প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
আজ জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী। ১৩৮৩ বঙ্গাব্দের ১২ ভাদ্র তার মৃত্যু ঘটে ঢাকায়।
কাজী নজরুল ইসলামের জন্ম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে। তার ডাকনাম ছিল ‘দুখু মিয়া’। তিনি শৈশবকাল থেকেই কঠিন দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করে বড় হয়েছেন।
মাত্র ২৩ বছরের সৃষ্টিশীল জীবনে কবি অসংখ্য কালজয়ী সৃষ্টি রেখে গেছেন, যার মধ্যে রয়েছে কবিতা, গান, উপন্যাস, গল্প, নাটক ও প্রবন্ধ। তার সাহিত্যকর্মে সাম্য, মানবতা, প্রেম, স্বাধীনতা এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের শক্তিশালী বার্তা উঠে এসেছে। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে তার কবিতা ও গান জনগণের মধ্যে প্রতিরোধের চেতনা জাগিয়ে তুলেছিল।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন একাধারে কবি, সংগীতজ্ঞ, ঔপন্যাসিক, গল্পকার, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক, সাংবাদিক, চলচ্চিত্রকার, গায়ক ও অভিনেতা। তিনি বাংলা সঙ্গীতজগতে বৈচিত্র্যময় অসংখ্য রাগ-রাগিনী সৃষ্টি করে একটি মর্যাদাপূর্ণ আসনে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন।
কাজী নজরুল ছিলেন চির প্রেমের কবি, যিনি যৌবনের দূত। তিনি প্রেমকে গ্রহণ করেছেন এবং প্রেমের জন্য আকাঙ্ক্ষা করেছেন। মূলত তিনি বিদ্রোহী, তবে তার প্রেমিক রূপও কিংবদন্তির মতো। তাই, মানুষটি সহজেই বলতে পারেন ‘আমার আপনার চেয়ে আপন যে জন খুঁজি তারে আমি আপনায়’।
স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালের ২৪ মে ভারত সরকারের অনুমতি নিয়ে কবি নজরুলকে বাংলাদেশে আনা হয় তার পরিবারের সঙ্গে। তাকে বাংলাদেশের জাতীয় কবির মর্যাদা প্রদান করা হয়। ১৯৭৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তাকে ডি-লিট উপাধিতে ভূষিত করে। ১৯৭৬ সালে তিনি বাংলাদেশের নাগরিকত্ব লাভ করেন এবং একই বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি একুশে পদকে ভূষিত হন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার আগামী এক বছর ২০২৬ সালের ২৫ মে থেকে ২০২৭ সালের ২৫ মে পর্যন্ত নজরুল বর্ষ ঘোষণা করেছেন। এই উপলক্ষে এবারের নজরুলের মৃত্যুবার্ষিকী ঘিরে সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বছরব্যাপী নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।
১৩৮৩ বঙ্গাব্দের ১২ ভাদ্র তৎকালীন পিজি হাসপাতালে কবি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তিনি বলেন, ‘মসজিদেরই পাশে আমার কবর দিও ভাই/ যেন গোরে থেকেও মোয়াজ্জিনের আজান শুনতে পাই।’ বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদের উত্তর পাশে দাফন করা হয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন