প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চল এক মাস আগেই পানিশূন্য হয়ে পড়েছে। বোরো ধানের বীজতলা শুকিয়ে ফেটে চৌচির হয়ে গেছে, ফলে কৃষকেরা চরম বিপাকে পড়েছেন।
সরেজমিনে পরিদর্শনে দেখা যায়, ছায়ার হাওর, দেখার হাওর, শনি, মাটিয়ান, মহালিয়া ও গুরমার হাওরসহ অধিকাংশ হাওরের বীজতলা এখন খাঁ খাঁ করছে। যে মাঠে এই সময়ে চারা গজানোর কথা, সেখানে এখন গবাদিপশু চরছে।
স্থানীয় কৃষকদের মতে, প্রতিবছর কার্তিক মাসের শেষ পর্যন্ত হাওরে পানি থাকে এবং বোরো মৌসুমের প্রস্তুতি নভেম্বরের শেষে শুরু হয়। কিন্তু এবারে অক্টোবরের শেষেই হাওর থেকে পানি নেমে গেছে। পর্যাপ্ত বৃষ্টির অভাবে মাটি দ্রুত শুকিয়ে শক্ত হয়ে গেছে। এর ফলে সেচ খরচ কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। কৃষকেরা জানান, শুকনো জমি নরম করতে মেশিনে পানি সেচ দিতে প্রতি কেয়ারে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বাড়তি খরচ হচ্ছে।
শাল্লার কৃষক মাহবুবুর রহমান বলেন, "বীজতলা ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। মেশিনে পানি দিয়ে জমি নরম রাখার চেষ্টা করছি, এতে খরচ অনেক বেশি হচ্ছে।" তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, ফেটে যাওয়া বীজতলার চারা দুর্বল হবে, কীটপতঙ্গের আক্রমণ বাড়বে এবং ধানের ফলন কম হবে। ফলে সামগ্রিক ফসল উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, "ধান উৎপাদন কম হলেও যদি ধানের ন্যায্যমূল্য বাড়ানো হয়, তবেই কেবল এই ক্ষতি পুষিয়ে ওঠা সম্ভব। নতুবা কৃষি কাজ ছেড়ে ঢাকা গিয়ে রিকশা চালাতে হবে।"
একই উপজেলার আরেক কৃষক আব্দুস সাত্তার বলেন, "বড় কৃষকেরা এখন মাঝারি হয়ে যাচ্ছেন, মাঝারি কৃষকেরা ছোট হচ্ছেন, আর ছোট কৃষকেরা পরিণত হচ্ছেন দিনমজুরে। এভাবে চলতে থাকলে একদিন কৃষি পেশাটাই হারিয়ে যাবে। কৃষিকে বাঁচাতে হলে সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করা প্রয়োজন।"
পাকনার হাওরের কৃষক সিরাজুল হক ওলী বলেন, "সময়মতো পানি পাচ্ছি না, আবার ধানের ন্যায্যমূল্যও পাচ্ছি না। আগে কার্তিক মাসেও বৃষ্টি হতো, আর এখন কাটফাটা রোদ।" তিনি দাবি করেন যে, কৃষি বিভাগের উচিত হাওরে সময়মতো পানি সরবরাহ ও নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা এবং বীজতলার জন্য ডিপ টিউবওয়েল বসানোর উদ্যোগ নেওয়া।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ওমর ফারুক জানান, কৃষকদের আগেই সতর্ক করা হয়েছিল যে এবার খরা ও অনাবৃষ্টির প্রভাব পড়তে পারে। তিনি বলেন, "বীজতলায় ঠিকমতো পানি না পেলে ফসল উৎপাদন ব্যাহত হবে। এ জন্য যেসব এলাকায় পানির উৎস রয়েছে, সেখান থেকে পানি এনে বীজতলা প্রস্তুত করতে হবে।" কৃষকেরা ডিপ টিউবওয়েলের দাবি জানালেও হুট করে তা বসানো সম্ভব নয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে কৃষকদের সচেতন করার পাশাপাশি বৃষ্টির জন্য মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করা ছাড়া উপায় নেই। আমাদের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন।
উল্লেখ্য, চলতি মৌসুমে জেলায় ২ লাখ ২৩ হাজার ৫২১ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ এবং ১০ হাজার ৪৬৮ হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন