প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বাংলা ও উর্দু চলচ্চিত্রের একসময়ের পরিচিত অভিনেত্রী নাসিমা খান আর নেই। তিনি রোববার (১১ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে রাজধানীর উত্তরার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুর সময় তাঁর বয়স ছিল ৮২ বছর। অভিনেত্রীর দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা নূরজাহান বেগম তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ষাটের দশকে ঢাকার চলচ্চিত্রে পরিচিতি পাওয়া অভিনেত্রীদের মধ্যে নাসিমা খান অন্যতম ছিলেন। তিনি বাংলা ও উর্দু, দুই ভাষার চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে ‘যে নদী মরু পথে’, ‘সূর্যস্নান’, ‘বেগানা’, ‘উজালা’, ‘দুই ভাই’ ও ‘ঢেউয়ের পরে ঢেউ’-এর মতো উল্লেখযোগ্য সিনেমায় তাঁকে দেখা গেছে। ঢাকার পাশাপাশি তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানের লাহোরের চলচ্চিত্রেও অভিনয় করে তিনি পরিচিতি অর্জন করেন।
জীবনের শেষ সময়টা নাসিমা খানের জন্য খুব একটা ভালো কাটেনি। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তাঁর ছোট ছেলে নাবিল নাছির রহমান কুশল নিখোঁজ হন। এরপর থেকে তিনি ছেলের সন্ধান পেতে বিভিন্ন সময়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছেন। ছেলেকে ফিরে পাওয়ার আকুতি নিয়ে তাঁর সেই অপেক্ষা ও উদ্বেগের খবরও সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছিল। ছেলের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা তাঁকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তোলে।
১৯৪৪ সালের ৬ আগস্ট পুরান ঢাকার লালবাগে জন্মগ্রহণ করেন নাসিমা খান। ছোটবেলা থেকেই সাংস্কৃতিক পরিবেশে বেড়ে ওঠা এই অভিনেত্রীর চলচ্চিত্রে অভিষেক ঘটে ষাটের দশকে। সালাহউদ্দিন পরিচালিত ‘যে নদী মরু পথে’ সিনেমায় অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি পরিচিতি পান। পরে ‘সূর্যস্নান’সহ বিভিন্ন সিনেমায় অভিনয় করে নিজের অবস্থান তৈরি করেন। স্বাধীনতার পর একসময় চলচ্চিত্র থেকে দূরে সরে গেলেও পরে টেলিভিশনে উপস্থাপনার মাধ্যমে তিনি আবার পর্দায় ফেরেন।
দীর্ঘ কয়েক দশকের অভিনয়জীবনে নাসিমা খান বাংলা চলচ্চিত্রের সাদা-কালো যুগ থেকে শুরু করে পরবর্তী সময়েও কাজ করেছেন। জীবনের শেষদিকে অভিনয়ে অনিয়মিত হয়ে পড়লেও তাঁর কাজ চলচ্চিত্রের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ একটি সময়কে ধারণ করে আছে। তাঁর মৃত্যুতে বাংলা ও উর্দু চলচ্চিত্রের প্রথম দিকের পরিচিত এক অভিনেত্রীর জীবনাবসান হলো।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন