প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শিক্ষকের সন্তান এবং স্কুলছাত্র ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) হত্যার পেছনে আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার লোভ ছিল। এই হত্যাকাণ্ড, যা দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে, ঘটনার ৩১ দিনের মধ্যে পুলিশ মামলার তদন্ত শেষ করে আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করেছে।
গত মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ১ নম্বর আমলি আদালতের বিচারক আবিদা সুলতানা মলির আদালতে এই চার্জশিট জমা দেওয়া হয়। আজ শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দুপুরে কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া কর্মকর্তা) মো. লুৎফর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দণ্ডবিধির ৩০২, ২০১ ও ৩৪ ধারায় দায়ের করা এই চার্জশিটে চারজনের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেছে। অভিযুক্তদের মধ্যে সাইফুল ইসলাম তুহিন, মোজাফ্ফর হোসেন ফাহাদ ও কামরুল হাসান হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ নেয় এবং অপর অভিযুক্ত সিয়াম পুরো ঘটনার পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িত ছিল। বর্তমানে আসামিরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে রয়েছে। দুইজনকে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং বাকি দুইজন অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় শিশু আইন অনুযায়ী তাদের গাজীপুর শিশু শোধনাগারে রাখা হয়েছে। ইতোমধ্যে সিয়াম ছাড়া বাকি তিনজন আদালতে নিজেদের দোষ স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।
গত ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে কোটবাড়ি এলাকার বাসা থেকে মায়ের আইফোনটি নিয়ে ছবি তোলার কথা বলে বের হয় বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের ৭ম শ্রেণির ছাত্র অপ্রতিম। এরপর মূল পরিকল্পনাকারী তুহিন কৌশলে অপ্রতিমকে লালমাই পাহাড়সংলগ্ন সানন্দা এলাকার একটি নির্জন বনে নিয়ে যায়। সেখানে মোবাইল ফোনটি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে অপ্রতিম বাধা দেয়। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে তুহিন, ফাহাদ ও কামরুল বাঁশের লাঠি দিয়ে অপ্রতিমের মাথায় সজোরে আঘাত করে। তার মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর আইফোনটি নিয়ে খুনিরা পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে তুহিনকে আটক করা হয় এবং তার বাসা থেকেই অপ্রতিমের ফোনটি উদ্ধার করা হয়।
তদন্তের দ্রুত সমাপ্তিতে সন্তোষ প্রকাশ করলেও খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন অপ্রতিমের পরিবার। নিহত অপ্রতিমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার বলেন, "পুলিশ দ্রুত চার্জশিট দেওয়ায় আমরা আশাবাদী। এখন আমাদের একমাত্র চাওয়া বিচার প্রক্রিয়া যেন দ্রুত শেষ হয় এবং আসামিরা যেন বয়সের ফারাকে আইনি ফাঁকফোকর দিয়ে বেরিয়ে যেতে না পারে। আমার একমাত্র সন্তানকে যারা এভাবে কেড়ে নিয়েছে, আদালত যেন তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করে।"
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন