প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) আল কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী সাজিদ আবদুল্লাহ হত্যা রহস্য উদঘাটন, দোষীদের দ্রুত বিচার নিশ্চিতকরণ এবং তদন্তে দীর্ঘসূত্রতার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন শিক্ষার্থীরা।
এ সময় নিহতের পরিবারের জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদানের দাবিও তারা তুলেছেন।
রোববার (১৯ জুলাই) দুপুর দুইটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে নিহতের বাবা আহসান হাবিবুল্লাহ, বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. নাসিরুদ্দিন মিঝি, শিক্ষক অধ্যাপক ড. খান মুহাম্মাদ ইলিয়াস, শাখা শিবিরের সভাপতি ইউসুব আলী, শাখা বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক এস এম সুইট, শাখা জমিয়তে তালাবায়ে আরাবিয়ার সভাপতি এস এম শামীমসহ বিভাগের প্রায় দুশতাধিক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় তাদের মুখে শোনা যায় ‘সাজিদ হত্যার তদন্ত আর নয় বিলম্ব’, ‘বিচার, বিচার, বিচার চাই, সাজিদ হত্যার বিচার চাই’, ‘তদন্ত নিয়ে তালবাহানা, চলবে না চলবে না’, ‘সাজিদ হত্যার তদন্ত, করতে হবে করতে হবে’, ‘আমার ভাই মরলো কেন, প্রশাসন জবাব চাই’, ‘সাজিদ ভাই কবরে, খুনি কেন বাইরে?’, ‘খুনি ধর, জেলে ভর’, ‘খুনিদের ফাঁসি দাও, রশি লাগলে রশি নাও’, ‘সাজিদ ভাইয়ের রক্ত, বৃথা যেতে দেবো না’, ‘Justice, Justice, We want Justice’ ইত্যাদি স্লোগান।
মানববন্ধনে বক্তারা ব্যক্ত করেছেন যে, পূর্ববর্তী প্রশাসন সাজিদ আবদুল্লাহ হত্যা মামলার বিচার প্রক্রিয়ায় যে ব্যর্থতা দেখিয়েছে, তা দুঃখজনক। দীর্ঘ এক বছর অতিবাহিত হলেও হত্যার রহস্য উদঘাটন ও জড়িতদের গ্রেপ্তার না হওয়ায় ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত তদন্ত শেষ করে দোষীদের গ্রেপ্তার ও শাস্তি দিতে হবে বলেও দাবি জানান বক্তারা। একইসঙ্গে সাজিদ আবদুল্লাহর নামে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো হল বা স্থাপনার নামকরণের পাশাপাশি সাজিদ নিহত হওয়ার পর আর্থিক ক্ষতিপূরণের যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, সেটিও অতি শিগগিরই যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে।
শাখা শিবিরের সভাপতি ইউসুব আলী মন্তব্য করেছেন, "শহিদ সাজিদ আবদুল্লাহর নির্মম হত্যাকাণ্ডের এক বছর পার হলেও এখনো রহস্য উন্মোচন হয়নি এবং খুনিদের গ্রেপ্তার করা হয়নি। প্রশাসনের বিচার প্রক্রিয়ায় ধীরগতি ও টালবাহানা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দ্রুত রহস্য উন্মোচন, খুনিদের গ্রেপ্তার ও দ্রুত বিচার সম্পন্ন করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে হবে। ক্যাম্পাসে ১৭৫ একর এলাকায় সিসি ক্যামেরা স্থাপন এবং বহিরাগতদের অবাধ প্রবেশ বন্ধের দাবি জানিয়েছেন তিনি।"
নিহত সাজিদ আবদুল্লাহ'র পিতা আহসান হাবিবুল্লাহ বলেছেন, "আমি আমার ছেলেকে হারিয়ে পাগলপ্রায় হয়ে গেছি। এক বছর পার হওয়ার পরও বিচার না হওয়া কতটুকু যুক্তিসঙ্গত? আর যাকে আমি হারিয়েছি তাকে তো পাব না। বিচারটাও কি পাবো না? এক বছর লাগবে কেন? এত সময় তো লাগার কথা নয়। আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ছাত্র-ছাত্রীদেরকে বিচার নিশ্চিত করার জন্য আরও সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।"
তিনি আরও জানান, "আমি আমার ছেলেকে হারিয়েছি। কিন্তু আর যেন কাউকে এভাবে হারাতে না হয়, সে বিষয়ে প্রশাসনকে আরও সোচ্চার হতে হবে। এক বছর পরও কেন একজন আসামিও গ্রেপ্তার হলো না, এটা তো দুঃখজনক ব্যাপার। এত ভারাক্রান্ত কথা তো মুখ দিয়ে আসতে চায় না। প্রশাসনকে আহ্বান করছি, শহীদ সাজিদ আবদুল্লাহ হত্যার বিচার করুন। দায়মুক্ত হোন। আইন আছে, আদালত আছে। আল্লাহ তো বিচার চাইবার এই অধিকার আমাকে দিয়েছেন। তাহলে বিচার করতে অসুবিধা কোথায়? এখানে যত দাবি পেশ করা হয়েছে, আমি সবগুলোর সাথে একাত্মতা ঘোষণা করছি। আমি ধুঁকে ধুঁকে মরে যাচ্ছি। আর পারছি না। আপনারা বিচার নিশ্চিত করুন। আন্দোলন চালিয়ে যান। প্রয়োজনে আমি টাঙ্গাইল থেকে আবার আসবো। তবুও আমি এটার বিচার চাই।"
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন