প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গোবিপ্রবি) ভিসিকে অবরুদ্ধ করে আর্কিটেকচার ডিপার্টমেন্টের শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করেছেন শিক্ষক সংকট নিরসনের জন্য।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, এই বিভাগের জন্য ১৬ জন শিক্ষক থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে রয়েছেন মাত্র ৩ জন শিক্ষক। এর ফলে শিক্ষার্থীদের পাঠদানে সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা ভিসিকে তার অফিস কক্ষে অবরুদ্ধ করে আন্দোলন করেন। পরে ভিসি অধ্যাপক ড. মো. সোহেল হাসান পার্টটাইম শিক্ষক নিয়োগের মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের আশ্বাস দিলে ৬ ঘণ্টা পর আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেন শিক্ষার্থীরা।
জানা গেছে, শিক্ষকের অভাবে ক্লাস কার্যক্রম বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীরা ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। দীর্ঘদিন ধরে এই অবস্থায় চলার কারণে কর্তৃপক্ষকে বারবার শিক্ষার্থীরা অবহিত করলেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। শিক্ষক স্বল্পতার কারণে শিক্ষার্থীরা ৩/৪ বছরের সেশনজটে পড়েছেন, যার ফলে তাদের চাকরির বয়সও হারাতে হচ্ছে।
শিক্ষার্থী রমিক্স বাড়ৈ রুদ্র (২০২০-২০২১ সেশন) বলেন, "আমাদের ডিপার্টমেন্টে মাত্র তিনজন শিক্ষক আছেন। যেখানে থাকার ১৬ জন। এই তিন শিক্ষক দিয়ে তো আর একটি ডিপার্টমেন্ট চলতে পারে না। এতে আমাদের নিয়মিত ক্লাস হয় না, আমরা কিছু শিখতেও পারছি না। আমরা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে বারবার শিক্ষকের কথা বলেছি, তারা শুধু আশ্বাস দেন।"
শিক্ষার্থী শোয়েবুল আলম (২০২০-২০২১ সেশন) বলেন, "শিক্ষক সংকটের কারণে আমাদের সেশনজট বাড়ছে। ইতোমধ্যে শিক্ষার্থীরা ৩/৪ বছরের সেশনজটে পড়েছে। আর এভাবে চলতে থাকলে আমাদের চাকরির বয়স শেষ হয়ে যাবে, কিন্তু পড়া শেষ হবে না। আমাদের সেমিস্টারের মেয়াদ ৬ মাস, কিন্তু এক একটি সেমিস্টার শেষ হতে এক দেড় বছর সময় লাগছে।"
শিক্ষার্থীরা জানান, বর্তমান ভিসি অধ্যাপক ড. মো. সোহেল হাসান পূর্বে এখানে প্রো-ভিসির দায়িত্ব পালন করেছেন। গত এক বছর ধরে তারা শিক্ষক সংকটের সমাধানের জন্য তার সঙ্গে আলোচনা, মিটিং এবং স্মারকলিপি প্রদান করেছেন, কিন্তু কার্যকর কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি।
ভিসি অধ্যাপক ড. মো. সোহেল হাসান বলেন, "ইউজিসিতে শিক্ষক নিয়োগের জন্য পত্র দেওয়া হয়েছে। এখনো ইউজিসি থেকে অনুমতি পাওয়া যায়নি। অনুমতি পেলে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে।"
শিক্ষার্থীদের সমস্যার কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, "২০১৮ সালে যারা এই ডিপার্টমেন্টে ভর্তি হয়েছেন, তারা এখনো পড়াশোনা শেষ করতে পারেননি। শিক্ষকের সমস্যার কারণে শিক্ষার্থীরা ভোগান্তির মধ্যে পড়েছেন। তাই যতদিন পর্যন্ত শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া না যাবে, ততদিন পাঁচজন পার্টটাইম শিক্ষক দিয়ে ক্লাস চালিয়ে নেওয়া হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন