প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ইসরায়েলের সঙ্গে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেলেও সিরিয়ার নতুন সরকার সরাসরি সামরিক সংঘাতে না গিয়ে কূটনৈতিক পথ অবলম্বন করছে। তবে এই সংযমের নীতি দীর্ঘমেয়াদে দেশের জন্য কতটা কার্যকর হবে, সে বিষয়ে প্রশ্ন উঠছে। আল জাজিরার মতামত বিভাগে প্রকাশিত একটি বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে, সিরিয়ার এই কৌশল একদিকে রাষ্ট্রীয় সক্ষমতা পুনর্গঠনের সুযোগ তৈরি করছে, অন্যদিকে ইসরায়েলকে সিরিয়ার সার্বভৌমত্বে আরও হস্তক্ষেপের সুযোগ দেওয়ার ঝুঁকিও সৃষ্টি করছে।
আল জাজিরায় প্রকাশিত এহাব বাদভির বিশ্লেষণের ভিত্তিতে, প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার মনে করছে, সামরিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার পরিবর্তে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান, নিরাপত্তা কাঠামো ও অর্থনীতি পুনর্গঠনের উপর গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। দীর্ঘ যুদ্ধের পর দুর্বল হয়ে পড়া সিরিয়ার জন্য আন্তর্জাতিক সমর্থন ও অর্থনৈতিক পুনর্গঠন এখন গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের শেষের দিকে বাশার আল-আসাদ সরকারের পতনের পর ইসরায়েল সিরিয়ার বিভিন্ন কৌশলগত সামরিক স্থাপনায় হামলা চালায়। এরপর নতুন সরকারকে দুর্বল হয়ে পড়া রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও নিরাপত্তা কাঠামো পুনর্গঠনের পাশাপাশি বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীকে জাতীয় কাঠামোর আওতায় আনার কাজ করতে হচ্ছে। ফলে বর্তমান পরিস্থিতিতে ইসরায়েলের সঙ্গে সরাসরি সামরিক সংঘাতে জড়ানো দামেস্কের জন্য বড় ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে।
এই বাস্তবতায় আল-শারা সরকার অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন, নিরাপত্তা খাত সংস্কার এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক উন্নয়নে জোর দিচ্ছে। আল জাজিরার বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, সিরিয়ার নেতৃত্বের কাছে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো একটি কার্যকর রাষ্ট্রীয় কাঠামো পুনর্গঠন করা। কারণ দীর্ঘ সংঘাতের পর দেশটির সামরিক ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা পুনরুদ্ধার না করে নতুন যুদ্ধে জড়ালে পুনর্গঠন প্রক্রিয়া আরও কঠিন হয়ে পড়তে পারে।
আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও দামেস্ক কিছুটা অগ্রগতি করেছে। যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি সিরিয়াকে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের পৃষ্ঠপোষক দেশের তালিকা থেকে বাদ দিয়েছে, যা দেশটির অর্থনৈতিক পুনর্গঠন ও বিদেশি বিনিয়োগের পথে একটি বড় বাধা দূর করেছে। এর পাশাপাশি সিরিয়া ও ইসরায়েলের মধ্যে উত্তেজনা কমাতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় আলোচনা হয়েছে। গত ২৪ আগস্ট জর্ডানে দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে ইসরায়েলি হামলা, আটক ও অভিযান বন্ধের উপায় এবং একটি সম্ভাব্য নিরাপত্তা চুক্তি নিয়ে আলোচনা করা হয়।
তবে কূটনৈতিক উদ্যোগের পাশাপাশি ইসরায়েলি সামরিক তৎপরতাও অব্যাহত রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে সিরিয়ার ভূখণ্ডে ইসরায়েলি হামলা ও অভিযান নিয়ে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। ইসরায়েলের পক্ষ থেকে সিরিয়ার দক্ষিণাঞ্চল, দেশটির সামরিক সক্ষমতা এবং তুরস্কের সঙ্গে দামেস্কের সামরিক সহযোগিতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। অন্যদিকে সিরিয়া ইসরায়েলি হামলা ও সামরিক উপস্থিতির বিরোধিতা করে আসছে।
এই পরিস্থিতিতে সিরিয়ার সংযমের আরেকটি ঝুঁকি অভ্যন্তরীণ জনমত। আল জাজিরার বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, সিরীয় জনগণের একটি বড় অংশ ইসরায়েলকে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচনা করে। ফলে ইসরায়েলের সামরিক তৎপরতার কার্যকর জবাব দিতে ব্যর্থ হলে প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা ও তার সরকারের প্রতি জনগণের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সিরিয়ার বর্তমান কৌশল তাই একটি কঠিন ভারসাম্যের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। সংযম দেশটিকে রাষ্ট্রীয় সক্ষমতা পুনর্গঠন, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক জোরদারের সময় দিচ্ছে; কিন্তু একই সময়ে ইসরায়েল এই সংযমের সুযোগ নিয়ে সিরিয়ার ওপর চাপ বাড়াতে পারে। আল জাজিরার বিশ্লেষণের মূল আশঙ্কা হলো, রাষ্ট্রীয় সক্ষমতা পুনর্গঠনের মাধ্যমে সার্বভৌমত্ব ফিরিয়ে আনার এই কৌশল সফল না হলে দীর্ঘস্থায়ী সংযম উল্টো সিরিয়ার সার্বভৌমত্ব ও সরকারের জনসমর্থনের জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে উঠতে পারে। তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন