প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
লেখক এবং গবেষক অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের অসমাপ্ত কাজ এবং স্মৃতি ধরে রাখতে প্রয়োজনীয় সব কিছুই করা হবে, জানিয়েছেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী।
সোমবার (৬ জুলাই) সকালে বাংলা একাডেমিতে অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের মরদেহে শেষবারের মতো শ্রদ্ধা জানাতে এসে তিনি এই কথা বলেন।
অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের চলে যাওয়াকে অপূরণীয় ক্ষতি হিসেবে উল্লেখ করে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী বলেন, তিনি দেশকে ভালোবেসে বহু কাজ করেছেন। এই বুদ্ধিজীবী শিক্ষা এবং সংস্কৃতি খাতে অসামান্য অবদান রেখেছেন।
নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের অসমাপ্ত কাজ এবং স্মৃতি ধারণের জন্য প্রয়োজনীয় যা কিছু করা দরকার তা সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় করবে। তার দাফন করা হবে মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে।
এর আগে, সকাল ১০টায় বাংলা একাডেমির সভাপতি বিশিষ্ট চিন্তাবিদ, শিক্ষাবিদ এবং লেখক আবুল কাসেমের মরদেহ নিয়ে আসা হয় বাংলা একাডেমিতে। এখানে তার ২য় নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
এছাড়াও, বেলা ১১টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, বেলা ১২টায় অপরাজেয় বাংলা, এবং বাদ যোহর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের শেষ জানাজা শেষে মিরপুরের বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে তাকে সমাহিত করা হবে।
হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে রোববার (৫ জুলাই) দুপুরে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেছেন অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক।
১৯৪০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলায় তিনি জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৬৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক (সম্মান) এবং ১৯৬৬ সালে একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। এরপর দীর্ঘ সময় তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে অধ্যাপনা করেছেন। পরবর্তীতে বাংলা একাডেমির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। বাংলা ভাষার সব স্তরের ব্যবহার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক।
গুণী এই অধ্যাপকের ‘সুন্দরম’ এবং ‘লোকায়ত’ নামে দুটি সাময়িকপত্রের সম্পাদনা ছাড়াও, তার অনেক গুরুত্বপূর্ণ বই রয়েছে। ‘একুশে ফেব্রুয়ারি আন্দোলন’, ‘সাহিত্য চিন্তা’, ‘রাজনীতি দর্শন’, ‘সংস্কৃতির সহজ কথা’সহ তার লেখা অন্তত ২০টিরও বেশি বই প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়াও, সম্পাদনার ক্ষেত্রে ‘ইতিহাসের আলোকে বাংলাদেশের সংস্কৃতি’, ‘স্বদেশচিন্তা’ সহ একাধিক গ্রন্থও প্রকাশিত হয়েছে।
এছাড়াও, অসামান্য অবদানের জন্য ১৯৮১ সালে তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কারে ভূষিত হন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন