প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বাংলাদেশ নৌবাহিনী খুলনা শিপইয়ার্ডে তিনটি ল্যান্ডিং ক্রাফট ট্যাংক বা এলসিটি নির্মাণ করছে, যা উপকূলীয় এলাকা ও দ্বীপাঞ্চলে সেনাসদস্য এবং ভারী সামরিক সরঞ্জাম পরিবহনের সক্ষমতা বাড়াবে। এর মধ্যে তৃতীয়টি, এলসিটি-১০৪, জলযাত্রা শুরু করেছে। এই জাহাজটি যুদ্ধকালীন অভিযানের পাশাপাশি দুর্যোগ মোকাবিলা, উদ্ধার ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রমেও ব্যবহৃত হবে।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকালে খুলনা শিপইয়ার্ডে এলসিটি-১০৪-এর জলযাত্রার উদ্বোধন করেন সহকারী নৌবাহিনী প্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. মাকসুদুল আলম। উদ্বোধন উপলক্ষে সাইরেনের শব্দের সঙ্গে ধীরে ধীরে জাহাজটি নদীতে নামানো হয়। নির্মাণকাজ সম্পন্ন করে আগামী এপ্রিলের মধ্যে তিনটি এলসিটি নৌবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করার পরিকল্পনা রয়েছে।
খুলনা শিপইয়ার্ডের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিটি এলসিটি ৩৫০ জন সেনাসদস্য এবং ছয়টি ট্যাংক, ১২টি সাঁজোয়া যান অথবা ১৮টি সামরিক যান পরিবহনে সক্ষম। এসব জাহাজ সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনীর যৌথ অভিযানে উপকূলীয় এলাকা এবং দ্বীপাঞ্চলে সদস্য ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম পৌঁছে দেয়ার কাজে ব্যবহৃত হবে।
শান্তিকালেও এলসিটিগুলোর বহুমুখী ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। দুর্যোগকবলিত এলাকায় মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেয়া, উদ্ধার অভিযান পরিচালনা, প্রশিক্ষণ এবং দুর্গম উপকূলীয় এলাকায় রসদ পরিবহনে জাহাজগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
খুলনা শিপইয়ার্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. আব্দুল লতিফ জানান, যুদ্ধকালীন ও শান্তিকালীন বিভিন্ন অভিযানের উপযোগী করে জাহাজটি নির্মাণ করা হচ্ছে। এসব এলসিটি যুক্ত হলে বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও সেনাবাহিনীসহ সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য এবং সরঞ্জাম পরিবহনের সক্ষমতা বাড়বে।
এলসিটি-১০৪ কানাডীয় নকশায় তৈরি করা হয়েছে এবং নির্মাণে বিশেষায়িত এএইচ-৩৬ ইস্পাত ব্যবহার করা হয়েছে। জাহাজটিতে যুক্ত করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাটারপিলার ইঞ্জিন, পাশাপাশি রয়েছে পশ্চিমা প্রতিষ্ঠানের জেনারেটর ও ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম।
সহকারী নৌবাহিনী প্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. মাকসুদুল আলম আশা প্রকাশ করেছেন যে, দেশের শিপইয়ার্ডে এ ধরনের জাহাজ নির্মাণের অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে আরও বড় ও অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজ তৈরির পথ প্রশস্ত করবে। তিনি বলেন, ‘ইনশা আল্লাহ, এই পথ ধরে ভবিষ্যতে আরও অত্যাধুনিক এবং বড় যুদ্ধজাহাজ নির্মাণে খুলনা শিপইয়ার্ড এগিয়ে যাবে। বাংলাদেশ অতি শিগগিরই যুদ্ধজাহাজ নির্মাণে বিশ্বে একটি মাইলফলক অর্জন করবে বলে আমি আশা রাখি।’
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন