ক্লাবটি। তরুণ এফেনবার্গ তৎকালীন গণমাধ্যমে দম্ভ করে বলেছিলেন, ‘অন্য দলগুলো বুন্দেসলিগা জেতার জন্য বড্ড বোকা, তাই আমি বাভারিয়ায় এসেছি।’ তবে ফুটবলের সবুজ গালিচা যে কারো দম্ভ সহ্য করে না, তা হাড়েনাতে টের পেতে খুব বেশি সময় লাগেনি বায়ার্নের। ১৯৯১-৯২ মৌসুম আসতেই একের পর এক নাটকীয় বিপর্যয়ে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে বায়ার্নের সেই সাজানো অহংকার।

 

পতনের রথটি আনুষ্ঠানিকভাবে ছুটতে শুরু করে জার্মান কাপের (ডিএফবি-পোখাল) ম্যাচ দিয়ে। অলিম্পিক স্টেডিয়ামের বিশাল গ্যালারির সামনে অনামি ও অপেক্ষাকৃত দুর্বল দল এফসি হোমবার্গের মুখোমুখি হয়েছিল বায়ার্ন। কিন্তু সেদিন বাভারিয়ান সমর্থকদের বাকরুদ্ধ করে দিয়ে অতিরিক্ত সময়ের খেলায় ৪-২ গোলের ঐতিহাসিক জয় তুলে নেয় সফরকারীরা।

ঘরের মাঠে পুঁচকে এক ক্লাবের কাছে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেওয়ার এই ঘা শুকানোর আগেই বিশ্বমঞ্চে আরেক চরম লজ্জার মুখে পড়ে বাভারিয়ানরা। উয়েফা কাপের প্রথম রাউন্ডেই আয়ারল্যান্ডের আধা-পেশাদার দল কর্ক সিটির সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে বসে বায়ার্ন।

 

যে দলের ফুটবলাররা দিনে সাধারণ চাকরি করতেন আর বিকেলে খেলায় নামতেন, তাদের রুখতেই ঘাম ছুটে যায় কোটি টাকার বায়ার্ন তারকাদের। ধারাবাহিক এই ব্যর্থতার ঝড় সামলাতে না পেরে তৎকালীন বায়ার্ন বোর্ড তড়িঘড়ি করে ইউপ হাইনকেসকে ছাঁটাই করে দেয়। তবে সমস্যার সমাধান তো দূরের কথা, হাইনকেসকে বরখাস্ত করার এই আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত পরিস্থিতিকে আরও করুণ করে তোলে। পরবর্তীতে যে ঘটনা নিয়ে আফসোস করে বায়ার্নের বিখ্যাত জেনারেল ম্যানেজার উলি হ্যেনেস অকপটে স্বীকার করেছিলেন, ‘হাইনকেসকে ওই মুহূর্তে বিদায় দেওয়াটাই ছিল আমার পুরো ফুটবল ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় ভুল।’

হাইনকেসের স্থানে তড়িঘড়ি করে ডাগআউটে বসানো হয় সদ্য অবসর নেওয়া ৩২ বছর বয়সী ডেনিশ কিংবদন্তি সোরেন লারবিকে। কিন্তু প্রথমবার কোচিংয়ের চেয়ারে বসা লারবির হাতে তখন এমনকি কোনো অফিসিয়াল কোচিং লাইসেন্সও ছিল না! অভিজ্ঞতা ও যোগ্যতার এই বিশাল ঘাটতি নিয়ে বায়ার্নের মতো পাওয়ারহাউস পরিচালনা করতে গিয়ে চরম বিপাকে পড়েন লারবি।

লারবির হাত ধরে ডেনমার্কের মাটিতে ইতিহাসঘেরা এক মহালজ্জার সাক্ষী হয় বায়ার্ন মিউনিখ। উয়েফা কাপের পরবর্তী পর্বে ডেনিশ ক্লাব ‘বোল্ডক্লুবেন ১৯০৩’-এর বিরুদ্ধে খেলতে গিয়ে বায়ার্ন জালে হজম করে বসে এক ডজন গোলের অর্ধেক! ডেনিশ দলটি বাভারিয়ানদের রক্ষণভাগকে তছনছ করে ৬-২ ব্যবধানে উড়িয়ে দেয়। ইউরোপীয় প্রতিযোগিতার ইতিহাসে বায়ার্নের মতো পরাশক্তির এই ধস ছিল এক অভাবনীয় ট্র্যাজেডি। দ্বিতীয় লেগে ঘুরে দাঁড়ানোর কোনো সুযোগ না পেয়ে টুর্নামেন্ট থেকে অপমানজনক বিদায় নিতে হয় তাদের।

ইউরোপীয় ফুটবলের আঙিনা থেকে লজ্জাজনক বিদায়ের পর দেশের লিগেও ধস থামানো যাচ্ছিল না। ২০ দলের বুন্দেসলিগায় বায়ার্ন টেবিলের ১৪ নম্বরে নেমে যায়—যা ছিল রেলিগেশন জোন থেকে মাত্র কয়েক ধাপ ওপরে! পতন ঠেকানোর চরম আকুতিতে মৌসুমের মাঝামাঝি সময়ে লারবিকেও বরখাস্ত করা হয় এবং অভিজ্ঞ কোচ এরিখ রিবাক এসে কোনোমতে পতন সামলে দলকে ১০ নম্বর স্থানে রেখে মৌসুম শেষ করেন। সে মৌসুমে বায়ার্নের জয়ের চেয়ে হারের পাল্লা ছিল ভারী, ঘরের মাঠেই তারা হেরেছিল ৭টি ম্যাচ এবং পুরো মৌসুমে তাদের গোল ব্যবধান দাঁড়িয়েছিল ঋণাত্মক (-২)।

পরবর্তী মৌসুমে অবশ্য মেহমেত শল, থমাস হেলমার এবং ঘরের ছেলে লোথার ম্যাথিউসকে ফেরত এনে মোটা অঙ্কের দলবদলে নিজেদের আবারও পুনর্গঠন করেছিল বায়ার্ন মিউনিখ। বাভারিয়ানরা খুব দ্রুতই তাদের হারিয়ে যাওয়া রাজসিংহাসন উদ্ধার করে ফুটবলের রাজত্ব কায়েম করেছিল ঠিকই, কিন্তু ১৯৯১-৯২ মৌসুমটি ইতিহাসের পাতায় আজ অবধি বড় এক সতর্কবার্তা হয়ে রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৪
মাগরিব ০৫:২১
ইশা ০৬:৩৩
সূর্যোদয় : ০৬:০৩ সূর্যাস্ত : ০৫:২১
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%