প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নিউজিল্যান্ডের প্রাক্তন ক্রিকেটার স্টিফেন ফ্লেমিং বিশ্বাস করেন যে, ইংল্যান্ড জাতীয় ক্রিকেট দলের কোচ হওয়া উচিত মূলত ইংল্যান্ডের একজন। তিনি এই মন্তব্যটি ইংল্যান্ডের নতুন টেস্ট কোচ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর করেছেন।
ফ্লেমিং ডিসেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের মাধ্যমে ইংল্যান্ডের প্রধান কোচ হিসেবে তার প্রথম সিরিজ শুরু করবেন।
১৯৯৯ সালের পর থেকে ইংল্যান্ডের টেস্ট দলের প্রধান কোচের দায়িত্বে মাত্র দুজন ইংলিশ কোচ ছিলেন, তারা হলেন পিটার মুরস (দুই দফায়) এবং ক্রিস সিলভারউড। এই সময়ে অ্যাশলে জাইলস সাদা বলের ক্রিকেটে দলের কোচের দায়িত্ব পালন করেছেন।
অন্যদিকে, একই সময়ে জিম্বাবুয়ের ডানকান ফ্লেচার ও অ্যান্ডি ফ্লাওয়ার এবং অস্ট্রেলিয়ার ট্রেভর বেলিসও ইংল্যান্ডের কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ফ্লেমিং দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন তার স্বদেশি ব্রেন্ডন ম্যাককালামের কাছ থেকে। ম্যাককালাম বর্তমানে ইংল্যান্ডের সাদা বলের দলের প্রধান কোচ হিসেবে কাজ করছেন। অস্ট্রেলিয়ার ম্যাথু মটও এক সময় ইংল্যান্ডের সাদা বলের দলের কোচ ছিলেন।
গত সপ্তাহে ফ্লেমিংয়ের কোচিং স্টাফে ইংল্যান্ডের স্থানীয় কোচদের প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।
ইংল্যান্ডের সাবেক ওপেনার মার্কাস ট্রেসকোথিক তার সঙ্গে কাজ করবেন। চলতি বছরের শুরুতে তিনি অন্তর্বর্তীকালীন টেস্ট কোচের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এছাড়া সাবেক ইংলিশ উইকেটরক্ষক জেমস ফস্টার ও সাবেক স্পিনার রিচার্ড ডওসনও কোচিং স্টাফে অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।
অ্যাশেজজয়ী জোনাথন ট্রট শিগগিরই ইংল্যান্ড লায়ন্সের দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন। ফ্লেমিং নিয়োগ পাওয়ার আগে ট্রট ও ডওসন দুজনই ইংল্যান্ডের টেস্ট দলের কোচ হওয়ার দৌড়ে ছিলেন।
বিবিসি রেডিও ফাইভ লাইভকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিউজিল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক ফ্লেমিং জানান, ইংলিশ কোচদের বিকাশে সহায়তা করা তার দায়িত্ব পালনের অন্যতম অগ্রাধিকার হবে।
তিনি বলেন, “আমি বিশ্বাস করি, জাতীয় দলের কোচ মূলত সেই দেশেরই হওয়া উচিত, যার প্রতিনিধিত্ব দলটি করে। এই সুযোগ পেয়ে আমি কৃতজ্ঞ। তবে কোচিংয়ের ক্ষেত্রে কিছু উন্নয়নমূলক কাজ হবে, যা আমাদের কোচিং স্টাফের দিকে তাকালেই বোঝা যায়।”
ইংল্যান্ড জাতীয় দলের টেস্ট ও সাদা বলের ক্রিকেটে ফ্লেমিং ও ম্যাককালাম প্রধান কোচের দায়িত্বে থাকলেও দলটির নির্বাচক মার্কাস নর্থ অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক।
গত সেপ্টেম্বরে ঘোষণা করা হয়, অস্ট্রেলিয়ার আরেক সাবেক ক্রিকেটার লিয়া পল্টন ইংল্যান্ড নারী দলের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব নেবেন। ২০২০ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ইংল্যান্ড নারী দলের প্রধান কোচ ছিলেন অস্ট্রেলিয়ার সাবেক আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার লিসা কাইটলি।
নিজের কোচিং স্টাফের সদস্যদের উন্নয়নের পাশাপাশি কাউন্টি দলের কোচ ও ইংল্যান্ডের সাবেক ক্রিকেটারদেরও মাঝে মাঝে কোচিং কার্যক্রমে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে ফ্লেমিংয়ের।
তিনি বলেন, “কিছু গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি আবারও এই ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন, যা আমাকে আনন্দিত করেছে। তাদের সঙ্গে কাজ করার জন্য আমি মুখিয়ে আছি। একই সঙ্গে কাউন্টি দলের কোচদেরও নির্দিষ্ট সময়ে যুক্ত করা হবে। সাবেক খেলোয়াড়দেরও আবার ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এটি এমন একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ ব্যবস্থা, যেখানে আশপাশে থাকা দক্ষ ব্যক্তিদের কাজে লাগানোর পাশাপাশি কাউন্টি ক্রিকেট ও ইংলিশ ক্রিকেটের উন্নয়নে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।”
টেস্ট দলের কোচ হিসেবে ম্যাককালামের চার বছরের মেয়াদে কাউন্টি ক্রিকেটের সঙ্গে তার পর্যাপ্ত যোগাযোগ না থাকার জন্য সমালোচনা হয়েছিল।
গত সেপ্টেম্বরে কয়েকটি কাউন্টি ক্লাব পরিদর্শন করেন ফ্লেমিং। ইংল্যান্ডের ঘরোয়া ক্রিকেটের প্রতি নিজের ভালো লাগার কথাও জানান তিনি। খেলোয়াড়ি জীবনে নটিংহ্যামশায়ার, ইয়র্কশায়ার ও মিডলসেক্সের হয়ে খেলেছেন সাবেক এই ব্যাটার।
আগামী গ্রীষ্মে ঘরের মাঠে অ্যাশেজ সিরিজের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে কাউন্টি ক্রিকেটের কিছু ম্যাচ দেখার পরিকল্পনার কথাও নিশ্চিত করেছেন তিনি।
ফ্লেমিং বলেন, “হ্যাঁ, আমি সেখানে থাকব। এ বছর সবার সঙ্গে দেখা করতে পেরে খুব ভালো লেগেছে। যাদের সঙ্গে একসময় খেলেছি, তাদের অনেকেই এখন কাউন্টি ক্লাবের কোচ কিংবা গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছেন। তাঁদের সঙ্গে দেখা করে কাউন্টি ক্রিকেটের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া ভালো অভিজ্ঞতা ছিল। আমি সত্যিই উপভোগ করেছি। খেলোয়াড়দের উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”
জুলাইয়ে ফ্লেমিংকে ইংল্যান্ডের কোচ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হলেও আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজে তিনি দায়িত্ব পালন করেননি। ফলে ডিসেম্বরে শুরু হতে যাওয়া দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের তিন ম্যাচের সিরিজই হবে প্রধান কোচ হিসেবে তাঁর প্রথম দায়িত্ব।
ওই সিরিজের জন্য ইংল্যান্ডের দল নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে ঘোষণা করার কথা রয়েছে।
পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজের কোনোটিতেই বিশেষজ্ঞ স্পিনার খেলায়নি ইংল্যান্ড। তার পরিবর্তে চারজন মূল পেসার নিয়ে মাঠে নেমেছিল।
এদিকে, দক্ষিণ আফ্রিকায় অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে চলমান টেস্টে সফরকারী দলটি অফস্পিনার ন্যাথান লায়নকে একাদশের বাইরে রেখেছে। অথচ টেস্ট ক্রিকেটের সর্বকালের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারিদের তালিকায় ৫৭৩ উইকেট নিয়ে ষষ্ঠ স্থানে রয়েছেন তিনি।
গত সপ্তাহে ইংল্যান্ডের কেন্দ্রীয় চুক্তিতে থাকা খেলোয়াড়দের তালিকায় একমাত্র বিশেষজ্ঞ লাল বলের স্পিনার হিসেবে জায়গা পেয়েছেন শোয়েব বশির। অন্যদিকে ম্যাসন ক্রেন ও লিয়াম প্যাটারসন-হোয়াইট উন্নয়নমূলক চুক্তি পেয়েছেন।
দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের পর আগামী ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশের বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে স্পিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
বশিরের চুক্তি পাওয়ার অর্থ তিনিই ইংল্যান্ডের এক নম্বর স্পিনার কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ফ্লেমিং বলেন, ডার্বিশায়ারের এই স্পিনার দলে ধারাবাহিকতা বজায় রাখার প্রতিনিধিত্ব করছেন।
ফ্লেমিং বলেন, “আমি স্বীকার করছি, তার ঠিক পরেই আরও বেশ কয়েকজন স্পিনার রয়েছেন, যারা বিভিন্ন সময়ে নিজেদের যোগ্যতার প্রমাণ দিচ্ছেন। এখানে অনেক স্পিনার রয়েছেন, যারা সুযোগের অপেক্ষায় আছেন। বিশেষ করে বাংলাদেশের মতো কন্ডিশনে, দু-তিনজন স্পিনারকে দলে অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে। পরিস্থিতি অনুযায়ী দলটি বেশ ভিন্ন রকম হতে পারে। এটাই নির্দিষ্ট কন্ডিশনের জন্য উপযুক্ত খেলোয়াড় বেছে নেওয়ার উদাহরণ। তবে বশিরের অভিজ্ঞতা রয়েছে এবং সে এখনো অনেক তরুণ। স্পিন বিভাগে সঠিক সমন্বয় খুঁজে বের করার জন্য আমাদের আরও পর্যবেক্ষণ ও উন্নয়নের সুযোগ রয়েছে।
সূত্র: বাসস
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন