প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কক্সবাজারের পেচারদ্বীপ সমুদ্রসৈকতে নিখোঁজ আরও এক পর্যটকের মরদেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস। এই ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ জনে। বর্তমানে আরও একজন পর্যটক নিখোঁজ রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকাল ১০টায় পেচারদ্বীপ সৈকতে মরদেহটি ভেসে আসে। প্রাথমিকভাবে মরদেহটি হারুনের বলে শনাক্ত করেছেন তার স্বজনরা, যিনি চট্টগ্রামের বাংলাবাজার বায়েজিদ এলাকার বাসিন্দা।
নিহত চারজনের মধ্যে রোহান ও জিশান ঢাকার উত্তরার বাসিন্দা। অন্যদিকে আকাশ এবং হারুন চট্টগ্রামের বাংলাবাজার বায়েজিদ এলাকার বাসিন্দা। বর্তমানে ঢাকার উত্তরার নিবিড় একজন নিখোঁজ রয়েছেন।
কক্সবাজার ফায়ার স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন কর্মকর্তা দোলন আচার্য্য জানান, বুধবার বিকেল পাঁচটার দিকে নির্জন পেচারদ্বীপ সৈকতে চট্টগ্রাম থেকে আসা পাঁচ পর্যটক এবং ঢাকা থেকে আসা সাত পর্যটক পানিতে ছিলেন। তাদের একজন সমুদ্রে ভেসে যেতে থাকলে বাঁচার জন্য চিৎকার করেন। উদ্ধার করতে এগিয়ে আসেন অন্যরা। এক পর্যায়ে তারা পরস্পরের হাত ধরে শিকলের মতো তৈরি করে উদ্ধারের চেষ্টা করেন। কিন্তু হঠাৎ করে বড় ঢেউ আছড়ে পড়লে তাদের সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়ে যায়।
ঢেউয়ের তোড়ে কয়েকজন একে অপরের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পানিতে তলিয়ে যান। ঘন্টাখানেক পর স্থানীয় জেলে, ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ ৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করে। তবে দুজন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।
দোলন আচার্য্য আরও জানান, বৃহস্পতিবার সকালে উদ্ধার হওয়া মরদেহটি কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।
বন্ধুকে বাঁচাতে গিয়ে বিপদে
নিহত রোহানের খালু মো. জাহিদ বলেন, তারা সমুদ্রে গোসল করতে নেমেছিলেন। তাদের থেকে কিছুটা দূরে থাকা এক পর্যটক পানিতে ভেসে যাওয়ার সময় ‘হেল্প, হেল্প’ বলে চিৎকার করছিলেন। তখন তারা চার-পাঁচজন বন্ধু তাকে উদ্ধারে এগিয়ে যান। তারা একে অপরের হাত ধরে শিকলের মতো তৈরি করে তাকে টেনে আনার চেষ্টা করেন।
জাহিদ বলেন, উদ্ধারের চেষ্টা চলার সময় হঠাৎ বড় একটি ঢেউ আছড়ে পড়ে। তখন তারা পানির নিচে পা রাখতে পারছিলেন না। ঢেউয়ের ধাক্কায় একে অপরের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে সবাই স্রোতে তলিয়ে যেতে থাকেন। পরে আশপাশের লোকজনের সহায়তায় কয়েকজনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়।
তিনি আরও বলেন, তাদের সাতজনের একটি দল ছিল। এ দলের দুজন মারা গেছেন, আরেকজন এখনো নিখোঁজ। বাকিদের স্থানীয়রা উদ্ধার করে। তাদের কেউই ভালোভাবে সাঁতার জানতেন না। সমুদ্রে সাঁতার কাটা এবং সাধারণ পানিতে সাঁতার কাটার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। হঠাৎ বড় ঢেউয়ের মুখে পড়লে আতঙ্কিত হয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
সাঁতার না জেনেও সমুদ্রে নামেন পর্যটকেরা।
কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিসের সাব-অফিসার মো. আবু জাফর বলেন, সাঁতার জানেন না এমন ব্যক্তিদের তো বটেই, সাঁতার জানা ব্যক্তিদেরও বঙ্গোপসাগরের মতো উত্তাল সমুদ্রে নামার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে। এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে পর্যটকদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।
আবু জাফর বলেন, পর্যটকদের তারা সাঁতার জানেন কি না, তা জানতে চেয়েছিলেন। তারা কেউই সাঁতার জানেন না বলে জানান। এরপর সাঁতার না জেনে এত বড় সমুদ্রে কেন নেমেছেন, জানতে চাইলে পর্যটকেরা তাকে বলেন, তারা যে রিসোর্টে উঠেছিলেন, সেখান থেকে জানানো হয়েছিল, সেখানে নামলে কোনো সমস্যা হবে না।
উদ্ধার অভিযান চলছে
রামুস্থ হিমছড়ি পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) মো. সোলাইমান জানান, নিখোঁজ ব্যক্তিদের উদ্ধারে হিমছড়ি পুলিশ ফাঁড়ি ও রামু থানার পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিসের একটি দল কাজ করছে। উদ্ধার অভিযান এখনো চলছে।
রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিল্লুর রহমান বলেন, স্থানীয়দের নিষেধ সত্ত্বেও পর্যটকেরা ওই স্থানে পানিতে নামেন। এক পর্যায়ে দুর্ঘটনা ঘটলে অন্য পর্যটকেরা তাদের উদ্ধারে এগিয়ে যান।
ইউএনও আরও বলেন, সংশ্লিষ্ট রিসোর্টের মালিকের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এ ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে শিগগিরই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিখোঁজ একজনকে উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট কাজ করছে। তাদের সঙ্গে জেলা পুলিশ ও ট্যুরিস্ট পুলিশের সদস্যরাও রয়েছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, রিসোর্টগুলোর নিয়মকানুন না মানা এবং পর্যটকদের নিরাপত্তায় যথাযথ ব্যবস্থা না থাকায় এ ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন