প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ছাত্রী ও তার মা-বোনদের কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় আহত আরেক বোনও মারা গেছেন। এই ঘটনায় একই পরিবারের তিন বোন এবং মা মারা গেছেন।
এদিকে গণপিটুনিতে অভিযুক্ত যুবকও মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বিকেল পর্যন্ত আশঙ্কাজনক অবস্থায় থাকা সবাই একে একে মারা যান।
জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আবু তারেক এবং রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. বাহারুল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নিহতদের মধ্যে মা শাহিনুর বেগম (৩৮), তার বড় মেয়ে সায়মা আক্তার (২১), মেজো মেয়ে ইকরা আক্তার (১৭) এবং ছোট মেয়ে শিফা আক্তার (৯) রয়েছেন। এ ছাড়া গণপিটুনিতে অভিযুক্ত ঘাতক অন্তর মজুমদারও মারা গেছেন।
অভিযুক্ত অন্তর নোয়াখালী সুবর্ণচর এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। তিনি রায়পুরের ভ্রাম্যমাণ ফল ব্যবসায়ী ছিলেন।
এদিকে ঘটনাস্থলে অভিযুক্তকে গণপিটুনি দেওয়ার সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টাকালে পুলিশের ৬-৭ জন সদস্যও উত্তেজিত জনতার ইটপাটকেলে আহত হয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শাহীনুরদের বাড়ি কুমিল্লা জেলায়। প্রায় ১২-১৪ বছর ধরে রায়পুরে ভাড়া বাসায় বসবাস করছেন। দীর্ঘ কয়েক বছরের জন্য শাহীনুর তার সন্তানদের নিয়ে ঘটনাস্থলের আমির হোসেন মাস্টারের বাসায় ভাড়া থাকতেন। ২০১৯ সালে তার স্বামী মো. কামাল বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান। এরপর থেকে তিনি ৩ মেয়েসহ ওই বাসায় বসবাস করে আসছিলেন। বৃহস্পতিবার সকালে তিন মেয়েসহ শাহীনুরকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
অন্যদিকে আহত অবস্থায় সবাইকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা শাহীনুর, তার মেয়ে সায়মা ও শিফাকে মৃত ঘোষণা করেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় নেয়া পথে তার মেজো মেয়ে ইকরাও বিকেলে মারা যায়। ঘটনায় অভিযুক্ত অন্তরকে উত্তেজিত জনতা গণপিটুনি দিলে আশঙ্কাজনক অবস্থায় সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হলে তিনিও মারা যান।
শাহীনুরের একমাত্র ছেলে সিফাত হোসেন রায়পুর বণিক সমিতির সভাপতি সাইফুল ইসলাম মুরাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন।
মুরাদ বলেন, সিফাতের মা ও ৩ বোনকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। সকালে সে কাজে আসায় পুরো ঘটনার কিছুই জানত না। এই ঘটনায় সে আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছে এবং কারো সাথে কথা বলার অবস্থারে নেই।
বাড়ির মালিক ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথা বলার পর লক্ষ্মীপুর জেলা পুলিশ সুপার মো. আবু তারেক জানান, ঘাতক অন্তর তার স্ত্রীসহ প্রায় দেড় বছর ঘটনাস্থলে ভাড়া বাসায় থাকতেন। প্রায় ৭-৮ মাস আগে তিনি বাসা ছেড়ে চলে যান। সম্ভবত পূর্ব পরিচয়ের কারণে সকালে অন্তর ওই বাসায় যায়। এরপর ঘটনাটি ঘটে। রাণী নামে এক প্রতিবেশী অন্তরকে ওই বাসায় দেখে আসার কারণ জানতে চান, তখন অন্তর বলে সে পানির পাইপ ঠিক করতে এসেছে। রাণী এই কথা বিশ্বাস না করে কলাপসিবল গেট আটকে দিয়ে স্থানীয়দের খবর দেয়। যদি তিনি তা না করতেন, তাহলে হয়ত ঘটনাটি উদঘাটন করা সম্ভব হতো না। তদন্ত চলমান রয়েছে। তবে কেন তাদের হত্যা করা হয়েছে সে বিষয়ে পুলিশ কিছু বলতে পারিনি।
রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা বাহারুল আলম জানান, হাসপাতালে ৫ জনকে আহত অবস্থায় আনা হয়েছে। এর মধ্যে দুই মেয়ে এবং তাদের মা মারা গেছেন। তার এক মেয়েকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় পাঠানো হয়, পরে সেও মারা যায়। এছাড়া অভিযুক্ত একজন গণপিটুনিতে আহত হয়েছেন, তার মাথায় ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। সদর হাসপাতালে তিনিও মারা যান।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন