প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ডেনমার্কের বিভিন্ন কোম্পানিতে রাশিয়া নাশকতামূলক কার্যক্রম শুরু করেছে, যা ইউক্রেনে অস্ত্র সরবরাহকারী হিসেবে পরিচিত। পশ্চিমা দেশগুলো ইউক্রেনকে সামরিক সহায়তা প্রদান বন্ধ করার জন্য পূর্বের বড় পরিসরের কার্যক্রম ব্যর্থ হওয়ার পর রাশিয়া এই নতুন কৌশল গ্রহণ করেছে। বুধবার ডেনমার্কের এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা এ তথ্য প্রকাশ করেছেন।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, কোপেনহেগেনে অনুষ্ঠিত একটি জাতীয় নিরাপত্তা সম্মেলনে ওই কর্মকর্তা এই তথ্য জানান। তিনি ডেনমার্কের জাতীয় নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থার একজন কর্মকর্তা। তার বক্তব্য অনুযায়ী, রাশিয়ার এই পদক্ষেপ মস্কোর ছায়াযুদ্ধের বড় ধরনের বিস্তারকে নির্দেশ করছে।
তিনি বলেন, ‘বসন্তকালে আমরা অনেক পরিকল্পনা দেখতে পেয়েছি। কিন্তু সেগুলোর বাস্তবায়ন খুবই কম হয়েছে। গ্রীষ্মের শুরুতে আমরা লক্ষ্য করেছি, তারা অনেক বেশি তৎপরতা শুরু করেছে।’
রাশিয়া বুঝতে পেরেছে যে, তাদের পূর্বের বিস্তৃত লক্ষ্যভিত্তিক কার্যক্রম পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোকে ইউক্রেনকে সহায়তা করতে বাধা দিতে পারেনি। গোয়েন্দা কর্মকর্তা আরও জানান, মস্কো এখনো এসব অভিযানের ওপর রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে। তবে তাদের অভিযানের সাহস বৃদ্ধি পাচ্ছে।
তিনি বলেন, রাশিয়া এখন ‘এমন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করার চেষ্টা করছে, যার সরাসরি প্রভাব যুদ্ধের সম্মুখসারিতে পড়ে। এর অর্থ অস্ত্র উৎপাদন।’ নাশকতা বা ছায়াযুদ্ধের কার্যক্রমে জড়িত থাকার অভিযোগ রাশিয়া বারবার অস্বীকার করেছে। বুধবার কোপেনহেগেনে রুশ দূতাবাসও এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা দাবি করেছে, ডেনমার্কের কর্তৃপক্ষ রাশিয়ার বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলছে।
ওই গোয়েন্দা কর্মকর্তা রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি তালিকার কথা উল্লেখ করেন, যেখানে ইউরোপের বিভিন্ন ড্রোন ও ড্রোনের যন্ত্রাংশ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের নাম রয়েছে। এপ্রিলে রাশিয়া বলেছিল, এসব প্রতিষ্ঠান সম্ভাব্য সামরিক লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
ডেনমার্কের জাতীয় নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থা জানিয়েছে, রাশিয়া ক্রমশ প্রশিক্ষণহীন লোকজনকে এসব কাজে নিয়োগ করছে। তাদের মধ্যে গৃহহীন মানুষ এবং মাদকাসক্তরাও রয়েছে। টেলিগ্রামসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের মাধ্যমে তাদের নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।
সাধারণত খুব সহজ কাজের মাধ্যমে এসব লোককে কাজে নেওয়া হয়, যেমন কোনো স্থান সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা বা ছবি তোলা। পরে ধীরে ধীরে তাদের প্রকৃত নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করা হয়। ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘এমন যে কেউ হতে পারে, যে দ্রুত কিছু টাকা আয় করতে চাইছে। প্রথম ব্যক্তি সফল না হলে, তারা আরেকজনকে কাজে লাগাবে। সফল না হওয়া পর্যন্ত তারা এভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাবে।’
ডেনমার্কের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা গত মাসে জানায়, আগামী কয়েক মাসে পশ্চিমা দেশগুলোর বিরুদ্ধে রাশিয়ার ছায়াযুদ্ধের কার্যক্রম আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। এর আগে আগস্টে জার্মানি লেইপজিগ-হালে বিমানবন্দরে ড্রোন হামলার চেষ্টার জন্য রাশিয়াকে দায়ী করেছিল।
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ডেনমার্কে ইউরোপীয় ইউনিয়নের একটি শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার আগে, দেশটির ছয়টি বিমানবন্দরে ড্রোনের কারণে বিমান চলাচল ব্যাহত হয়েছিল। এর মধ্যে কোপেনহেগেন বিমানবন্দরও অন্তর্ভুক্ত ছিল, যা নর্ডিক অঞ্চলের সবচেয়ে ব্যস্ত বিমানবন্দর।
ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন ওই ঘটনাকে তার দেশের বিরুদ্ধে একটি ছায়াযুদ্ধের হামলা হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন