প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যুক্তরাষ্ট্রে নকল ওজন কমানোর ওষুধ ওজেম্পিক বিক্রির একটি আন্তর্জাতিক চক্রে জড়িত থাকার অভিযোগে দুই ভারতীয় নাগরিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। আদালতের নথি অনুযায়ী, তারা চীন থেকে নকল ওজেম্পিক এনে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন পরিবেশকের কাছে কম দামে বিক্রি করতেন।
অভিযুক্তদের মধ্যে ৩৩ বছর বয়সী স্বপ্নদীপ রায় এবং ৩৭ বছর বয়সী ভিকি রামানচা রয়েছেন। উভয়ই ভারতের নাগরিক এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে বসবাস করছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার মধ্যাঞ্চলীয় আদালতে ২০২৫ সালে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) অভিযোগপত্র প্রকাশিত হওয়ার পর বিষয়টি সামনে আসে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের জুলাই থেকে ২০২৪ সালের এপ্রিল পর্যন্ত তারা চীনের অনুমোদনহীন প্রস্তুতকারকদের কাছ থেকে হাজার হাজার নকল ওজেম্পিক সংগ্রহ করে যুক্তরাষ্ট্রে পাচার করেন। পরে এসব ওষুধ কম দামে দেশটির বিভিন্ন পরিবেশকের কাছে বিক্রি করা হতো। সেখান থেকে তা সাধারণ ক্রেতাদের কাছে পৌঁছাত।
আদালতের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, নকল ওষুধগুলোর মোড়ক, ভেতরের নির্দেশনা, লেবেল ও সূচ পর্যন্ত নকল করা হয়েছিল। উদ্দেশ্য ছিল ক্রেতাদের বিশ্বাস করানো যে তারা অনুমোদিত ওজেম্পিক কিনছেন। আসল ওজেম্পিক তৈরি করে ডেনমার্কের ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান নোভো নরডিস্ক।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ইতালি থেকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণের পর আদালতে হাজির হন স্বপ্নদীপ রায়। অন্যদিকে ভিকি রামানচা এখনো পলাতক রয়েছেন।
দুজনের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে পাচার ও প্রতারণার ষড়যন্ত্রের একটি অভিযোগ, পাচারের তিনটি অভিযোগ এবং নকল ওষুধ বিক্রি ও বিক্রির উদ্দেশ্যে নকল ওষুধ রাখার দুটি অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রত্যেকের সর্বোচ্চ ৭১ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।
অভিযোগপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, নকল ওজেম্পিকের সরবরাহ নিয়ে আপত্তি থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়ম না মানতে উৎসাহিত করতেন তারা। একটি বার্তায় তারা লিখেছিলেন, কম দামে পণ্য চাইলে কিছু নিয়ম এড়িয়ে যাওয়ার বিষয়টি মেনে নিতে হবে। এছাড়া চক্রের সঙ্গে জড়িত কয়েকজনকে তারা হুমকি দিয়েছিলেন বলেও অভিযোগ করেছে কৌঁসুলিরা।
২০২৪ সালের মার্চে ভিকি রামানচা প্রায় ১১ হাজার নকল ওজেম্পিকের চালান যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যের একটি গুদামে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করেছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এছাড়া ফ্লোরিডার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে হাজার হাজার নকল ওষুধ বিক্রি বা সরবরাহ করা হয়।
২০২৩ সালের ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন দেশটির ওষুধ সরবরাহ ব্যবস্থায় নকল ওজেম্পিক পাওয়া যাওয়ার বিষয়ে ভোক্তাদের সতর্ক করেছিল। সংস্থাটি জানিয়েছে, নকল ওষুধের সংখ্যা বাড়ছে এবং এগুলো মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের নিয়ম অনুযায়ী, ওজন কমানোর জন্য ব্যবহৃত এই ধরনের ওষুধ চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নেওয়া যায় না।
যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের অপরাধবিষয়ক বিভাগের সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল এ টাইসেন দুভা বলেন, বিশেষ করে বহুল ব্যবহৃত নকল ওষুধ মানুষের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি। তার দাবি, অভিযুক্তরা মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকিকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের আর্থিক লাভ করেছেন।
স্বপ্নদীপ রায়ের আইনজীবীরা মঙ্গলবারের শুনানি ও তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
সূত্র: সিবিএস নিউজ
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন