প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ছোটবেলায় দোকানে গিয়ে চামড়ার বলে হাওয়া দেওয়ার স্মৃতি নিশ্চয়ই অনেকের মনেই আছে। তবে প্রযুক্তির ছোঁয়ায় এখন পৃথিবী যে কোথায় পৌঁছে গেছে, তাতে চাইলে বর্তমানে চার্জ দেওয়া বলেও ফুটবল খেলতে পারা সম্ভব!
আপনার কি শুনতে একটু অদ্ভুত লাগছে? অবাক লাগলে তাও কিন্তু এটি এখন সত্যিকার বাস্তবতা।
এবারের বিশ্বকাপ হবে হাওয়ার বদলে চার্জযুক্ত বল দিয়েই। সেই বলেই লাথি মেরে জাদুকরী সব মুহূর্ত তৈরি করবেন লিওনেল মেসি, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, কিলিয়ান এমবাপ্পেরা।
২০২৬ সালের বিশ্বকাপের বল ‘ট্রাইওন্ডা’ও তাই বেশ আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। স্প্যানিশ এই শব্দের বাংলা অর্থ হলো ‘তিনটি ঢেউ’।
‘ট্রাই’ শব্দের মানে তিন এবং ‘ওন্ডা’র অর্থ ঢেউ বা তরঙ্গ। বিশ্বকাপের তিন আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডাকেই ধারণা করা হয়েছে এই নামের মধ্যে। বলের নকশার মধ্যেও রয়েছে এই তিন দেশের ছাপ। যুক্তরাষ্ট্রের চিহ্নের রং নীল, কানাডার প্রতীকের রং লাল এবং মেক্সিকোর জন্য নেয়া হয়েছে সবুজ।
বলের গায়ে রয়েছে কানাডার ম্যাপলপাতা, মেক্সিকোর ঈগল এবং যুক্তরাষ্ট্রের তারকা প্রতীকের উপস্থিতিও। পুরো নকশায় ব্যবহৃত সোনালি রং প্রতিটি দলের পরম আরাধ্য বিশ্বকাপ ট্রফির কথাই মনে করিয়ে দেয়।
চামড়া এবং সুতো দিয়ে তৈরি গোলাকৃতির বলটির ভেতরে যেন একটি পূর্ণ কম্পিউটার বিরাজ করছে, এটি তৈরি করেছে ক্রীড়াসামগ্রী প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান অ্যাডিডাস। কারণ বলের ভেতরে লুকিয়ে রয়েছে অত্যাধুনিক নানা প্রযুক্তি। যন্ত্রগুলো ততদিনে আবৃত থাকলেও গেমের মধ্যে তাদের কার্যকারিতা প্রকাশ্যে দেখা যাবে।
এই সবকিছুর শরণাপন্ন হয়েছে প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানটি, যাতে খেলায় স্বচ্ছতা আনা যায়।
অ্যাডিডাস বলের ভেতরে ১৪ গ্রামের একটি বিশেষ মোশনের সেন্সর চিপ স্থাপন করেছে। কেন্দ্রে বসানো ৫০০ হার্টজের এই সেন্সরটি প্রতি সেকেন্ডে ৫০০ বার তথ্য বা ডেটা রেকর্ড করতে সক্ষম। ফুটবলারদের আলতো স্পর্শও ফলে রিয়েল টাইমে পাওয়া যাবে। ফলে অফসাইড, হ্যান্ডবলের মতো বিতর্কিত ঘটনাগুলো সহজেই ধরা পড়বে। একবার সম্পূর্ণ চার্জ দিলে ছয় ঘণ্টা খেলা যাবে। এক ম্যাচের জন্য এই সময়কাল যথেষ্ট। অ্যাডিডাসের মহাব্যবস্থাপক স্যাম হ্যান্ডি ‘ট্রাইওন্ডা’র বিশেষত্ব তুলে ধরতে গিয়ে বলছিলেন, ‘প্রতিটি ছোট জিনিসেরই বড় প্রভাব আছে। খোদাই করা নকশা, স্তরযুক্ত গ্রাফিকস এবং উজ্জ্বল রং এই বলকে অন্যগুলোর থেকে আলাদা করেছে। এখন পর্যন্ত এটি আমাদের তৈরি সবচেয়ে সুন্দর এবং আকর্ষণীয় ফিফা বিশ্বকাপের বল।’
সব মিলিয়ে ১৫ বার ফিফা বিশ্বকাপের অফিশিয়াল বল তৈরি করেছে অ্যাডিডাস। ফিফার সঙ্গে তাদের পথচলা শুরু হয়েছিল ১৯৭০ সালের বিশ্বকাপের বল টেলস্টার দিয়ে। এরপর থেকে প্রতি বিশ্বকাপেই নতুনত্বের ছোঁয়া দিয়ে আসছে জার্মান কোম্পানিটি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন