প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ময়মনসিংহে প্রেমের কারণে ১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থী আকাশ হত্যা মামলায় আদালত দুই জনের মৃত্যুদণ্ড এবং দুই জনের ৭ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২জুলাই) দুপুরে অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালত-১ এর বিচারক মো. শামছউদ্দিন এই রায় ঘোষণা করেন।
এ রায়ে বিজ্ঞ বিচারক আসামী এনামুল হক ও নাজমুল হককে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন এবং প্রতিজনকে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করার নির্দেশ দেন। উল্লেখ্য, আসামী এনামুল হক পলাতক রয়েছেন। এ মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর জিয়াউল হক ও জুলহাস উদ্দিনকে ৭ বছর সশ্রম কারাদণ্ড এবং ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা দেওয়া হয়েছে। অনাদায়ে তাদের আরো ৬ মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।
মামলার এজাহার সুত্রে জানা যায়, ময়মনসিংহ সদর উপজেলার অষ্টধার উচ্চ বিদ্যালয়ে ১০ শ্রেণীর শিক্ষার্থী সৈকত হাসান আকাশের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে জেসমিন আক্তারের। প্রেমের বিষয়টি জানাজানি হলে শিক্ষার্থী জেসমিনের পিতা জিয়াউল হক কোনভাবে প্রেমের বিষয়টি মেনে নিতে পারেননি।
২০২১ সালের ১৯ মে রাতে পরিকল্পিতভাবে প্রেমিকা জেসমিন আক্তার মোবাইলের মাধ্যমে আকাশকে নিজ বাড়িতে দেখা করতে ডেকে নেয়। আকাশ সরল বিশ্বাসে জেসমিনের সাথে দেখা করতে তাদের বাড়ীতে যায়। ঐ রাতে আকাশ বাড়ীতে না ফেরায় তার বাবা ও পরিবারের সদস্যরা অনেক খোঁজাখুঁজি করে তথ্য পাচ্ছিলেন না।
ঘটনার দুদিন পর লোকজন জেসমিনের বাড়ীর কাছেই বাঁশঝাড়ে টয়লেট ফেলার গর্তের মধ্যে রক্ত মিশ্রিত মাটি দেখতে পায়। আকাশের বাবা এই সংবাদ পেয়ে তাদেরকে নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। পরে সন্দেহ হলে পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে মাটি খুরে পচা গলা অবস্থায় গলাকাটা জবাই করা একটি মৃতদেহ উত্তোলন করে। পরে এই লাশটি আকাশের বলে সনাক্ত করেন তার বাবা।
এ ঘটনায় পরদিন ২২ মে আকাশের বাবা আকরাম হোসেন কোতোয়ালী মডেল থানায় জিয়াউল হক, জুলহাস উদ্দিন, এনামুল হক, নাজমুল হক ও অন্যান্যদের বিরুদ্ধে একটি এজাহার দায়ের করেন। সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ, বিচার-বিশ্লেষণ ও পর্যালোচনা শেষে অভিযুক্তদের উপস্থিতিতে আদালত এ রায় ঘোষণা করেন। মামলায় প্রসিকিউশন পক্ষে এ্যাডভোকেট মো. আবু হানিফ খান এবং আসামীদের পক্ষে এ্যাডভোকেট মো. রফিকুল ইসলাম খান মামলা পরিচালনা করেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন