প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
আমতলী-তালতলী সড়কের মানিকঝুড়ি থেকে কচুপাত্রা সড়কের ৮.৪ কিলোমিটার অংশে সমস্যার কারণে যান চলাচল ব্যহত হচ্ছে। এখানে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। আমতলী-তালতলী উপজেলার অন্তত দুই লাখ মানুষ চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। এতে ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর দ্রুত সড়ক সংস্কারের দাবী জানাচ্ছে।
জানা গেছে, আমতলী-তালতলীর-ফকিরহাট পর্যন্ত ৪০ কিলোমিটার উপকূলীয় আঞ্চলিক সড়ক রয়েছে। ২০২১ সালের অক্টোবর মাসে বার্ষিক জিওবি মেইনটেনেন্স প্রকল্পের আওতায় ৮ কোটি ৪৩ লক্ষ টাকা ব্যয়ে মানিকঝুড়ি থেকে কচুপাত্রা ব্রিজ পর্যন্ত ৮ কিলোমিটার ৪০০ মিটার সড়ক নির্মাণের জন্য তিনটি প্যাকেজে দরপত্র আহবান করে বরগুনা এলজিইডি। বরগুনার ঠিকাদার মোঃ সগির হোসেন ওই সড়ক নির্মাণের কাজ পেয়ে যায়। কিন্তু তিনি কাজ না করে দুই বছর ধরে কার্যক্রম ফেলে রাখেন। ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে ঠিকাদার প্রভাবশালী আওয়ামীলীগ নেতা মোঃ সগির হোসেন কাজ শুরু করেন। শুরুতেই ঠিকাদার সগির নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করেন এবং কার্যাদেশ অনুসারে কাজ না করে নিজের ইচ্ছামাফিক কাজ করেন—এমন অভিযোগ স্থানীয়দের।
কাজের অনিয়ম বিষয়ক অভিযোগ জানানো সত্ত্বেও স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী মোঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি, এমন অভিযোগও স্থানীয়দের। ঠিকাদার সগির দায়সারা কাজ করে সমুদয় অর্থ তুলে নেন। ২০২৪ সালে কাজ শেষ হওয়ার ছয় মাসের মাথায় সড়ক খানাখন্দে ভরে যায়। এছাড়া ১০ মিটার অন্তর অন্তর সড়কে বড় বড় গর্তে পরিণত হয়। ফলে ওই সড়ক দিয়ে যানবাহন চলাচলে সমস্যার সৃষ্টি হয়। আমতলী-তালতলী উপজেলার যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম হিসেবে সড়কটি দিয়ে গত দুই বছর জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অন্তত দুই লাখেরও বেশি মানুষ ও কয়েক শত যানবাহন চলাচল করছে।
সোমবার সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, সড়কটি শুধুমাত্র খানাখন্দে ভর্তি। ১০ মিটার অন্তর অন্তর বড় বড় গর্ত। সড়কে খানাখন্দ থাকায় যানবাহন চলাচলে সমস্যা হচ্ছে। গর্তে যানবাহন আটকে গেলে ওই সড়ক দিয়ে চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
মোটর সাইকেল চালক মোঃ শাহ আলম তালুকদার ও রুবেল মিয়া বলেন, সড়ক নির্মাণের অল্পদিনের মধ্যেই সড়ক খানাখন্দে ভরে গেছে। গত দুই বছরে জীবন বাজি রেখে সড়ক দিয়ে চলাচল করতে হয়েছে। তারা আরও বলেন, এ সড়ক নয়, যেন একটি মিনি পুকুর।
তারিকাটা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক মোঃ হেলাল উদ্দিন জানিয়েছেন, এমন সড়ক বাংলাদেশে আর কোথাও আছে কিনা আমার জানা নেই। এমন খানাখন্দ সড়ক দিয়ে বিদ্যালয়ের কয়েকশো শিক্ষার্থী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্কুলে আসছে। তিনি দ্রুত এ সড়ক নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।
আড়পাঙ্গাশিয়া মাধ্যমিক ও তারিকাটা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সুমাইয়া, কল্পনা আক্তার, আবু ছালেহ ও শাহ নেওয়াজ বলেন, এ সড়ক নয় বরং যেন একটি মৃত্যুর ফাঁদ। জীবন চলাচলে ঝুঁকি নিয়ে এ সড়ক ব্যবহার করতে হচ্ছে। তাদের দাবি দ্রুত সড়ক নির্মাণের।
তারিকাটা গ্রামের মোশাররফ হোসেন ও শহীদুল ইসলাম বলেছেন, ঠিকাদার আওয়ামীলীগের প্রভাবশালী নেতা হওয়ায় নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করেছেন এবং কার্যাদেশ অনুসারে কাজ করেননি। ফলে নির্মাণের ছয় মাসের মাথায় সড়ক খানাখন্দে ভরে গেছে। খানাখন্দ সড়ক দিয়েই গত দুই বছর চলাচল করতে হচ্ছে। তাদের দাবি, কাজের অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ঠিকাদার মোঃ সগির হোসেন ও স্থানীয় প্রকৌশলী বিভাগের লোকজনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
ঠিকাদার মোঃ সগির হোসেন কাজে অনিয়মের কথা অস্বীকার করে মুঠোফোনে বলেন, ধারন ক্ষমতার চেয়ে ভারী যানবাহন চলাচল করায় সড়ক ভেঙে গেছে। এতে তার কিছু করার নেই।
আমতলী উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ ইদ্রিস আলী বলেছেন, সড়কটি খানাখন্দে ভরে গেছে, সেটি ঠিক কিন্তু ওই সড়ক নির্মাণের ডিপিপি পাশ হয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যেই দরপত্র আহবান করা হবে। বরগুনার নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ মেহেদী হাসান খান জানিয়েছেন, যখন ওই সড়ক নির্মাণ হয়, তখন তিনি বরগুনার দায়িত্বে ছিলেন না। তাই সড়ক নির্মাণের অনিয়মের বিষয়টি তার জানা নেই। তবে আসন্ন অর্থ বছরে ওই সড়ক নির্মাণ কাজ শুরু করা হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন