প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভারতের মুম্বাইয়ে বিক্ষোভে অংশগ্রহণ করার পর আটক হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর মুক্তি পেয়েছেন অভিনেতা ইমরান খান এবং তার প্রেমিকা লেখা ওয়াশিংটন ও কাজিন জায়েন মেরি। শনিবার (১০ অক্টোবর) মুম্বাই পুলিশের হাতে আটক হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মুক্তির খবর জানান তারা। একই সঙ্গে, আটকের সময় পুলিশের আচরণ নিয়ে অভিযোগও তোলেন তিন অভিনেতা।
শনিবার, মুম্বাইয়ের আগস্ট ক্রান্তি ময়দানে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) সদস্যদের সঙ্গে বিক্ষোভে অংশ নেন তারা। বিক্ষোভকারীরা ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করছিলেন।
শনিবার বিকেল ৪টার দিকে ঘটনাটির ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সেসব দৃশ্যে ইমরান, লেখা ও জায়েনকে পুলিশের একটি ভ্যানে তুলে নিয়ে যেতে দেখা যায়। আটকের পর তাদের অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বলে জানা গেছে।
পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের অভিজ্ঞতার কথা জানান তিন অভিনেতা। শনিবার রাতে ইনস্টাগ্রামে একটি রিল প্রকাশ করে লেখা জানান, তারা মুক্তি পেয়েছেন এবং নিরাপদে আছেন। পরে একটি ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে বাড়ি ফেরার পর ইমরান ও জায়েনকে জড়িয়ে ধরতে দেখা যায় তাকে।
তবে মুক্তির পরও ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে বলে অভিযোগ করেন লেখা। তার দাবি, বাড়ি ফেরার জন্য তারা কোনো ক্যাব বুক করতে পারছিলেন না। তাদের নিয়ে যেতে রাজি হওয়া চালকদের মুম্বাই পুলিশ ভয় দেখাচ্ছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অন্যদিকে, ইনস্টাগ্রাম স্টোরির মাধ্যমে আটকের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন জায়েন মেরি। তিনি এমন কিছু ভিডিও শেয়ার করেন, যেখানে তিন অভিনেতাকে পুলিশের ভ্যানে তুলে নিতে দেখা যায়। তাদের কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, তা জানানো হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
পুলিশের গাড়ির ভেতরে ধারণ করা আরেকটি ভিডিওতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে শোনা যায় জায়েনকে। একই সঙ্গে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করেন তিনি। পরে রাস্তার কয়েকজন পথচারীকেও ওই স্লোগানে যোগ দিতে দেখা যায়।
ইনস্টাগ্রাম স্টোরির আরেকটি পোস্টে জায়েন জানান, তাদের ইয়েলো গেট থানায় নেওয়ার পর আটকের কারণ জানতে চান তারা। কিন্তু পুলিশ কর্মকর্তাদের কাছ থেকে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা পাননি বলে দাবি করেন তিনি।
জায়েনের ভাষ্য, তারা থানা ছেড়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরও একজন পুলিশ কর্মকর্তা তাদের পিছু নেন। ওই কর্মকর্তার কাছে আটকের কারণ জানতে চাইলে তিনি নিজেও বিষয়টি জানেন না বলে মনে হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে জায়েন বলেন, ‘আমি তাকে বারবার জিজ্ঞাসা করছি, কেন আমাদের আটক করা হয়েছিল। কিন্তু তারও এ বিষয়ে কোনো ধারণা নেই। তিনি শুধু বলছেন,‘দুই মিনিট’, তারপর ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফোনে কথা বলছেন।’
এদিকে, অন্য বিক্ষোভকারীদের প্রকাশ করা ভিডিওতেও আটকের ঘটনা নিয়ে কথা বলতে দেখা যায় ইমরান খানকে। একটি ভিডিওতে তিনি দাবি করেন, আটকের কোনো কারণ না জানিয়েই তাকে, লেখা ও জায়েনকে প্রায় দুই ঘণ্টা পুলিশের ভ্যানে করে বিভিন্ন জায়গায় ঘোরানো হয়।
আরেকটি ভিডিওতে পুলিশ কর্মকর্তাদের কাছে আটকের কারণ জানতে চান ইমরান ও জায়েন। তবে কর্মকর্তারা কোনো উত্তর না দিয়ে চলে গেলে ইমরান তাদের উদ্দেশে ‘জয় হিন্দ’ বলে বিদায় জানান।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন