প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দীর্ঘ সময় ধরে সৌদি আরবে মার্কিন দূতাবাস চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সের মাধ্যমে পরিচালিত হওয়ার পর, অবশেষে নতুন রাষ্ট্রদূত মনোনীত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি টেক্সাসের রিপাবলিকান প্রতিনিধি ও সাবেক সেনাকর্তা ওয়েসলি হান্টকে সৌদি আরবে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন রাষ্ট্রদূত হিসেবে মনোনীত করেছেন।
এই মনোনয়ন যুক্তরাষ্ট্র-সৌদি সম্পর্কের একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল সময়ে এসেছে। বিশেষ করে ইরান যুদ্ধ এবং ইয়েমেনসহ গোটা অঞ্চলে চলমান চরম উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে হান্টের এই মনোনয়ন বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। রিয়াদে দায়িত্ব গ্রহণের আগে মার্কিন সিনেটের অনুমোদন প্রয়োজন হবে।
মাইকেল র্যাটনির স্থলাভিষিক্ত হবেন আফ্রিকান-আমেরিকান ঐতিহ্যের এই কূটনীতিক। প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের মেয়াদে দুই দেশের সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্যেও মাইকেল র্যাটনি রিয়াদে বিশেষ কাজের ছাপ রেখে গেছেন। তার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও তিনি সৌদি ও মার্কিন গণমাধ্যম ও থিঙ্কট্যাঙ্কের মাধ্যমে রিয়াদকেন্দ্রিক আলোচনায় সক্রিয় রয়েছেন।
সৌদি আরবে থাকার অভিজ্ঞতা নিয়ে হান্ট বিভিন্ন সময়ে ইসলাম ও মুসলিমদের সম্পর্কে কঠোর মন্তব্য করেছেন।
‘শক্তির মাধ্যমে শান্তি’
ওয়েসলি হান্টের সামরিক পটভূমি এবং রিয়াদে পূর্ববর্তী কাজের অভিজ্ঞতা দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্কের নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। সামরিক পটভূমি ও এ অঞ্চলে কাজের অভিজ্ঞতা থাকা মার্কিন কর্মকর্তাদের আরব ও উপসাগরীয় সমাজ ব্যবস্থা সম্পর্কে জানাশোনা অন্যান্য কূটনীতিকদের তুলনায় বেশি থাকে। তবে সব সময় এমনটি ঘটে না। উদাহরণস্বরূপ, কেনীয় বংশোদ্ভূত বারাক ওবামা প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর এ অঞ্চলে তার নীতি অনেককে হতাশ করেছিল।
নিজের মনোনয়ন নিয়ে হান্ট বলেন, "এটি তার জীবনের সবচেয়ে বড় সম্মান।" সাবেক সেনাকর্তা ইরাক এবং সৌদি আরবে কূটনৈতিক লিয়াজোঁ অফিসার হিসেবে দুবছরের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে বলেন, "এই অভিজ্ঞতা ওয়াশিংটন ও রিয়াদের মধ্যকার কৌশলগত অংশীদারিত্বের গুরুত্ব বুঝতে আমাকে সরাসরি সাহায্য করেছে।"
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে হান্ট জানান, সিনেটের অনুমোদন পেলে তার মূল লক্ষ্য হবে দুই দেশের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্বার্থ জোরদার করা, জ্বালানি সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং যৌথভাবে শত্রুদের মোকাবিলা করা। তিনি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ‘শক্তির মাধ্যমে শান্তি’ দর্শনের অংশ হিসেবেই এ দায়িত্ব পালন করবেন।
সামরিক পরিবারের সন্তান হান্ট ২০০৪ সালে বিখ্যাত ওয়েস্ট পয়েন্ট মার্কিন মিলিটারি একাডেমি থেকে পড়াশোনা শেষ করেন। মার্কিন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এরপর তিনি আট বছর মার্কিন সেনাবাহিনীতে অ্যাপাচি হেলিকপ্টার পাইলট হিসেবে সেবা দেন এবং ইরাকে ৫৫টি যুদ্ধ অভিযানে অংশ নেন।
কঠিন সময়ে ট্রাম্পের অনুগত
অন্য পেশাদার কিংবা রাজনৈতিক রাষ্ট্রদূতদের তুলনায় হান্টের ব্যাকগ্রাউন্ড কিছুটা আলাদা হলেও রাজনীতিতে তার সুনির্দিষ্ট অবস্থান রয়েছে। কংগ্রেসে তিনি ট্রাম্পের অন্যতম অনুগত হিসেবে পরিচিত। তিনি ট্রাম্পের পুনর্নির্বাচনে সমর্থন দেন এবং ২০২৪ সালের নির্বাচনে প্রচারণায় সক্রিয় ছিলেন। চলতি বছরের শুরুতে তিনি টেক্সাস থেকে সিনেট আসনের জন্য রিপাবলিকান প্রাইমারিতে লড়াই করে ১৩ দশমিক ৫ শতাংশ ভোট পেয়ে তৃতীয় হন। নির্বাচনে হেরে যাওয়ার পর তিনি প্রতিনিধি পরিষদে আর না লড়ার ঘোষণা দেন।
এই কারণে মার্কিন গণমাধ্যম তার মনোনয়নকে সাধারণ কূটনৈতিক নিয়োগ হিসেবে দেখছে না। ‘টেক্সাস ট্রাইবিউন’ ট্রাম্পের সঙ্গে তার রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতার কথা উল্লেখ করেছে, আবার ‘জুয়িশ ইনসাইডার’ মনে করছে, সিনেটে দ্রুত এই মনোনয়নের অনুমোদন পাওয়া বেশ চ্যালেঞ্জিং হতে পারে।
আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে সিনেটের হাতে সময় সীমিত, অন্যদিকে আরও বেশ কিছু মনোনয়ন ঝুলে রয়েছে। ফলে হান্ট কবে নাগাদ রিয়াদে পৌঁছাবেন তা নিশ্চিত নয়।
ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের পুরোটা সময় এই পদটি ফাঁকা থাকায় বিষয়টি নিয়ে জোরালো আলোচনা চলছে। ক্যারিয়ার কূটনীতিক মাইকেল ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দায়িত্ব ছাড়ার পর থেকে চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স দিয়েই রিয়াদে মার্কিন দূতাবাস পরিচালিত হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি আরবে মার্কিন রাষ্ট্রদূত পদে বিলম্ব নতুন কিছু নয়। তবে মার্কিন নীতিতে রিয়াদের গুরুত্ব এবং বর্তমান আঞ্চলিক অস্থিরতার সময়ে এতদিন পোস্টটি ফাঁকা থাকাটা বেশ লক্ষণীয়। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে সৌদি নেতৃত্বের ব্যক্তিগত যোগাযোগ ও সুসম্পর্ক থাকায় রাষ্ট্রদূতের অনুপস্থিতি খুব একটা বাধা হয়ে দাঁড়ায় না।
হান্টের মনোনয়ন এমন সময়ে হলো যখন দুই দেশের সম্পর্ক কেবল তেল আর বাণিজ্যে সীমাবদ্ধ নেই বরং আঞ্চলিক নিরাপত্তা, পারমাণবিক শক্তি এবং ইরান ও ইয়েমেন ইস্যুতে দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করছে।
সামরিক ব্যাকগ্রাউন্ডের রাষ্ট্রদূতদের ইতিহাস
ওয়েসলি হান্ট প্রথম সামরিক কর্মকর্তা নন যিনি রিয়াদে মার্কিন দূতাবাসের নেতৃত্ব দিতে যাচ্ছেন। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সাবেক প্রধান অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল জন অ্যাবিজায়েদ ২০১৯ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত এবং অবসরপ্রাপ্ত বিমান বাহিনীর পাইলট জেনারেল জেমস বি স্মিথ ২০০৯ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
এছাড়া সেনাবাহিনী বিষয়ক সাবেক সহকারী সচিব জোসেফ ওয়েস্টফল ২০১৪ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত এ পদে ছিলেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন