প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে গভীর রাতে ডাকাতের হামলায় রিগান আক্তার মিম নামে এক গৃহবধূ নিহত হয়েছেন। এ সময় একই পরিবারের আরেক গৃহবধূ সুমাইয়া আক্তার (২৪) আহত হয়েছেন।
এই ঘটনা বুধবার (১৫ জুলাই) ভোর রাতে শাহরাস্তি পৌরসভার বাত্তলা গ্রামের বেপারী বাড়িতে ঘটে। নিহত রিগান আক্তার মিম (২৬) ওই গ্রামের মৃত সেলিম বেপারীর পুত্রবধূ হিসেবে পরিচিত। তাঁর দুটি সন্তান রয়েছে; আড়াই বছর বয়সী কন্যা সাইফা ও চার মাস বয়সী ছেলে সিরাজ। তাঁর স্বামী রনি ঢাকায় চাকরি করেন। ফ্ল্যাটের ঘটনার সময় বাড়িতে অন্তত দুই গৃহবধূ, পরিবারের প্রবীণ সদস্য নুরুল ইসলাম এবং তিনটি শিশু ছিল।
আহত গৃহবধূ সুমাইয়া আক্তার জানান, রাত ১২টার পর তিনি তিন মাস বয়সী সন্তান নিয়ে নিজ কক্ষে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। গভীর রাতে দালানের জানালা ভেঙে ভেতরে ঢুকে দুই ব্যক্তি মুখ বাঁধা অবস্থায় তাকে ও তার শিশুকে ছুরির মুখে জিম্মি করে ঘরে থাকা স্বর্ণালংকার ও মূল্যবান জিনিসপত্র দিতে বলে। তিনি আলমারিতে থাকা জিনিসপত্র নিয়ে যেতে বললে ডাকাতরা তার ওড়না দিয়ে হাত বেঁধে ফেলে। এরপরেই হাতুড়ি দিয়ে তার মাথায় দুই দফা আঘাত করে। পরে ডাকাতরা তার কানের দুল, আলমিরা থেকে আরেক জোড়া দুল ও একটি আংটি নিয়ে যায়। এক পর্যায়ে তারা পাশের কক্ষে প্রবেশ করতে শুরু করে।
তিনি আরো জানিয়েছেন, পাশের কক্ষ থেকে বড় জায়ের কান্নার শব্দ শুনতে পেলেও বাঁধা অবস্থায় তাকে সাহায্য করতে পারেননি। পরিবারের প্রবীণ সদস্য নুরুল ইসলাম জানান, তিনি রাতে বাড়ির লোহার গেটে তালা লাগিয়ে চাবি টেবিলের ওপর রেখে ঘুমিয়ে পড়েন। চিৎকার শুনে জেগে উঠে গেট খুলতে গিয়ে দেখেন গেটটি ভেতর থেকে আটকানো থাকলেও তালাটি নেই। পরে বাড়ির বাইরে অক্ষত অবস্থায় তালাটি পাওয়া যায়।
প্রতিবেশী আনোয়ার হোসেন জানিয়েছেন, মিমের ঘর থেকে আর্তচিৎকার শুনে তিনি ঘটনাস্থলে ছুটে যান। ঘরের ভেতর ধস্তাধস্তির শব্দ শুনে জানালায় ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া পাননি। ডাকাতির সন্দেহ হলে তিনি কয়েকজন প্রতিবেশীকে খবর দেন। পরে মসজিদের মাইকে ডাকাত পড়ার ঘোষণা দেওয়া হয়। স্থানীয়রা বাড়িটি ঘিরে পূর্ব পাশের একটি জানালার কপাট খোলা দেখতে পান। ভেতরে তাকিয়ে মিমকে মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখা যায়। চেয়ারম্যান (দাদা শ্বশুর) গেট খুলে দিলে তারা ঘরে প্রবেশ করেন এবং ছোট গৃহবধূকে বাঁধা অবস্থায় কান্নারত দেখতে পান। পরে অপর কক্ষে গিয়ে মিমকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। তার গলায় ওড়না পেঁচানো ছিল। স্থানীয়রা ওড়না খুলে তাকে জাগানোর চেষ্টা করলেও কোনো সাড়া মেলেনি। খবর পেয়ে চিকিৎসক এসে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে খবর পেয়ে নিহতের বাবা-মা এবং অন্যান্য স্বজনরা ঘটনাস্থলে এসে উপস্থিত হন। দুই শিশু সন্তানকে বুকে জড়িয়ে তাদের আহাজারিতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।
ডাকাতি এবং হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এই প্রক্রিয়ায় পুলিশ আলামত সংগ্রহ ও মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।
শাহরাস্তি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান বলেন, 'ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করছে।'
পুলিশের সংশ্লিষ্ট সার্কেলের জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার আব্দুল হাই চৌধুরী বলেন, 'ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। জড়িতদের চিহ্নিত করে তাদের দ্রুত গ্রেপ্তারের পর আইনের আওতায় নেওয়া হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন