প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রাজধানীর আগারগাঁওয়ে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে জাতীয় চার নেতাকে নিয়ে একটি বিশেষ প্রদর্শনী ‘নিরাপত্তাজনিত কারণে’ শেষ মুহূর্তে স্থগিত করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিকেল ৪টায় ‘স্বাধীনতা সংগ্রামে জাতীয় চার নেতা’ শীর্ষক প্রদর্শনীর উদ্বোধন হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু অনুষ্ঠান শুরুর কিছু আগে আয়োজকরা এটি স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেন।
মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি সারওয়ার আলী ও মফিদুল হক জানিয়েছেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরামর্শে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিডিনিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকমের প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
সারওয়ার আলী বিডিনিউজকে বলেন, ‘আজ বিকেলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আমাদের জানিয়েছে যে নিরাপত্তাজনিত কারণে প্রদর্শনীটি বন্ধ রাখা উচিত হবে। তাদের সেই পরামর্শক্রমেই উদ্বোধন আয়োজন স্থগিত করা হয়েছে।’
এদিন বিকেল ৪টায় উদ্বোধন অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আসা কয়েকজন অতিথি উপস্থিত ছিলেন। এর কিছু সময় আগে ১২-১৫ জন পুলিশ এসে নিরাপত্তার কথা বলে অনুষ্ঠান শুরু করতে নিষেধ করেন। পরে আয়োজকরা উদ্বোধন অনুষ্ঠান স্থগিতের ঘোষণা দেন।
ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপ কমিশনার ইবনে মিজান এ বিষয়ে জানতে চাইলে বলেন, ‘অনুমতি ছাড়া একটা প্রোগ্রাম হচ্ছিল আর কি। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে আমাদের হেল্প চাওয়া হইছে যে, অনুমতি ছাড়া এখানে প্রোগ্রাম হবে না। পরে আমাদের পুলিশ ওখানে গিয়ে জাস্ট দেখভাল করছে আরকি?’
অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জাদুঘর কর্তৃপক্ষ নিষেধ করছে কোনো অনুষ্ঠান হবে না।
জাদুঘরের পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, বিকেল ৪টায় জাদুঘরের ষষ্ঠতলার ৬ নম্বর গ্যালারিতে এ প্রদর্শনীর উদ্বোধন হওয়ার কথা ছিল। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার কথা ছিল মুক্তিযুদ্ধকালীন সরকারের কর্মকর্তা ও সাবেক সচিব ওয়ালিউল ইসলামের।
প্রদর্শনীটি ৩ নভেম্বর শুরু হয়ে ১৭ নভেম্বর পর্যন্ত চলার পরিকল্পনা ছিল জাদুঘরের ট্রাস্টিবৃন্দের। বিডিনিউজের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর ৩ নভেম্বর তার ঘনিষ্ঠ চার সহচর, মুক্তিযুদ্ধের শীর্ষ চার সংগঠক সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, এম মনসুর আলী ও এ এইচ এম কামরুজ্জামানকে কারাগারে ঢুকে হত্যা করা হয়।
এ প্রদর্শনীর উদ্দেশ্য তুলে ধরে সারওয়ার আলী বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে ১৬ ডিসেম্বরের পরবর্তী সময়ের ঘটনাবলী নিয়ে সাধারণত অনুষ্ঠান করা হয় না। আজকের প্রদর্শনীটি মূলত জাতীয় চার নেতার মুক্তিযুদ্ধে প্রস্তুতি পর্ব ও মুক্তিযুদ্ধকালীন তাদের ঐতিহাসিক ভূমিকাকে কেন্দ্র করে আয়োজন করা হয়েছিল, এটি কোনো সাধারণ জেল হত্যা দিবসের অনুষ্ঠান ছিল না।’
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরাপত্তা শঙ্কা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা এ নিয়ে কোনো প্রশ্ন তুলতে চাইনি। নিশ্চয়ই উদ্ভূত পরিস্থিতির সুবিধাজনক বিষয়গুলো বিবেচনা করা হয়েছে, আর আমাদের কাছে নিরাপত্তার বিষয়টির গুরুত্বই সবচেয়ে বেশি।’
এ প্রদর্শনীর জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অনুমতি নেওয়া হয়েছিল কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সাধারণত তো এই ধরনের অনুষ্ঠান, ঘরোয়া অনুষ্ঠান বা এ ধরনের কোনো আইনতো নেই। এবং এটি তিন-চার দিন আগেই প্রচার হয়েছে। কাজেই শেষ মুহূর্তে এটাই অপ্রত্যাশিত আমাদের কাছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন