প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
অরুণাচল নিয়ে ভারত এবং চীনের মধ্যে আবারও মুখোমুখি সূচনা হয়েছে। চীনের বিভিন্ন সময়ের নাম পরিবর্তনের উদ্যোগের মোকাবেলায়, এবার ভারত সরকার অরুণাচল প্রদেশের ২৭টি গুরুত্বপূর্ণ স্থানকে সরকারি মানচিত্রে আনুষ্ঠানিকভাবে সংযুক্ত করেছে।
ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শুক্রবার (৭ আগস্ট) জানায়, অরুণাচল প্রদেশ সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে স্থানগুলোকে তাদের নির্ধারিত নামসহ সরকারি মানচিত্রে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ইন্ডিয়া টুডে’র প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এসব স্থানগুলোর সঠিক শনাক্তকরণ এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে এ বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধিই এই উদ্যোগের প্রধান উদ্দেশ্য। ভারতীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অরুণাচল প্রদেশের ২৭টি স্থান ও ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য সার্ভে অব ইন্ডিয়ার সরকারি মানচিত্রে তাদের নামসহ চিহ্নিত করা হয়েছে।
নয়াদিল্লির এই পদক্ষেপে মূল কথা হলো চীনের নাম পরিবর্তনের ধারাবাহিক প্রচেষ্টার প্রতি ভারতীয় সরকারের প্রতিরোধ। বেইজিং অরুণাচলকে 'জাংনান' নামে অভিহিত করেছে এবং নানা স্থানকে নতুন নামে তালিকাভুক্ত করার কাজ করছে। ভারত বরাবরই চীনের এই উদ্যোগগুলোকে প্রত্যাখ্যান করে এসেছে। দেশের দৃঢ় বিশ্বাস হলো, এ ধরনের নাম পরিবর্তনের মাধ্যমে অরুণাচল প্রদেশের অধিকারহীনতার বাস্তবতা পরিবর্তন করা সম্ভব নয়।
সরকারি মানচিত্রে চিহ্নিত স্থানগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বা এলএসি-সংলগ্ন লংজু। ১৯৫৯ সালে চীনা বাহিনী ওই এলাকায় প্রবেশ করার পর ভারত-চীন সীমান্ত উত্তেজনার প্রথম কেন্দ্র হয়ে ওঠে লংজু। এছাড়া, আপার সুবানসিরি জেলার কাছের মাজা গ্রামও এই তালিকায় রয়েছে।
তালিকায় আরও রয়েছে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি উচ্চ পার্বত্য গিরিপথ—জো লা, রিজা লা ও পুকুর লা—মানচিত্রে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ১৯৬২ সালের ভারত-চীন যুদ্ধের অন্যতম প্রথম সংঘর্ষের স্থান থাগ লাওকেও আনুষ্ঠানিকভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
চাংলাং জেলার জয়রামপুরও তালিকায় রয়েছে। পূর্ব অরুণাচল ও মিয়ানমার সীমান্তের দিকে নিরাপত্তা বাহিনীর চলাচলের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ লজিস্টিক কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত। নয়াদিল্লি জানিয়েছে, এসব স্থান তাদের নির্ধারিত নাম ও অবস্থানসহ সার্ভে অব ইন্ডিয়ার সরকারি মানচিত্রে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর আগে, চীন ২০১৭ সালে অরুণাচল প্রদেশের ছয়টি স্থানের নতুন নামের প্রথম তালিকা প্রকাশ করেছিল। পরে ২০২১ সালে ১৫টি এবং ২০২৩ সালে আরও ১১টি স্থানের নাম পরিবর্তনের তালিকা প্রকাশ করা হয়।
ভারত সরকারের বক্তব্য হলো, ভারতীয় ভূখণ্ডের জন্য চীনের দেওয়া তথাকথিত কাল্পনিক নাম কোনোভাবে বাস্তব পরিস্থিতি পরিবর্তনের ক্ষমতা রাখে না। এ ধরনের পদক্ষেপ দুই দেশের সম্পর্কের উন্নয়ন প্রচেষ্টাকেও ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন