প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ফ্রান্সে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির বিরুদ্ধে বিক্ষোভের ফলে দাঙ্গা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ছড়িয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। তিনি ঘোষণা করেছেন, আগামী কয়েক দিন ‘অবৈধ’ বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করা হবে। একইসঙ্গে, সরকার দেশজুড়ে নতুন বিক্ষোভের মোকাবিলায় নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করছে।
ম্যাক্রোঁ
বৃহস্পতিবার গোয়েন্দাপ্রধান ও জ্যেষ্ঠ মন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক শেষে ম্যাক্রোঁ জানিয়েছেন, স্বীকৃত সংগঠনগুলোর আয়োজনে বিক্ষোভের অনুমতি দেওয়া হবে। তবে, প্রয়োজন হলে বিক্ষোভের নির্ধারিত পথ পরিবর্তন করা হতে পারে। অন্যদিকে, ‘বৈধ কর্তৃত্ব নেই’ এমন ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর আয়োজনে বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করা হবে। ট্রেড ইউনিয়নের মতো সংগঠনগুলোর আবেদনের বিষয়টি আইন অনুযায়ী খতিয়ে দেখা হবে, তবে তাদেরও বিকল্প পথ ব্যবহার করতে হতে পারে।
তিনি উল্লেখ করেছেন, শহরের কেন্দ্রীয় এলাকা, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি ভবন রক্ষায় এসব ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। তিনি আগামী কয়েক দিন বিক্ষোভ না করার পরামর্শও দেন।
ম্যাক্রোঁ গত সপ্তাহান্তের অস্থিরতা ও লুটপাটের জন্য মূলত দাঙ্গাবাজদের দায়ী করেছেন, যারা কেবল লুটপাটের উদ্দেশ্যে এসেছিল। তিনি আরও বলেন, সহিংসতার সবচেয়ে ভয়াবহ অংশের পেছনে ছিল চরম বামপন্থী গোষ্ঠীগুলোর রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড, যাদের লক্ষ্য ছিল প্রজাতন্ত্রকে অস্থিতিশীল করে তোলা।
ম্যাক্রোঁ বলেন, পরিস্থিতি শান্ত করা এখন প্রধান অগ্রাধিকার। শনিবার ও পরবর্তী সময়ে দেশজুড়ে নতুন বিক্ষোভের ঘোষণা আসায় পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণের জন্য শুক্রবার প্রতিরক্ষা পরিষদের বৈঠকে বসবেন তিনি।
গত সপ্তাহে চলা বিক্ষোভ এবং দাঙ্গায় ফ্রান্সের তৃতীয় বৃহত্তম শহর লিওঁতে ২০০ থেকে ৩০০টি দোকানে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়। শহরটির পর্যটন কার্যালয়েও আগুন দেওয়া হয়। এই পরিস্থিতিতে শনিবার শহরের কেন্দ্রীয় এলাকায় সব ধরনের বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করেছে কর্তৃপক্ষ। মার্সেই, নিস ও তুলন শহরেও একই ধরনের নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
প্যারিসে শনিবারের একটি মিছিলের অনুমতি দেওয়া হলেও সেটিকে শহরের কেন্দ্রের দিকে যেতে দেওয়া হবে না। তবে শিক্ষার্থী ও ‘ইয়েলো ভেস্ট’ আন্দোলনের কয়েকজন সদস্যের পরিকল্পিত পৃথক মিছিল নিষিদ্ধ করেছে কর্তৃপক্ষ। ২০১৮ ও ২০১৯ সালে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে এই আন্দোলন ফ্রান্সজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভের জন্ম দিয়েছিল।
দেশটির বিচারমন্ত্রী জেরাল্ড দারমানাঁ জানিয়েছেন, গত সপ্তাহান্তে দাঙ্গা শুরুর পর থেকে আড়াই হাজার ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ১৭৪ জনকে বিচারিক হেফাজতে রাখা হয়েছে এবং ৯০০ জনের বেশি ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিচারপ্রক্রিয়া চলছে। লিমোজ শহরের পৌর ভবনে আগুন দেওয়ার ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এদিকে, প্যারিসসহ কয়েকটি শহরের কিছু এলাকায় রাতের বেলায় আংশিক কারফিউ জারি করা হয়েছে। প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবন এলিসি প্রাসাদ, পার্লামেন্ট ও প্রধান রেলস্টেশনগুলোর আশপাশেও সমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
গত মাসে প্যারিসের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় ক্রেতেই শহরের একটি উচ্চবিদ্যালয়ে শিক্ষক-কর্মচারীর সংকট ও জরাজীর্ণ ভবনের প্রতিবাদে আন্দোলন শুরু হয়। পরে তা দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। ছয় মাস পর অনুষ্ঠেয় ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদও এই আন্দোলনের অন্যতম প্রধান ইস্যু হয়ে উঠেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন