প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) চারটি আবাসিক হলকে কেন্দ্র করে ধারাবাহিক সংঘর্ষ, হামলা, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ভাঙচুরের ঘটনার কারণে ৪২ শিক্ষার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শোকজ করেছে। শোকজ করা শিক্ষার্থীদের আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে আত্মপক্ষ সমর্থন করে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে।
রোববার (৯ আগস্ট) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল আলীম। তিনি জানিয়েছেন, চারটি হলের ঘটনায় মোট ৪২ জন শিক্ষার্থীকে শোকজ করা হয়েছে। আগামী ১১ আগস্টের মধ্যে তাদের আত্মপক্ষ সমর্থন করে লিখিত জবাব দিতে হতে হবে।
প্রক্টর আরও বলেন, চারটি হল থেকে পাওয়া লিখিত অভিযোগ এবং ঘটনাস্থলে দায়িত্ব পালনকালে প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যদের পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে প্রাথমিকভাবে শিক্ষার্থীদের শোকজ করা হয়েছে। এখন তাদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ঘটনার তদন্তে গঠিত দুটি কমিটিও কাজ করছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, শোকজ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের মধ্যে কেউ যদি নির্দোষ প্রমাণিত হন, তাহলে তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজন পড়বে না। তবে, তদন্তে যদি কেউ সংঘর্ষ বা ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িত বলে প্রমাণিত হয়, তাহলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন এখনও প্রশাসনের কাছে জমা পড়েনি। প্রতিবেদনটি পাওয়ার পর বিষয়টি আরও বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করা হবে।
ঘটনার সূত্রপাত ঘটেছিল ২৩ ও ২৪ জুলাই, যেখানে ব্যক্তিগত বিরোধের কারণে আশরাফুল হক ও শহীদ শামসুল হক হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ১৩ জন আহত হন। এরপর ১ আগস্ট মেসেঞ্জার গ্রুপে কথাকাটাকাটির ফলে সোহরাওয়ার্দী ও ভাসানী হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষে আরও পাঁচজন আহত হন। সর্বশেষ ২ আগস্ট রাতে, চারটি হলের শিক্ষার্থীরা পৃথক সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।
এসব ঘটনায় ধারাবাহিকভাবে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ভাঙচুরের পাশাপাশি হলের গেট, জানালার কাচ, সিসিটিভি ক্যামেরা এবং বৈদ্যুতিক বাতি সহ বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই ধারাবাহিক ঘটনার পর দায়ীদের শনাক্ত এবং সংঘর্ষের কারণ উদঘাটনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন ও শোকজের জবাব পর্যালোচনা করে দায়ীদের বিরুদ্ধে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন