প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, রাজশাহীতে পদ্মা নদী বিদ্যমান। তিনি উল্লেখ করেছেন, "আমরা দেখেছি কীভাবে পদ্মা নদী শুকিয়ে যাচ্ছে। নদীর পানির প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।" এই কারণে সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে—বাংলাদেশের দুটি প্রধান নদী, একটি হচ্ছে তিস্তা এবং অপরটি রাজশাহীতে পদ্মা নদী। এই দুই নদীতে ব্যারাজ নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে দেশের পানির সমস্যা সমাধান করা সম্ভব হবে। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে রাজশাহী নগরীর ঐতিহাসিক মাদরাসা মাঠে অনুষ্ঠিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, "পানির সমস্যা যারা তৈরি করেছে তাদের সাথে আমরা কথা বলব।" তিনি যোগ করেন, "দরকার হলে বাংলাদেশের মানুষের পানির হিস্যা আদায় করার জন্য যতদূর আমাদেরকে যেতে হয় আমরা চেষ্টা করব।" তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, "ততদূর যেতে, কিন্তু ইনশাআল্লাহ বাংলাদেশের পানির হিস্যা আমরা নিয়ে আসার চেষ্টা করব।" তিনি বলেন, "আমরা এই পদ্মা ব্যারাজ এবং তিস্তা ব্যারাজের কাজ শুরু করব এবং শেষও করব ইনশাআল্লাহ।"
তিনি উল্লেখ করেন, "সমগ্র বাংলাদেশে প্রায় ৪ হাজারের কাছাকাছি আখচাষি ভাইদেরকে সরকারের পক্ষ থেকে প্রণোদনার ব্যবস্থা করেছি।" এর উদ্দেশ্য হলো, "যাতে করে আগামী সিজনে আখ চাষিদের কিছুটা হলেও কষ্ট কম হয়।" তিনি বিএনপির কৃষকবান্ধব নীতির কথা উল্লেখ করে বলেন, "বিএনপি বিশ্বাস করে এই দেশের কৃষক বাঁচলে এই দেশের কৃষি বাঁচবে।" তিনি জানান, "বাংলাদেশের মানুষের সমর্থন নিয়ে বিএনপি সরকার গঠনে সক্ষম হয়েছে।" তিনি বলেন, "বিএনপির অনেকগুলোর পরিকল্পনা বা অনেকগুলো প্রতিশ্রুতির মধ্যে একটি ছিল কৃষক ভাইদের পাশে দাঁড়ানো।"
তারেক রহমান বলেন, "বিএনপি সরকার গঠন করলে কৃষক ভাইদের যাদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ আছে সেই কৃষি ঋণ সুদসহ মওকুফ করবে।" তিনি উল্লেখ করেন, "সরকার গঠনের সাত দিনের মাথায় আমরা আমাদের প্রতিশ্রুতি রেখেছিলাম।" তিনি জানান, "সমগ্র বাংলাদেশের ১৩ লাখ কৃষক ভাইদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত আমরা মওকুফ করে দিয়েছিলাম সুদসহ।"
কৃষি কার্ড প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "আমরা কৃষক ভাইদেরকে একটি কার্ড দিতে চাই—যেটির নাম হচ্ছে ফার্মারস কার্ড বা কৃষক কার্ড।" তিনি জানান, "এরই মধ্যে এর কাজ শুরু হয়েছে।" তিনি বলেন, "ক্ষুদ্র কৃষক, মাঝারি কৃষক, প্রান্তিক কৃষক, ভূমিহীন কৃষক, বড় কৃষকের এই লিস্ট তৈরি করার কাজ এগিয়ে চলেছে।" তিনি আশা প্রকাশ করেন, "আগামী কিছু দিনের মধ্যে এটার কাজ শেষ হবে।"
তিনি বলেন, "এই বছর সমগ্র বাংলাদেশে আমরা ভূমিহীন প্রান্তিক এবং ক্ষুদ্র কৃষক নারী-পুরুষ ৪০ লাখ কৃষক ভাইয়ের কাছে কৃষি কার্ড পৌঁছে দেব।" তিনি জানান, "এই কৃষি কার্ডের মাধ্যমে কোনো কৃষক যদি বছরে দুইটি ফসল উৎপাদন করে, তাহলে সরকারের পক্ষ থেকে কৃষক কার্ডের মাধ্যমে চেষ্টা করব অন্তত একটি ফসলের সার, বীজ, কীটনাশক যতটুকু সম্ভব পৌঁছে দেওয়া হবে।" তিনি বলেন, "এছাড়াও, এই কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা তাদের ক্ষেতের ফসলের বীমা করতে পারবেন।"
তারেক রহমান বলেন, "সমগ্র দেশে আমরা আবার খাল খনন এবং নদী সংস্কার বা নদী খনন কর্মসূচি শুরু করব।" তিনি উল্লেখ করেন, "আল্লাহর রহমতে আমরা সেই কাজও শুরু করেছি।" তিনি জানান, "আগামী পাঁচ বছর আমরা ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করব।" তিনি বলেন, "এর মধ্যে প্রায় ৮০০ কিলোমিটার খাল গত আট মাসে আমরা খনন কার্য সম্পন্ন করেছি।" তিনি আশা প্রকাশ করেন, "এই কাজ করার মাধ্যমে একদিকে যেরকম কৃষক ভাইয়েরা পানির সুবিধা পাবেন।"
রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "এখানে ১৩০০ শয্যা রয়েছে। এটি ২৫০০ হবে।" তিনি জানান, "বিএনপি সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে প্রত্যেকটি উপজেলায় যে উপজেলা হাসপাতাল আছে এটির বেড সংখ্যা বৃদ্ধি করা হবে।" তিনি বলেন, "এখন যেহেতু জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।" তিনি উল্লেখ করেন, "বিএনপিকে বাংলাদেশের জনগণ নির্বাচিত করেছে সেজন্যই আমরা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি, প্রত্যেকটা উপজেলা হাসপাতাল ৫০ বেড থেকে আমরা ১৫০ বেডের হাসপাতালে তৈরি করব।"
তিনি বলেন, "এতে করে গ্রামের মানুষের অল্প অসুখে কষ্ট করে দূরের সদর হাসপাতালে না যেতে হয়।"
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন