প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
৫০ বছর আগে উগান্ডার এনতেব্বে শহরে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বড় ভাই ইয়োনাতান নেতানিয়াহুকে নিয়ে একটি ভাস্কর্য উন্মোচন করেছে উগান্ডা। এই ভাস্কর্যটি ইয়োনাতান নেতানিয়াহুর সাহস এবং নিঃস্বার্থ সেবার প্রতি সম্মান জানায়, বলেন দেশটির সেনাপ্রধান জেনারেল মূহুজি কাইনেরুগাবা।
ইসরায়েলের তেল আবিব থেকে রওনা দেওয়া এয়ার ফ্রান্সের একটি বিমানকে ছিনতাই করে উগান্ডার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, যেখানে দুই ফিলিস্তিনি ও দুই জার্মান ছিনতাইকারী জড়িত ছিলেন। উদ্ধার অভিযানে ১০০ জনের বেশি জিম্মিকে মুক্ত করা হয়। এই অভিযানে নিহত একমাত্র ইসরায়েলি সেনা ছিলেন ইয়োনাতান নেতানিয়াহু। কাইনেরুগাবা এই অভিযানটিকে 'আধুনিক ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলোর একটি' বলে উল্লেখ করেছেন।
তিনি আরও জানান, এই ঘটনার পর উগান্ডা ও ইসরায়েলের সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হয়েছে। এই সম্পর্ককে তিনি 'অসাধারণ এক যাত্রা' বলে বর্ণনা করেন।
একটি মেশিনগান হাতে নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার ভঙ্গিতে তৈরি ইয়োনাতান নেতানিয়াহুর ভাস্কর্যটি পুরোনো বিমানবন্দর টার্মিনালের বাইরে স্থাপন করা হয়েছে, যেখানে উদ্ধার অভিযানটি পরিচালিত হয়েছিল।
এই অভিযানের সময় জিম্মি জ্যঁ-জাক মিমুনি, পাসকো কোহেন এবং ইদা বরোখোভিচও নিহত হন। পরে কাম্পালার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ডোরা ব্লখকে হত্যা করা হয়। সেনাপ্রধান জানান, 'তাদের স্মৃতি যেন শান্তি, ন্যায়বিচার এবং মানুষের মর্যাদার জন্য ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করে।' ছিনতাইকারীদের সঙ্গে যুক্ত আরো তিন সহযোগীও নিহত হয়। সংঘর্ষে অন্তত ৪৫ জন উগান্ডার সেনাও নিহত হন।
নিহত উগান্ডার সেনাদের কথা উল্লেখ করে কাইনেরুগাবা বলেন, তারা 'যে উদ্দেশ্যকে তারা ন্যায্য বলে বিশ্বাস করেছিল, তার জন্য সাহসের সঙ্গে লড়াই করেছিলেন। তবে আজ আমরা জানি, তারা যে ইদি আমিন সরকারের অধীনে কাজ করছিলেন, সেটি ছিল একটি নিষ্ঠুর স্বৈরশাসন।'
১৯৭৬ সালের ২৭ জুন তেল আবিব থেকে প্যারিসের উদ্দেশে রওনা দেওয়া বিমানটি এথেন্সে যাত্রাবিরতি করে, সেখানে পপুলার ফ্রন্ট ফর দ্য লিবারেশন অব প্যালেস্টাইনের সদস্য ছিনতাইকারীরা বিমানে ওঠে। তারা বিমানের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সেটিকে লিবিয়ায় যেতে বাধ্য করে। সেখানে জ্বালানি নেওয়ার পর এয়ারবাস এ-৩০০ উগান্ডায় উড়ে যায়। বিমানটি অবতরণ করলে উগান্ডার তৃতীয় রাষ্ট্রপ্রধান ইদি আমিন সেটিকে স্বাগত জানান।
ছিনতাইকারীরা জিম্মিদের মুক্তির জন্য ৫০ লাখ ডলার এবং ইসরায়েল, ফ্রান্স, জার্মানি, সুইজারল্যান্ড ও কেনিয়ার কারাগারে থাকা ৫৩ জন যোদ্ধাকে মুক্তি দেওয়ার দাবি জানায়। ৩০ জুন ও ১ জুলাই কিছু জিম্মিকে ছেড়ে দেওয়া হয়, তবে ইসরায়েলি এবং ইহুদি জিম্মিদের আটকে রাখা হয়। ৩ জুলাই ইসরায়েলের বিশেষ বাহিনী কেনিয়া হয়ে উড়ে এসে এনতেব্বেতে নেমে অভিযান শুরু করে। পুরো অভিযানটি ৯০ মিনিটেরও কম সময়ে শেষ হয়। এই উদ্ধার অভিযান ইসরায়েলে উদযাপন করা হয়, তবে এটি ইদি আমিনের জন্য বড় ধরনের অপমান ছিল।
যুগান্তকারী ঘটনার এক দশক পরে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এনতেব্বে সফরে এসে বলেছেন, 'আমি আমার ভাইয়ের কাছ থেকে শিখেছি, সন্ত্রাসীদের হারাতে দুটি জিনিস দরকার। একটি হলো পরিষ্কার লক্ষ্য। আরেকটি হলো সাহস।' কাইনেরুগাবা বলেন, অর্ধশতক আগে ঘটে যাওয়া ঘটনা ছিল 'আমাদের ইতিহাসের একটি বেদনাদায়ক অধ্যায়'। তবে তিনি দাবি করেন, উগান্ডা ও ইসরায়েলের সম্পর্ক এখন 'পারস্পরিক বিশ্বাস, সম্মান এবং সহযোগিতার ভিত্তিতে গড়ে ওঠা একটি অংশীদারত্বে' পরিণত হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন