প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দেশের তরুণ প্রজন্ম, ফ্রিল্যান্সার এবং ডিজিটাল কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে একটি ঐতিহাসিক ঘোষণা আসতে পারে। প্রযুক্তি খাতের বিকাশ, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং তরুণ উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করার জন্য, সব ধরনের ফ্রিল্যান্সিং ও কনটেন্ট ক্রিয়েশন থেকে প্রাপ্ত আয়কে সম্পূর্ণ আয়কর মুক্ত করার প্রস্তাব করা হতে পারে।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সরকারের উদ্দেশ্য দেশের নতুন প্রজন্ম ও ডিজিটাল অর্থনীতির চাকা সচল রাখা। এজন্য বিশাল এই ছাড়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
ফ্রিল্যান্সিং ও কনটেন্ট ক্রিয়েশনের ক্ষেত্রে ট্যাক্স একবারে 'শূন্য' হতে পারে। এতদিন ফ্রিল্যান্সিং বা মেধাভিত্তিক আইটি খাতের কিছু ক্ষেত্রে জটিলতা থাকলেও, এবারের বাজেটে স্পষ্টভাবে তরুণদের ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার ও সোশ্যাল মিডিয়া কনটেন্ট ক্রিয়েশনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে বলে জানা যাচ্ছে।
বাজেটের সম্ভাব্য প্রস্তাবনা অনুযায়ী, সকল প্রকার ফ্রিল্যান্সিং হতে অর্জিত আয় সম্পূর্ণ করমুক্ত থাকবে। এছাড়া, ইউটিউব, ফেসবুক বা অন্য যেকোনো প্ল্যাটফর্মে সব ধরনের কনটেন্ট ক্রিয়েশন থেকে অর্জিত আয়ও সম্পূর্ণ করমুক্ত রাখার প্রস্তাব করা হতে পারে। এর ফলে, দেশের লাখ লাখ ফ্রিল্যান্সার, ইউটিউবার এবং ইনফ্লুয়েন্সাররা তাদের কষ্টার্জিত আয়ের ওপর শতভাগ করমুক্ত সুবিধা উপভোগ করতে সক্ষম হবেন।
কেবল ব্যক্তিকেন্দ্রিক ফ্রিল্যান্সিং-ই নয়, নতুন আইডিয়া নিয়ে আইটি বা প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবসা শুরু করতে যাচ্ছেন এমন উদ্যোক্তাদের জন্যও রয়েছে বড় চমক। নতুন স্টার্টআপ, উদ্ভাবনী উদ্যোগ ও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবসার ক্ষেত্রে টার্নওভার ট্যাক্স বা ব্যবসায়িক লেনদেনের ওপর কর হার ০% (শূন্য শতাংশ) করার প্রস্তাব দেওয়া হতে পারে।
প্রযুক্তি ও ক্ষুদ্র ব্যবসায় নারীদের অংশগ্রহণ আরও বৃদ্ধির জন্য বাজেটে বিশেষ ছাড় দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সাধারণ ক্ষুদ্র ও মাঝারি (এসএমই) উদ্যোক্তাদের ক্ষেত্রে ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত টার্নওভারের আয় করমুক্ত রাখা হলেও, নারী ও প্রতিবন্ধী উদ্যোক্তাদের জন্য এই সীমা বাড়িয়ে ৭০ লাখ টাকা করার একটি প্রস্তাব রয়েছে। অর্থাৎ, যদি এটি কার্যকর হয়, তখন ৭০ লাখ টাকা পর্যন্ত টার্নওভার হলে নারী ও প্রতিবন্ধী উদ্যোক্তাদের কোনো আয়কর দিতে হবে না।
ঢাকার বাইরে নতুন আইটি ও টেক শিল্পে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার কেউ থাকতে পারে। তরুণদের কর্মসংস্থান ঢাকার বাইরে ছড়িয়ে দিতে ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এলাকার বাইরে যেকোনো উৎপাদনমুখী শিল্প, প্রযুক্তি বা পর্যটন খাতের স্থাপনা ও যন্ত্রপাতির বিনিয়োগের ওপর বিশেষ অবচয় সুবিধা প্রদান করা হতে পারে। এর ফলে বিনিয়োগকারীরা প্রথম বছরে ৬০% এবং দ্বিতীয় বছরে ৪০% হারে ত্বরান্বিত অবচয় সুবিধা পাবেন, যা তরুণদের নতুন আইটি পার্ক বা টেক ফার্ম তৈরিতে উদ্বুদ্ধ করবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন