বুধবার, ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০২:০৬ এম
রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিশেষ চেকপোস্ট কার্যক্রমের আওতায় ২৮ হাজার ৫টি গাড়ি ও মোটরসাইকেলে তল্লাশি সম্পন্ন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকাল ৪টা থেকে ৬টা পর্যন্ত দুই ঘণ্টার অভিযানের ফলে ৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় উদ্ধার করা হয়েছে একটি দেশীয় অস্ত্র। পাশাপাশি ১ হাজার ১৪টি গাড়ি ও ১ হাজার ১২৮টি মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশন মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মঙ্গলবার রাতে পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা যুগান্তরকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। পুলিশের সংশ্লিষ্ট ইউনিটের চেকপোস্ট সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, মেট্রোপলিটন ও জেলা পর্যায়ে মোট ১ হাজার ৬৩৭টি চেকপোস্ট পরিচালিত হয়েছে। এসব চেকপোস্টে ২২ হাজার ৮টি গাড়ি এবং ২৮ হাজার ৫টি মোটরসাইকেলে তল্লাশি কার্যক্রম চালানো হয়।
অভিযানে ১ হাজার ১৪টি গাড়ি ও ১ হাজার ১২৮টি মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশন মামলা দায়ের করা হয়েছে। রাজধানীর ঢাকা মহানগরীতে ২১৫টি চেকপোস্ট পরিচালনা করা হয়। এসব চেকপোস্টে ৩ হাজার ৭৪৮টি গাড়ি ও ৪ হাজার ৭৮৭টি মোটরসাইকেলে তল্লাশি চালানো হয়। গাড়ির বিরুদ্ধে ১৬৭টি এবং মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে ৩১৭টি প্রসিকিউশন মামলা দায়ের করা হয়েছে।
চট্টগ্রামে ২৬৯টি চেকপোস্টে ৫ হাজার ৪৫৯টি গাড়ি ও ৪ হাজার ৮৯৬টি মোটরসাইকেলের তল্লাশি করা হয়। এ সময় ৩৭২টি গাড়ি ও ২৪৫টি মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশন মামলা দায়ের করা হয়।
খুলনায় ২১৫টি চেকপোস্টে ১ হাজার ৫০৮টি গাড়ি এবং ২ হাজার ৬৩৪টি মোটরসাইকেলে তল্লাশি পরিচালিত হয়। এ সময় ১৩২টি গাড়ি ও ৪২টি মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশন মামলা দায়ের করা হয়েছে।
রাজশাহীতে ১১৯টি চেকপোস্টে ১ হাজার ৩৩৬টি গাড়ি ও ২ হাজার ৬০১টি মোটরসাইকেলে তল্লাশি করা হয়। এ সময় ১ কেজি ৫০০ গ্রাম গাঁজাসহ একজনকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাকে ২৬ হাজার ১০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
ময়মনসিংহে ৬৭টি চেকপোস্টে ১ হাজার ২৮১টি গাড়ি ও ১ হাজার ৬১৮টি মোটরসাইকেলে তল্লাশি করা হয়। এ সময় গাঁজাসহ একজনকে আটক করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে ২ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০০ টাকা জরিমানা করেন।
এছাড়া দেশের বিভিন্ন জেলায় মাদক ও অবৈধ মালামাল উদ্ধারের জন্য অভিযান পরিচালিত হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার পাশাপাশি অবৈধ অস্ত্রধারী ও অপরাধীদের শনাক্তে এ ধরনের বিশেষ চেকপোস্ট কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নওগাঁর অজপাড়া গাঁ থেকে স্কুল কলেজের গন্ডি পেরিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিক্ষা জীবন শেষ করেছেন আজন্ম দৃষ্টিহীন শাকিল হোসেন। গরিব পরিবারে জন্ম নেওয়া শাকিল মেধা ও অদম্য পরিশ্রমে শিক্ষা জীবন সফল ভাবে সম্পন্ন করলেও ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয় চাকরি জীবনে। চাকরি পেতে বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরতে থাকেন দৃষ্টিহীন শাকিল কিন্তু অন্ধ ছেলেকে চাকরি দেবে কে? অধরা থেকে যায় তার স্বপ্নের চাকরি। বিষয়টি দৃষ্টিগোচর হয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের। প্রধানমন্ত্রী তার উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীকে নির্দেশ দিলে তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলামের সহায়তায় চাকরির ব্যাবস্থা করেন।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও শিল্প মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির হাত থেকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগপত্র পেলেন আজন্ম দৃষ্টিহীন শাকিল হোসেন।
গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান, নওগাঁ ৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. জাহিদুল ইসলাম ধলু ও রুহুল কবির রিজভীর এপিএস জাহেদুল আলম।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসের ১৪ দিনে দেশে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স এসেছে ১৫২ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার। এই পরিমাণ দেশের মুদ্রায় ১৮ হাজার ৭৬৯ কোটি ৮০ হাজার টাকা, যা প্রতি ডলার ১২৩ টাকা হিসাবে গণনা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মুখপাত্র আরিফ হোসেন জানান, গতকাল সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) প্রবাসী আয় এসেছে এক হাজার ২০৫ কোটি ৪০ লাখ টাকা। গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম ১৪ দিনে রেমিট্যান্স এসেছিল ১৪৭ কোটি ৫০ লাখ ডলার। এই তুলনায় চলতি বছরের একই সময়ে প্রবাসী আয় বেড়েছে তিন দশমিক ৪০ শতাংশ।
চলতি অর্থবছরের (১ জুলাই থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত) সামগ্রিক চিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এ পর্যন্ত দেশে ৭৩৫ কোটি ১০ লাখ ডলারের প্রবাসী আয় এসেছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে এই আয়ের পরিমাণ ছিল ৬৩৭ কোটি ৫০ লাখ ডলার। সেই তুলনায় চলতি বছরের একই সময়ে প্রবাসী আয় বেড়েছে ১৫ দশমিক ৩০ শতাংশ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক।
এ সময় বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা হয়। এ ছাড়া বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের আধুনিকায়নে উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ও আলোচনায় গুরুত্ব পায়।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) মন্ত্রীর নিজ অফিস কক্ষে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
মন্ত্রী বলেন, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহরে বর্তমানে উড়োজাহাজ স্বল্পতা রয়েছে। যেকোনো ক্রয় প্রক্রিয়াই স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বজায় রেখেই সম্পন্ন করা হবে। তবে জরুরি ভিত্তিতে বিমানের বহরে উড়োজাহাজ যুক্তকরণে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। হাই লেভেল নেগোশিয়েশন কমিটির সুপারিশের আলোকেই সরকার উড়োজাহাজ ক্রয় করবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, ২০১৭ সালে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন বাংলাদেশের উপর হাই রিক্স কার্গো অ্যান্ড মেইল (এআইসআরসিএম) আরোপ করে। ফলে কার্গো হ্যান্ডলিংয়ে সময় এবং খরচ উভয়ই বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসেই এ স্ট্যাটাস প্রত্যাহারে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। বিমানবন্দরে প্রয়োজন অনুযায়ী এক্সপ্লোসিভ ডিকটেশন সিস্টেম (ইডিএস) স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি সম্পন্ন হওয়া অডিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং সিলেট ওসমানী বিমানবন্দর সন্তোষজনক রেটিং অর্জন করেছে। তাই সরকার চায়, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন এইসসিএম স্ট্যাটাস প্রত্যাহারে উদ্যোগ গ্রহণ করুক।
ব্রিটিশ হাইকমিশনার বলেন, বাংলাদেশের হসপিটালিটি খাতের বিকাশে যুক্তরাজ্যের বিনিয়োগকারীগণ আগ্রহী। এছাড়া বাংলাদেশ সরকারের এভিয়েশন হাব প্রতিষ্ঠার অগ্রযাত্রায় যুক্তরাজ্য সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।
এ সময় থার্ড টার্মিনালের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ে ম্যানজিস এভিয়েশনের বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহের বিষয়েও আলোচনা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
লিবিয়ার বেনগাজির গানফুদা ডিটেনশন সেন্টারে আটক ১৬৮ বাংলাদেশিকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। স্বেচ্ছায় দেশে ফিরতে আগ্রহী এসব অনিয়মিত বাংলাদেশি নাগরিককে মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা ৪ মিনিটে বুরাক এয়ারের (ইউজেড-২২২) একটি ফ্লাইটে বাংলাদেশে আনা হয়।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, লিবিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস এবং প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে লিবিয়া সরকার এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) সহযোগিতায় তাদের প্রত্যাবাসন করা হয়।
সংশ্লিষ্টরা জানান, দেশে ফিরে আসা বাংলাদেশিদের অধিকাংশই সমুদ্রপথে অবৈধভাবে ইউরোপে যাওয়ার উদ্দেশে মানব পাচারকারীদের প্ররোচনা ও সহযোগিতায় লিবিয়ায় প্রবেশ করেছিলেন। তাদের অনেকে লিবিয়ায় বিভিন্ন সময়ে অপহরণ ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
বাংলাদেশে ফেরার পর ঢাকায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও আইওএমের কর্মকর্তারা তাদের অভ্যর্থনা জানান। মানব পাচারের ঝুঁকি সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে দেশে ফেরত এই বাংলাদেশিদের দুর্বিষহ অভিজ্ঞতা অন্যদের সঙ্গে বিনিময় করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
ফেরত আসা প্রত্যেক বাংলাদেশির জন্য আইওএমের পক্ষ থেকে পথখরচ, খাদ্যসামগ্রী ও প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রয়োজনে অস্থায়ী বাসস্থানের ব্যবস্থাও করা হবে।
সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলো জানিয়েছে, লিবিয়ার বিভিন্ন ডিটেনশন সেন্টারে আটক বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ দূতাবাস, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং আইওএম সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ