প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-ইওলকে নির্বাচনী প্রচারণার সময় মিথ্যা বিবৃতি দেওয়ার জন্য দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। এই অভিযোগ ইউন অস্বীকার করেছেন এবং তার আইনজীবীরা এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার পরিকল্পনা করছেন। তাদের যুক্তি হলো, রায়টি ঘটনার এবং নির্বাচনী আইনের ভুলভাবে ব্যাখ্যা করার ভিত্তিতে দেওয়া হয়েছে। উচ্চ আদালতে এই রায় যদি বহাল থাকে, তবে রক্ষণশীল 'পিপল পাওয়ার পার্টি' বড় ধরনের আর্থিক সংকটে পড়তে পারে।
কারণ, ২০২২ সালে বর্তমান উদারপন্থী প্রেসিডেন্ট লি জে-মিউংয়ের বিরুদ্ধে অল্প ব্যবধানে জয়ের পর, সরকার তাদের নির্বাচনী খরচ (যা প্রায় ৪০ বিলিয়ন ওন বা ২৭ মিলিয়ন ডলার) ফেরত দিয়েছিল এবং তা তাদের আবার সরকারের কোষাগারে জমা দিতে হতে পারে।
দক্ষিণ কোরিয়ার আইন অনুযায়ী, যেসব প্রার্থী মোট ভোটের ১৫ শতাংশের বেশি প্রাপ্ত হন, সরকার তাদের নির্বাচনী খরচের অর্থ ফেরত দেয়। তবে যদি কোনো প্রার্থী নির্বাচনী আইন লঙ্ঘনের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়, তার শাস্তি হিসেবে ১০ লাখ ওন (৬৮০ ডলার) বা তার চেয়ে বেশি জরিমানা হতে পারে, সেই অর্থ ফেরত দেওয়া বাধ্যতামূলক।
সিউল সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট ইউনকে ১৮ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছে, তবে সেই দণ্ড তিন বছরের জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে। আদালত তাদের পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেছেন যে, প্রচারণার সময় ইউনের প্রদত্ত মিথ্যা বিবৃতি প্রার্থীদের বিষয়ে ভোটারদের সুষ্ঠু বিচার-বিবেচনাকে প্রভাবিত করতে পারে।
প্রধান বিচারক যখন রায়টি পড়ে শোনাচ্ছিলেন, তখন ইউন চুপচাপ শুনছিলেন এবং রায়ের পর কোনো মন্তব্য করেননি। 'পিপল পাওয়ার পার্টি'-ও এই রায়ের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানিয়ে যা বলেনি।
আদালত এই রায়ে উল্লেখ করেছেন, ২০২২ সালের জানুয়ারিতে ইউন একটি সাক্ষাৎকারে মিথ্যা বলেছিলেন; সেখানে তিনি একজন ভাগ্যগণনাকারীর সঙ্গে তার সম্পর্ক খাটো করে দেখানোর চেষ্টা করেছিলেন। ওই ব্যক্তি পরবর্তীতে ইউন-এর স্ত্রী কিম কেওন-হি এবং 'ইউনিফিকেশন চার্চ' এর মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করার জন্য দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক সুবিধা পাওয়ার বিনিময়ে ওই চার্চ কিম কেওন-হিকে ঘুষ দিয়েছিল।
আদালত পর্যবেক্ষণে আরো বলেছেন, ২০২১ সালের ডিসেম্বরে ইউন এক সংবাদ সম্মেলনে মিথ্যা তথ্য দিয়েছিলেন। সেখানে তিনি অস্বীকার করেছিলেন যে, ২০১২ সালে সরকারি কৌঁসুলি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি ঘুষের অভিযোগে তদন্তাধীন সিউলের এক সাবেক কর কর্মকর্তার সঙ্গে একজন প্রতিরক্ষা আইনজীবীর পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন।
এটি ইউনের বিরুদ্ধে চলমান সাতটি ফৌজদারি মামলার মধ্যে একটি ছিল; বর্তমানে তিনি পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে সামরিক আইন জারির কিছু মাস পর ২০২৫ সালের এপ্রিলে তাকে ক্ষমতা থেকে অপসারণ করা হয়। ওই সামরিক আইন জারিকে কেন্দ্র করে দেশটিতে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক সংকট তৈরি হয়েছিল।
ক্ষমতা দখলের ব্যর্থ প্রচেষ্টার জেরে আনা বিদ্রোহের মতো গুরুতর অভিযোগসহ বেশ কিছু দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে ইউন আপিল করেছেন; ওই মামলায় তাকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দেওয়া হয়েছিল। দেশের সর্বোচ্চ আদালতে চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি হওয়া প্রথম মামলায়, সামরিক আইন জারির আগে মন্ত্রিসভার যথাযথ আলোচনা এড়িয়ে যাওয়া এবং গ্রেফতারের চেষ্টায় বাধা দেওয়ার দায়ে ইউনকে দেওয়া সাত বছরের কারাদণ্ড চলতি মাসের শুরুর দিকে সুপ্রিম কোর্ট বহাল রেখেছে।
২০২৪ সালের ৩ ডিসেম্বর গভীর রাতে ইউন আকস্মিকভাবে সামরিক আইন জারি করেছিলেন, যা মাত্র কয়েক ঘণ্টা স্থায়ী ছিল। সিউলের জাতীয় পরিষদে ভারী অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত সেনা ও পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে আইনপ্রণেতারা সামরিক আইন বাতিলের পক্ষে ভোট দিলে ইউন-এর মন্ত্রিসভা তা প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়েছিল।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন