প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বাংলাদেশের সাবেক তারকা ক্রিকেটার মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, যিনি ‘পঞ্চপাণ্ডব’ হিসেবে পরিচিত, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে নতুন আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। ক্যারিয়ারের দীর্ঘ সময় ধরে বিতর্ক এড়িয়ে চলা এই ক্রিকেটার সম্প্রতি সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক প্রতিষ্ঠান জমজম ব্রাদার্সের অফিসে একটি মিটিংয়ে অংশগ্রহণের কারণে সমালোচনার সম্মুখীন হন।
বিষয়টি নিয়ে আলোচনা ও সমালোচনা বৃদ্ধি পাওয়ার পর, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। তিনি জমজম ব্রাদার্সের অফিসে যাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করেছেন এবং বিতর্কের জন্ম দেওয়া পোস্টটিও ইতোমধ্যে মুছে ফেলেছেন বলে জানিয়েছেন।
এই সমালোচনার শুরু হয়েছিল সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়েরের একটি ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে। ওই পোস্টের পর মাহমুদউল্লাহর জমজম ব্রাদার্সের অফিসে যাওয়া এবং সেখানে অনুষ্ঠিত বৈঠক নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়।
ঘটনাটি নিয়ে নানা প্রশ্ন ও সমালোচনা তৈরি হলেও, এই অভিজ্ঞ ক্রিকেটার নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। বাংলাদেশ ক্রিকেটের অন্যতম পরিচিত মুখ মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ দীর্ঘদিন জাতীয় দলের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনেও সাধারণত বিতর্কের বাইরে থাকা এই ক্রিকেটারের ওপর সাম্প্রতিক ঘটনাটি ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে বাড়তি আগ্রহ সৃষ্টি করেছে।
সায়েরের পোস্টে দাবি করা হয়, বাংলাদেশের জাতীয় দলের এক সাবেক ক্রিকেটার ভানুয়াতুর নাগরিকত্বে বিনিয়োগের বিষয়টি প্রচার করছেন। পোস্টে এ ধরনের বিনিয়োগের অর্থ বিদেশে পাঠানোর বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়। একইসঙ্গে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের মতো পরিচিত একজন ক্রিকেটারের এমন প্রচারে যুক্ত থাকা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
যখন সায়েরের পোস্ট ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোড়ন তুঙ্গে ওঠার উপক্রম, তখনই বিষয়টি স্পষ্ট করেন রিয়াদ। তিনি বুঝতে পারেন যে, বিনা স্বার্থে তিনি যে ভিডিওতে অংশ নিয়েছেন সেখানে দেশের স্বার্থের প্রশ্ন জড়িত। তাই জমজম ব্রাদার্সকে বলে পোস্টগুলো মুছে ফেলেন। এরপর নিজেই ভেরিফাইড ফেসবুকে বিষয়টির ব্যাখ্যা দিয়ে মাহমুদউল্লাহ লেখেন, ‘সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আমার একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে যে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে, সে বিষয়ে আমি আমার অবস্থান পরিষ্কার করতে চাই।’
তিনি লেখেন, ‘কিছুদিন আগে শারজাহ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে জমজম ব্রাদার্সের সঙ্গে আমার প্রথম পরিচয় হয়। তাদের আমন্ত্রণে একদিন তাদের অফিসে গেলে, তারা তাদের একটি নতুন ব্যবসায়িক প্রকল্পের বিষয়ে ভিডিও করার অনুরোধ জানান। তবে প্রকল্পটি সম্পর্কে আমার আগে থেকে কোনো ধারণা ছিল না এবং এর সঙ্গে আমার কোনো ধরনের ব্যাবসায়িক এবং অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততাও নেই।’
রিয়াদ আরও লেখেন, ‘আমার অনুরোধে তারা কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাদের সব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে ভিডিওটি সরিয়ে নেন।’
তিনি পোস্টে উল্লেখ করেন, ‘আমার পুরো ক্যারিয়ারে ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনে সব সময় বিতর্ক এড়িয়ে চলার চেষ্টা করেছি। অনিচ্ছাকৃত এই ঘটনায় কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে কিংবা কোনো ধরনের বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়ে থাকলে, আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত ও ক্ষমাপ্রার্থী।’ পোস্টের শেষে সাবেক এই তারকা ক্রিকেটার জানান, ভবিষ্যতে এ ধরনের বিষয়ে আরও সতর্ক থাকবেন এবং সবার প্রতি ভালোবাসা, সমর্থন ও বোঝাপড়ার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন