প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
অধ্যাপক ডিন হো’র বয়স ৪৭ বছর। তবে তাঁর গবেষণার ফলাফলে দেখা গেছে, তাঁর শরীরের জৈবিক বয়স প্রায় ৩২ বছর। অর্থাৎ, প্রকৃত বয়সের তুলনায় তাঁর জৈবিক বয়স প্রায় ১৫ বছর কম। সিঙ্গাপুরের জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা অনুষ্ঠানের অধ্যাপক ডিন হো নিজেকে গবেষণার বিষয় বানিয়ে এই আকর্ষণীয় ফলাফল অর্জন করেছেন।
সিঙ্গাপুরের জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ইয়ং লু লিন চিকিৎসা অনুষদের ডিজিটাল চিকিৎসা ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডিন হো নিজেকে দীর্ঘমেয়াদি গবেষণার একমাত্র অংশগ্রহণকারী হিসেবে নির্বাচন করেছেন।
গবেষণার নাম 'ডেল্টা'। এর প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে, বছরে একবার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে শরীরের অবস্থা জানার প্রচলিত পদ্ধতির বাইরে গিয়ে শরীর সময়ে কীভাবে পরিবর্তিত হয়, সেটি পর্যবেক্ষণ করা।
গবেষণার অংশ হিসেবে অধ্যাপক হো তাঁর জীবনযাত্রায় বহু পরিবর্তন ঘটিয়েছেন। প্রতিদিন প্রায় ২০ ঘণ্টা উপবাস করেন, কয়েক দফা ৪৮ ঘণ্টার উপবাস করেন, প্রতিদিন সকালে ৯০ মিনিট শরীরচর্চা করেন এবং নির্দিষ্ট খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করেন।
তাঁর খাদ্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত ছিল শাকসবজি, বীজ, জলপাইয়ের তেল, কম চর্বিযুক্ত প্রোটিনসহ ভূমধ্যসাগরীয় ধাঁচের খাবার। পানীয় হিসেবে অধ্যাপক হো সাধারণত পানি, খনিজ লবণ যুক্ত পানি, দুধ ছাড়া কালো কফি ও চা গ্রহণ করেন।
গবেষণায় দেখা গেছে, তাঁর শরীরের বিপাকক্রিয়ার পরিবর্তনের গতি আগের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে। আগে শরীরের শক্তির উৎস হিসেবে শর্করা থেকে চর্বিতে পরিবর্তন হতে ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় লাগলেও এখন তা কমে প্রায় ১৬ ঘণ্টা ৩০ মিনিটে নেমে এসেছে।
গবেষক দলের তৈরি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর একটি পদ্ধতি অধ্যাপক হোর জৈবিক বয়সকে প্রায় ৩২ বছর হিসেব করেছে। তবে গবেষণায় বলা হয়েছে, এটি প্রচলিত বয়স নির্ধারণের মতো শুধুমাত্র একটি নির্দিষ্ট সময়ের স্বাস্থ্য তথ্যের ওপর নির্ভর করেনি। বরং চাপ ও পরিবর্তনের সঙ্গে শরীর কত দ্রুত মানিয়ে নেয় এবং স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে, সেটিও এখানে বিবেচনা করা হয়েছে।
গবেষণায় তাঁর হৃদস্পন্দনেও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটেছে। বিশ্রাম অবস্থায় তাঁর হৃদস্পন্দন প্রতি মিনিটে ৬৫ থেকে কমে ৪৬-এ নেমে এসেছে।
ঘুমের ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। আগে তিনি রাত ১২টার পর ঘুমাতে যেতেন এবং প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ঘুমাতেন, পরে তাঁর ঘুমের সময় এগিয়ে রাত ৯টার দিকে আসা শুরু করে এবং ঘুমের সময় বেড়ে প্রায় আট ঘণ্টা হয়। গভীর ঘুমের পরিমাণও বৃদ্ধি পাওয়ার কথা গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্ত্রের জীবাণু পরিবেশেও ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা গেছে। গবেষণার সব পরিমাপে ক্ষতিকর এক ধরনের জীবাণুর উপস্থিতি পাওয়া যায়নি বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
২০২৪ সালের আগস্টের মাঝামাঝি শুরু হওয়া গবেষণাটি যদিও এখনও চলছে, প্রায় আট মাস ধরে তিন ধরনের শরীরে পরিধানযোগ্য যন্ত্র ব্যবহার করে তাঁর শরীরের বিভিন্ন পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
গবেষকরা বলছেন, সবার শরীর অভিন্ন নয়। বয়স, মানসিক চাপ, ঘুম, খাবার, ব্যায়াম ও অসুস্থতার কারণে প্রত্যেক মানুষের শরীর ভিন্নভাবে পরিবর্তিত হয়। তাই সকলের জন্য একই ধরনের স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করার পরিবর্তে, নিজের শরীরের তথ্য বুঝে জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।
সূত্র: সিঙ্গাপুর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন