প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খান জামায়াতে ইসলামী সম্পর্কে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, জামায়াত একটি হঠকারী রাজনৈতিক দল, যা সবসময় সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগে। একাত্তরেও জামায়াতে ইসলামী ছিল সিদ্ধান্তহীনতায়। জনগণের পক্ষে অবস্থান নেবে নাকি পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর পক্ষে? একাত্তরে জামায়াতের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে ভুল ছিল। পরবর্তীতে প্রতিটি ক্ষেত্রেই জামায়াত সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগেছে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকালে ঝিনাইদহ শিশু কুঞ্জু স্কুল অ্যান্ড কলেজে নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগদান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, জামায়াতের সঙ্গে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কোনো রাজনৈতিক সম্পর্ক নেই। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ শরীয়াহ আইন প্রতিষ্ঠার রাজনীতি করে, যেখানে জামায়াতে ইসলামী মুখে শরীয়াহ আইন প্রতিষ্ঠার কথা বললেও তারা আসলে মুনাফেকি রাজনীতি করে।
রাশেদ খান বলেন, দুইটি ইসলামিক দলের মধ্যে পার্থক্য বিদ্যমান। জামায়াতের সঙ্গে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মতাদর্শিক পার্থক্যের কারণে তারা একসঙ্গে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারেনি। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নেতারা যে বিষয়টি বলেছেন, তাদের বলা হয়েছিল সব ইসলামিক ভোট একটি বাক্সে যাবে; কিন্তু পরবর্তীতে তাদের চরিত্র পরিবর্তন হয়েছে, যা ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের বিপরীত মন্তব্যের সাথে সম্পর্কিত।
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী আরও বলেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সম্মানিত আমির সাহেব আসলে একটি রাজনৈতিক সমালোচনা করেছেন এবং তার এই সমালোচনাকে তিনি সাধুবাদ জানান। একইভাবে জামায়াতে ইসলামী যদি সরকারের যৌক্তিক সমালোচনা করত, তবে সেটিকেও সাধুবাদ জানানো হতো। জামায়াত একদিকে জাতীয় সংসদে বলছে জ্বালানি সংকট একটি জাতীয় সংকট এবং সরকার আন্তরিকতার সঙ্গে এই সংকট সমাধানে কাজ করছে, অন্যদিকে তারা লংমার্চ করছে। জামায়াতের দ্বিচারিতা নিয়ে জনগণের প্রশ্ন রয়েছে। এই লংমার্চের আসল উদ্দেশ্য কী? কেন মাত্র সাত মাসের সরকারের বিরুদ্ধে এভাবে চরম কর্মসূচি?
তেলের মূল্য বৃদ্ধির প্রসঙ্গে রাশেদ বলেন, বাংলাদেশের আশপাশের রাষ্ট্রগুলোতে যদি ডিজেলসহ অন্যান্য তেলের দাম বেড়ে যায়, তাহলে বাংলাদেশ যদি আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে দাম সমন্বয় না করে, তাহলে প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোতে বাংলাদেশ থেকে জ্বালানি তেল পাচারের আশঙ্কা থাকে। সেই কারণে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। কিন্তু এই জ্বালানি সংকটের মধ্যে ১ হাজার গাড়ি নিয়ে রংপুরে যাওয়ার অর্থ কী? এর মানে হচ্ছে, এই জ্বালানি সংকটকে আরও ঘনীভূত করা। নতুন কূপ খনন, গ্যাসের সন্ধান এবং নতুন টার্মিনালের কাজ শুরু হয়েছে।
আগের তুলনায় লোডশেডিং এখন কম। দিন যত যাবে, জ্বালানি সংকট তত কমে আসবে বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খান।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন