প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেওয়ার সময় প্রথমবারের মতো সানগ্লাস পরিহিত অবস্থায় দেখা গেছে নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহকে। এই পোশাক ও সানগ্লাস তার রাজনৈতিক পরিচয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।
বালেন শাহ, যিনি ৩৬ বছর বয়সী, বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিয়ে বক্তব্য রাখেন। তিনি হিমালয় অঞ্চলের পরিবেশের অস্থিতিশীলতার বিষয়টি তুলে ধরেন। তার পরনে ছিল কালো ব্লেজার, ঐতিহ্যবাহী কালো টুপি এবং পরিচিত চওড়া কালো সানগ্লাস।
কাঠমান্ডু পোস্টের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, শাহ সানগ্লাস পরিধানের ক্ষেত্রে সচেতন। সংসদ অধিবেশন, সরকারি অনুষ্ঠান, সামরিক কুচকাওয়াজ এবং বিদেশি রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে ছবি তোলার সময় তিনি সানগ্লাস পরে থাকেন।
অন্যদিকে, মন্ত্রিসভার বৈঠক, ব্যক্তিগত আলোচনা কিংবা যৌথ বৈঠকের সময় তিনি সাধারণত সানগ্লাস পরিধান করেন না।
র্যাপার থেকে রাজনীতিতে আসা শাহের সংগীতজীবন থেকেই কালো সানগ্লাস তার পরিচিতির একটি অংশ। রাজনৈতিক জীবনে প্রবেশের পরও তিনি এই চেহারা বজায় রেখেছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের মাধ্যমে তিনি বেশি যোগাযোগ করেন এবং খুব কমই সাক্ষাৎকার বা সংবাদ সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন, যা তার ব্যক্তিত্বকে আরো রহস্যময় করে তুলেছে।
নেপালের জনপ্রিয় অনলাইন শপিং প্ল্যাটফর্ম দারাজেও শাহের সানগ্লাসের জনপ্রিয়তার প্রভাব লক্ষ্য করা যায়। ‘বালেন শাহ গ্লাসেস’ লিখে খুঁজলে তার স্টাইল অনুসরণ করে তৈরি বিভিন্ন ধরনের সানগ্লাস পাওয়া যায়।
২০২২ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে কাঠমান্ডুর মেয়র নির্বাচিত হয়ে নেপালের রাজনৈতিক অঙ্গনে তিনি চমক সৃষ্টি করেন। কালো স্যুট ও গাঢ় সানগ্লাস তার প্রচলিত রাজনৈতিক ব্যবস্থার বাইরে থাকা একজন নতুন মুখের পরিচয়কে আরো দৃঢ় করে।
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে তরুণদের নেতৃত্বে আন্দোলনে কে পি শর্মা অলির সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পরও চলতি বছরের নির্বাচনী প্রচারে শাহ তার পরিচিত পোশাক ও সানগ্লাস ধরে রেখেছেন। পরবর্তী মার্চের সংসদ নির্বাচনে তার দল রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি বড় জয় পায়। নির্বাচনে শাহ নিজেই পূর্বাঞ্চলের একটি আসনে অলিকে হারিয়ে প্রধানমন্ত্রী হন।
সানগ্লাস ছাড়া প্রকাশ্যে এলেন কখন?
তবে তিনটি ঘটনায় শাহকে সানগ্লাস খুলে জনসাধারণের সঙ্গে সরাসরি চোখে চোখ রেখে কথা বলতে দেখা গেছে।
ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম এনডিটিভি জানাচ্ছে, জুলাইয়ে দক্ষিণ নেপালে হিন্দু-মুসলিম সংঘর্ষে প্রাণহানির পর জাতির উদ্দেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি সানগ্লাস খুলেছিলেন। পরের মাসে আগস্টে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনের সময়ও তিনি সানগ্লাস খুলে মানুষের সঙ্গে কথা বলেন।
এর আগে আরেকবার সমর্থকদের উদ্দেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় সানগ্লাস খুলে তিনি বলেছিলেন, ‘আমি তোমাদের ভালোবাসি।’
তবে আগস্টে সংসদ অধিবেশনে শাহের সানগ্লাস পরিধান নিয়ে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। জনসমালোচনা এড়াতে সংসদের স্পিকার দোল প্রসাদ আরিয়াল অধিবেশন চলাকালে গাঢ় সানগ্লাস পরা নিষিদ্ধ করেন।
পরে কাঠমান্ডু পোস্ট জানায়, শাহের কার্যালয় তার সানগ্লাস পরিধানের বিষয়টি সমর্থন করে জানিয়েছে, উজ্জ্বল আলো থেকে চোখ রক্ষার জন্য চিকিৎসকের পরামর্শেই প্রধানমন্ত্রী সানগ্লাস ব্যবহার করেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন