প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মাদারীপুরের কালকিনিতে একটি ঘটনার মধ্যে, এক গৃহবধূকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইল করে টাকা ও স্বর্ণালংকার হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে বাপ্পি সরদার নামক এক যুবকের বিরুদ্ধে। অভিযোগ করা হয়েছে যে, সে তার স্বামীকে মারধর করার সঙ্গে সঙ্গে প্রাণনাশের হুমকিও দিয়েছে।এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার কালকিনি থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে।অভিযোগকারী মোসাম্মাত খাদিজা বেগম, যিনি মিজানুর রহমানের স্ত্রী। তাদের বসবাসের জায়গা হলো উপজেলার বাঁশগাড়ি ইউনিয়নের বজরুসসার গ্রাম। বর্তমানে খাদিজা তার ছোট দুটি সন্তানের সঙ্গে খাশের হাট বাজারের পাশে একটি ভাড়া বাসায় রয়েছেন। অভিযুক্ত বাপ্পি সরদার একই এলাকার হোসেন সরদারের ছেলে।খাদিজা বেগম অভিযোগ করে জানান, তার স্বামী কাজের জন্য চট্টগ্রামে অবস্থান করছেন। একদিন, বাপ্পি সরদার তার কাছে এসে নিজেকে মিজানুর রহমানের বন্ধু পরিচয় দিয়ে তার স্বামীর মোবাইল নম্বর চান। খাদিজা নাম্বার দিতে না চাইলে, বাপ্পি তার ছোট সন্তানের হাতে থাকা মোবাইল নিয়ে গিয়ে খাদিজার মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।খাদিজার দাবি, কয়েকদিন পর রাতে বাপ্পি ফোন করে পরিচয়নামা তুলে ধরেন এবং বিভিন্নভাবে তাকে ভয়ভীতি দেখাতে শুরু করেন। তার সঙ্গে কথা না বললে, স্বামীকে মারধরের হুমকি দেওয়া হতো। পরবর্তীতে, তাকে বিভিন্ন ধরনের কুপ্রস্তাবও দেওয়া হয়। এসব প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায়, এক পর্যায়ে বাপ্পি লোকজন নিয়ে মিজানুর রহমানকে মারধর করেন বলেও অভিযোগ করেন খাদিজা।অভিযোগে আরও উল্লিখিত হয়েছে যে, বাপ্পি খাদিজাকে ভয় দেখিয়ে দাবি করেন, তার কাছে খাদিজার গোপন ছবি ও ভিডিও রয়েছে। টাকা না দিলে, সেগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি তার স্বামীকে দেখানোর হুমকি দেওয়া হয়। এই ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে খাদিজা বলেন, তিনি বাপ্পির কাছে নগদ ৩০ হাজার টাকা দেন।খাদিজার অনুযায়ী, কয়েকদিন পর আবার টাকা দাবি করা হলে, তিনি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানান। তখন বাপ্পি তাকে কানের দুল দিতে বলেন। পরে খাদিজা বাধ্য হয়ে চার আনা ওজনের কানের দুল দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।খাদিজা আরও অভিযোগ করেন, এই বিষয়টি যখন তার স্বামীর কাছে জানানো হয়, তখন মিজানুর রহমান বাপ্পির বাড়িতে যান এবং এ ব্যাপারে জানতে চান। এরপর, বাপ্পি কয়েকজন লোক নিয়ে খাদিজার ভাড়া বাসায় এসে তাকে ও তার স্বামীকে প্রাণনাশের হুমকি দেন।এই ঘটনায় পরিবারটি বর্তমানে চরম আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে বলেও জানান খাদিজা।এদিকে, ওই ভাড়া বাড়ির বাসিন্দা জুয়েল রানা এবং কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা বাপ্পি সরদারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ তুলেছেন এবং বলেছেন, তিনি এলাকায় ভয়ভীতি দেখান এবং নারীদের ব্ল্যাকমেইল করে টাকা হাতিয়ে নেন বলে তাদের জানা রয়েছে।অভিযুক্ত বাপ্পির কাকা, বাঁশগাড়ি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতির রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে তিনি প্রশাসনকে ভয় পান না বলেও অভিযোগ করেছেন তারা।ভুক্তভোগী খাদিজা বেগম বলেন, “আমি একজন সাধারণ নারী। আমি কোনো অন্যায় করিনি। আমাকে ভয় দেখিয়ে টাকা ও কানের দুল নেওয়া হয়েছে। এখন আমাকে ও আমার স্বামীকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আমি নিরাপত্তা চাই এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।”এ প্রসঙ্গে কালকিনি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।তবে, অভিযুক্ত বাপ্পি সরদারের বক্তব্য জানতে গেলে, সাংবাদিকের সঙ্গে আলাপ না করে তিনি পালিয়ে যান।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন