প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যে চলমান নিরাপত্তা আলোচনা নতুন গতি পেয়েছে বলে ইসরাইলি আর্মি রেডিও জানিয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ওয়াশিংটনে সর্বশেষ আট ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক ‘অত্যন্ত গঠনমূলক’ ছিল এবং দক্ষিণ লেবাননের কিছু এলাকা থেকে ইসরাইলি বাহিনীর আংশিক প্রত্যাহার নিয়ে আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে।
লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকরের লক্ষ্যে মার্কিন মধ্যস্থতায় গত মঙ্গলবার (২৩ জুন) পঞ্চম দফার আলোচনা শুরু হয়েছে। আলোচনায় ইসরাইল ও লেবাননের রাষ্ট্রদূতদের পাশাপাশি ইসরাইলি সেনাবাহিনীর তিনজন শীর্ষ কর্মকর্তা অংশ নেবেন।
এই আলোচনাকে যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ইসরাইলের রাষ্ট্রদূত ইয়েচিয়েল লেইটার ‘ট্রেন ক্র্যাশ’ বা ‘রেল দুর্ঘটনা’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, আলোচনা সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়ে যাওয়ার দিকে যাচ্ছে।
তবে ইসরাইলি আর্মি রেডিও অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র একটি নতুন প্রস্তাব দিয়েছে, যেখানে পরীক্ষামূলক বা ‘পাইলট’ এলাকা নির্ধারণ করে সেসব স্থান থেকে ধাপে ধাপে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহারের পরিকল্পনা রয়েছে। এরপর ওই এলাকায় নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করবে লেবাননের সেনাবাহিনী এবং সেখানে হিজবুল্লাহর কোনো উপস্থিতি থাকবে না তা নিশ্চিত করা হবে।
গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর ইসরাইল লেবাননে সামরিক অভিযান আরও বিস্তৃত করেছে। বিশেষ করে দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিয়েহ অঞ্চলের কাছে লিতানি নদীর উত্তরের কিছু এলাকায় তারা অগ্রসর হয়েছে, যা পূর্বে ইসরাইলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকার বাইরের বিষয় ছিল।
ইসরাইলি আর্মি রেডিওর প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, এসব এলাকায় সেনা মোতায়েনের অন্যতম উদ্দেশ্য হচ্ছে ভবিষ্যৎ আলোচনায় প্রত্যাহারের জন্য সম্ভাব্য বিনিময়যোগ্য অঞ্চল তৈরি করা। বর্তমানে যে এলাকা কেন্দ্র করে উত্তেজনা ও সংঘর্ষ চলছে, সেগুলোই আলোচনা তৈরির মূল বিষয় হয়ে উঠেছে।
এখনো কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা বা বড় ধরনের অগ্রগতি অর্জিত হয়নি; তবে কূটনৈতিক সূত্রগুলো মনে করছে উভয় পক্ষের মধ্যে একটি সম্ভাব্য সমাধানের পথ তৈরি হচ্ছে।
এদিকে, ইসরাইলের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম কান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য দাবির প্রেক্ষিতে, দক্ষিণ লেবাননের কিছু এলাকা থেকে ধীরে ধীরে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহারের প্রস্তুতি নিচ্ছে নেতানিয়াহু সরকার।
ইসরাইলি সূত্রের বরাত দিয়ে কান আরও জানাচ্ছে, ইসরাইল এমন সম্ভাবনা বিবেচনা করছে যে, মার্কিন সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ইসরাইলি সেনাবাহিনীকে তথাকথিত ‘বাফার জোন’ বা নিরাপত্তা অঞ্চলের কিছু এলাকা থেকে ধাপে ধাপে সরে যেতে বলা হতে পারে। সেই জায়গায় লেবাননের সেনাবাহিনী মোতায়েন হবে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র লেবাননে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো পর্যবেক্ষণের জন্য একটি নতুন ব্যবস্থা অনুমোদন করেছে, যেখানে ইরান ও কাতার অংশ নেবে, তবে ইসরাইল থাকছে না। ইসরাইলি সূত্রগুলোর মতে, এই ব্যবস্থায় ইসরায়েলকে অন্তর্ভুক্ত না করার কারণ হচ্ছে ইরানের অংশগ্রহণ।
এর আগে ইসরাইলের চ্যানেল ১৩ এক জ্যেষ্ঠ ইসরাইলি কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে জানায়, ওয়াশিংটন সম্প্রতি ইসরাইলকে স্পষ্ট করে জানিয়েছে—লেবাননে বাধাহীন সামরিক অভিযান চালানোর যে স্বাধীনতা আগে ছিল, তা এখন আর নেই।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন