প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেছেন, জনগণের প্রতি বর্তমান সংসদের প্রত্যাশা অনেক বেশি। বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের ৩৬ কোটি চোখ জাতীয় সংসদের কার্যক্রমের ওপর নিবদ্ধ হয়ে আছে।
মানুষ চায় সংসদ সদস্যরা জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করার জন্য জ্ঞানগর্ভ আলোচনা ও গঠনমূলক সমালোচনা এবং যুক্তি-তর্কের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করুক।
তিনি বর্তমান সংসদকে ‘মজলুমের সংসদ’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এই সংসদের অধিকাংশ সদস্য অতীতে কষ্টের শিকার হয়েছেন যেমন ফাঁসির মঞ্চ, গুম, নির্যাতন, নির্বাসন কিংবা জেল-জুলুম। ৩৫০ জন সংসদ সদস্যের মধ্যে প্রায় ৯৯ শতাংশই এই অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছেন। তাই এটি শুধু বাংলাদেশের নয়, বিশ্বের ইতিহাসেও ব্যতিক্রমধর্মী একটি সংসদ।
সম্প্রতি বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, জনগণের প্রতিনিধিত্ব করছে এই সংসদ এবং ১৮ কোটি মানুষের ৩৬ কোটি চোখ এই সংসদের কার্যক্রমের দিকে তাকিয়ে আছে। নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা জ্ঞানগর্ভ আলোচনার মাধ্যমে মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করবেন।
তিনি বলেন, সংসদে আমাদের ভূমিকা সর্বদা ন্যায়বিচার ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করা। যতদিন পর্যন্ত এই সংসদ পরিচালনার সুযোগ থাকবে, ততদিন আমি ন্যায়পরায়ণতা ও সর্বোচ্চ নিরপেক্ষতা বজায় রাখার জন্য সচেষ্ট থাকব।
ভারপ্রাপ্ত স্পিকার আরও বলেন, গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার জন্য সরকারের পাশাপাশি বিরোধী দলকেও দায়িত্ব নেওয়া উচিত। আমাদের পূর্বপুরুষরা স্বাধীনতার জন্য জীবন দিয়েছেন, তাই সকলের উচিত একত্রে সেই গণতান্ত্রিক অভিযাত্রাকে প্রাতিষ্ঠানিক করতে চেষ্টা করা।
তিনি বলেন, দেশের সকল বিষয়ের কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছে এই মহান জাতীয় সংসদ। এক্ষেত্রে বিচার বিভাগ, আইন বিভাগ এবং নির্বাহী বিভাগের মধ্যে সহযোগিতা প্রয়োজন। আইন পাস করে নির্বাহী বিভাগ আইন প্রয়োগ করে এবং বিচার বিভাগ সেই আইনকে পরীক্ষা করে।
ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, আমি মনে করি বাংলাদেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ও রাজনৈতিক চর্চার ক্ষেত্রে জাতীয় সংসদ কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে কাজ করা উচিত। সরকারি দল এবং বিরোধী দল উভয়ই গঠনমূলক সমালোচনার সুযোগ পাচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, গণতন্ত্রের সৌন্দর্য হলো দুইটি পক্ষ থাকবে এবং তারা একে অপরের গঠনমূলক সমালোচনা করবে। বিভিন্ন দেশের সংসদের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেখানে সব বিষয়ই আলোচনা ও সমালোচনার মাধ্যমে নির্ধারিত হয়।
ভারপ্রাপ্ত স্পিকার আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, জাতীয় সংসদ দেশের বর্তমান ও ভবিষ্যতের কেন্দ্রবিন্দু হবে এবং শহীদ ও আহতদের প্রত্যাশা পূরণ হবে।
তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল মানবাধিকার, সাম্য ও মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে, কিন্তু স্বাধীন হওয়ার পর জনগণ প্রতারিত হয়েছে।
১৯৭৫ সালে বাকশাল প্রতিষ্ঠিত হওয়া ও গণতন্ত্রের অবক্ষয়ের ইতিহাস তুলে ধরে তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তন করেন। এরপর আওয়ামী লীগ ও বিএনপি গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, ওয়ান ইলেভেনের পর ২০০৮ সালে প্রশ্নবোধক একটি নির্বাচন হয়, এবং পরবর্তীতে একতরফা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ফ্যাসিস্ট সরকার শেষ হয়ে যায় এবং ২০২৬ সালে একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
এই নির্বাচন ইতিহাসে জনগণের অংশগ্রহণের দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ একটি নির্বাচন ছিল। গণতন্ত্রের নতুন অভিযাত্রা শুরু হয়েছে এবং এই অভিযাত্রার কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছে এই মহান জাতীয় সংসদ।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন