প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দেশের ব্যাংক খাতের বড় ঋণ খেলাপি ঋণের টাকা আদায়ের জন্য এবার বিদেশে অবস্থিত সম্পদ উদ্ধারের উদ্দেশ্যে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সহায়তা নেওয়া হচ্ছে। বিদেশে পাচার করা ঋণের অর্থ অথবা বিদেশে অবস্থানরত ঋণখেলাপিদের সম্পদ চিহ্নিত করে আইনি প্রক্রিয়ায় জব্দ ঘটানোর এবং দেশে ফিরিয়ে আনার কাজ শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলো।
এই কার্যক্রমের আওতায় প্রথম পর্যায়ে ২০০ কোটি টাকার বেশি খেলাপি ঋণের অধিকারী ৪২টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এসব প্রতিষ্ঠানের বিদেশে অবস্থিত সম্পদের সন্ধান ও উদ্ধারের কাজে আটটি আন্তর্জাতিক আইন ও পেশাজীবী প্রতিষ্ঠান নিয়োজিত রয়েছে।
রোববার (৯ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি জানান, ২০০ কোটি টাকার বেশি ঋণ নিয়ে খেলাপি হওয়া কিছু ঋণের অর্থ বিদেশে পাচার হয়ে থাকতে পারে এবং কিছু ঋণগ্রহীতার মালিক বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা দেশে পাওয়া যাচ্ছেন না। এ বিষয়ে ব্যাংকগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে বিদেশে অবস্থিত সম্পদ শনাক্ত ও উদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফেরাতে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত আইনি প্রতিষ্ঠানগুলোর সহায়তা নেওয়া হচ্ছে। যেখানে অর্থ অথবা সম্পদ পাচার হয়ে থাকতে পারে, সেসব দেশের আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো সম্পদ উদ্ধার করা গেলে, তা হলে চুক্তির আওতায় উদ্ধার করা অর্থের একটি অংশ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে পারিশ্রমিক হিসেবে সরবরাহ করা হবে।
প্রথম ধাপে ১১ জন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে, যারা বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারে গঠিত যৌথ তদন্ত দলের তালিকায় রয়েছে। এখানে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হচ্ছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), কাস্টমসের গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি) এবং আয়কর বিভাগের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল (সিআইসি) এর ওপর।
এছাড়া, এসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান থেকে ব্যাংকগুলোর পাওনা খেলাপি ঋণ আদায়েও বিদেশি আইন ও পেশাজীবী প্রতিষ্ঠানের সহায়তা নেওয়া হচ্ছে। এই কার্যক্রমে গ্র্যান্ট থর্নটন, আরআই কনসোর্টিয়াম, বেকার ম্যাকেঞ্জি ও পিডব্লিউসি, ডিএলএ পাইপার ও ক্রল, ইওয়াই ও ডেন্টনস, রহমান রাভেলি ও ইন্টারপাথ, হোয়াইট অ্যান্ড কেস এবং ডেলয়েট সহ বহু আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান যুক্ত রয়েছে।
দ্বিতীয় পর্যায়ে ২০০ কোটি টাকার বেশি খেলাপি ঋণ রয়েছে— এমন ৪২টি প্রতিষ্ঠানকে চিহ্নিত করা হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের ঋণ তথ্য ব্যুরোর (সিআইবি) তথ্য বিশ্লেষণ করে। আটটি বিদেশি আইন ও পেশাজীবী প্রতিষ্ঠানকে এসব প্রতিষ্ঠানের বিদেশে অবস্থিত সম্পদের সন্ধান করার জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
সংক্রমিত অন্যান্য দেশের মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কানাডা, সিঙ্গাপুর, বেলজিয়াম, নিউজিল্যান্ড, হংকং, চীন, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া।
বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের মাধ্যমে নির্ধারণ করছে যে বিদেশে প্রতিষ্ঠানগুলোর নামে কি সম্পদ রয়েছে, তার অবস্থান, ধরণ এবং সম্ভাব্য মূল্য। সম্পদের সন্ধান পেলে সংশ্লিষ্ট দেশের আইন অনুযায়ী তা স্থগিত, জব্দ বা আটকের জন্য প্রয়োজনীয় আইনি উদ্যোগ নেওয়া হবে।
পরবর্তীতে আদালতের মাধ্যমে সম্পদ পাঠানোর কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে এবং বাংলাদেশে ফেরত আনার প্রক্রিয়া সম্পর্কেও আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তবে, চুক্তিতে উল্লেখ রয়েছে যে "উদ্ধার না হলে পারিশ্রমিক নয়", যা ব্যাংকগুলোকে বিপুল পরিমাণ বিদেশি মুদ্রা খরচ না করতে সহায়তা করবে।
বিদেশে থাকা সম্পদ চিহ্নিত ও উদ্ধারের এই উদ্যোগটি বড় খেলাপিদের ঋণ আদায়ের নতুন সুযোগ সৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে, বিশেষ করে যাদের বিরুদ্ধে দেশের বিচার প্রক্রিয়া চলমান। তবে, বিদেশে থাকা সম্পদ জব্দ, বিক্রি বা নিষ্পত্তির সমস্ত পদ্ধতি সংশ্লিষ্ট দেশের আইন ও আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল, যা সময়সাপেক্ষ হতে পারে।
এক্ষেত্রে দীর্ঘদিন আটকে থাকা ঋণ আদায়ে বিদেশে থাকা সম্পদ শনাক্তের এ উদ্যোগকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন