প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কুমিল্লা কোতোয়ালি থানার ওসি (তদন্ত) আলমগীরের বিরুদ্ধে মাদক সেবনকারী ও ছিনতাইয়ের অভিযোগে আটক এক ব্যক্তিকে এক রাত থানার লকআপে রাখার পর ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের প্রায় এক মাস পর জাতীয় দৈনিক সরেজমিন বার্তার সিনিয়র রিপোর্টার আলাউদ্দিনের বিরুদ্ধে ১৫ হাজার টাকা চাঁদা নেওয়ার অভিযোগে মামলা রেকর্ডের ঘটনায় নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
সাংবাদিক আলাউদ্দিনের অভিযোগ, তার প্রকাশিত প্রতিবেদনের বিষয়ে কোনো নিরপেক্ষ তদন্ত বা অনুসন্ধান না করেই এবং তাকে কোনো জিজ্ঞাসাবাদ বা বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ না দিয়েই তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা রেকর্ড করা হয়েছে।
অভিযোগের আরও গুরুতর দিক হলো—কোতোয়ালি থানার বর্তমান ওসি তৌহিদুল আনোয়ার ছুটিতে থাকা অবস্থায় ওসি (তদন্ত) আলমগীর ভারপ্রাপ্ত ওসির দায়িত্বে ছিলেন এবং ওই সময় তিনিই মামলাটি রেকর্ডিং কর্মকর্তা হিসেবে নথিভুক্ত করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে একই কর্মকর্তাকে ঘিরে আগে প্রকাশিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদন এবং পরবর্তীতে ওই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলার সময়গত সম্পর্ক ও ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
যে প্রশ্নগুলো সামনে এসেছে
সাংবাদিক আলাউদ্দিনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় বলা হয়েছে, ০৯ জুলাই ২০২৬ তারিখ বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৪টার দিকে ১৫ হাজার টাকা চাঁদা নেওয়া হয়েছে।
আলাউদ্দিনের দাবি, ওই মামলার বাদী ২৬ বছর বয়সী রাফির সঙ্গে তার ওই দিন তো দূরের কথা, জীবনে কোনোদিন তার বানানো ভুক্তভোগী সাজ্জাদের সঙ্গে দেখা ও কথা হয়নি।
তার প্রশ্ন—যদি সত্যিই ওই তারিখ ও সময়ে তিনি বাদীর বানানো ভুক্তভোগী এবং মামলার এক নম্বর সাক্ষীর কাছ থেকে টাকা নিয়ে থাকেন, তাহলে ঘটনার সময় তার অবস্থান কোথায় ছিল, বাদীর সঙ্গে তার যোগাযোগ হয়েছিল কি না এবং তাদের মধ্যে কোনো ফোনকল বা যোগাযোগের ডিজিটাল প্রমাণ রয়েছে কি না—এসব যাচাই করা প্রয়োজন।
বিশেষ করে মামলার অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের কল ডিটেইল রেকর্ড (CDR), যোগাযোগের তথ্য, অবস্থানসংক্রান্ত প্রযুক্তিগত তথ্য, প্রত্যক্ষদর্শী এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক প্রমাণ পরীক্ষা করা হয়েছে কি না—এ প্রশ্নও সামনে এসেছে।
“সত্য হলে প্রমাণ করুন”—সাংবাদিক আলাউদ্দিনের চ্যালেঞ্জ
সাংবাদিক আলাউদ্দিন বলেন, যার কাছ থেকে ১৫ হাজার টাকা চাঁদা নেওয়ার অভিযোগে তাকে আসামি করা হয়েছে, সেই ব্যক্তির সঙ্গে তার কখনো দেখা বা কথা হয়েছে—এমন প্রমাণ কেউ দেখাতে পারলে তিনি সাংবাদিকতা পেশা ছেড়ে দেওয়ার জন্য পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অঙ্গীকার দিতে প্রস্তুত।
তিনি বলেন, মামলায় উল্লেখিত ০৯ জুলাই ২০২৬ বিকেল সাড়ে ৪টার সময় তিনি কোথায় ছিলেন এবং অভিযোগকারী ব্যক্তির সঙ্গে তার কোনো যোগাযোগ হয়েছিল কি না—তা তদন্তে বের করা হোক।
তার বক্তব্য, প্রযুক্তিগত তদন্তে যদি প্রমাণ হয় যে তিনি ওই সময় অভিযোগকারীর সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন বা ঘটনাস্থলে ছিলেন, তাহলে তদন্তে যে আইনগত সিদ্ধান্ত আসবে তা তিনি মেনে নেবেন।
সংগঠনের লোগো ব্যবহার করে টাকা দাবির অভিযোগ
মামলার বাদী রাফির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, তার সংগঠনের লোগো ব্যবহার করে বিভিন্ন জায়গা থেকে টাকা দাবি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে সাংবাদিক আলাউদ্দিন বলেন, যে সংগঠনের নাম ব্যবহার করার অভিযোগ করা হচ্ছে, সেটি কীভাবে পরিচালিত হয়, এর বৈধ নিবন্ধন আছে কি না এবং তার লোগো ব্যবহার করে টাকা দাবি করার সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না—এসবও তদন্তের বিষয়।
আলাউদ্দিনের দাবি, দীর্ঘ প্রায় ১৪ বছরের সাংবাদিকতা জীবনের অর্জন থাকা অবস্থায় কোনো অনিবন্ধিত বা ব্যক্তিগতভাবে পরিচালিত সংগঠনের পরিচয় ব্যবহার করে অর্থ আদায়ের মতো কর্মকাণ্ডে জড়ানোর প্রশ্নই আসে না।
তিনি আরও বলেন, তার বিরুদ্ধে সংগঠনের লোগো ব্যবহার করে অর্থ দাবির অভিযোগ থাকলে অভিযোগকারী পক্ষকে সেই লোগো ব্যবহারের স্ক্রিনশট, ফোন নম্বর, বার্তা, কল রেকর্ড, টাকা দাবির অডিও/ভিডিও বা অন্য কোনো প্রামাণ্য তথ্য তদন্তকারী সংস্থার কাছে উপস্থাপন করতে হবে।
অভিযোগের পেছনে প্রতিহিংসার প্রশ্ন
সাংবাদিক আলাউদ্দিনের অভিযোগ, কোতোয়ালি থানার ওসি (তদন্ত) আলমগীরের বিরুদ্ধে মাদক সেবনকারী ও ছিনতাইকারীকে আটকের পর ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ নিয়ে তিনি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করেন।
প্রতিবেদন প্রকাশের পর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্তের পরিবর্তে প্রায় এক মাস পর তার বিরুদ্ধেই ১৫ হাজার টাকা চাঁদা নেওয়ার অভিযোগে মামলা হওয়ায় তিনি ঘটনাটিকে প্রতিহিংসামূলক বা হয়রানিমূলক মামলা হওয়ার আশঙ্কা হিসেবে দেখছেন।
তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে স্বাধীন তদন্ত প্রয়োজন।
পুলিশ সুপারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন
সাংবাদিক আলাউদ্দিনের বক্তব্য অনুযায়ী, ওসি (তদন্ত) আলমগীরের বিরুদ্ধে প্রকাশিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদনটি কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান পিপিএমের ব্যক্তিগত হোয়াটসঅ্যাপেও পাঠানো হয়েছিল।
তার অভিযোগ, প্রতিবেদনে উত্থাপিত বিষয়গুলো নিয়ে কোনো দৃশ্যমান তদন্ত কমিটি গঠন বা নিরপেক্ষ অনুসন্ধান না হওয়ায় অভিযোগের সত্যতা যাচাই হয়নি।
এখানেই এখন বড় প্রশ্ন—
একজন পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সংবাদপত্রে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ প্রকাশের পর সেটি তদন্ত করা হলো কি না, এবং একই কর্মকর্তার দায়িত্বকালীন সময়ে ওই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে পরবর্তীতে মামলা রেকর্ড হওয়ার ক্ষেত্রে কোনো স্বার্থের সংঘাত বা পক্ষপাতের সম্ভাবনা ছিল কি না—তা কি স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়েছে?
বাংলাদেশ পুলিশের প্রকাশিত অভিযোগ ব্যবস্থাপনা পদ্ধতিতেও বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়ার কাঠামোর কথা উল্লেখ রয়েছে।
মামলা রেকর্ডের প্রক্রিয়া নিয়েও স্বাধীন তদন্তের দাবি
এ ঘটনায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—সাংবাদিক আলাউদ্দিনের বিরুদ্ধে মামলাটি রেকর্ডের আগে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা যাচাইয়ে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল।
অভিযোগকারীর বক্তব্যের পাশাপাশি অভিযুক্ত সাংবাদিকের বক্তব্য নেওয়া হয়েছিল কি না, ঘটনাস্থল যাচাই করা হয়েছিল কি না, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য নেওয়া হয়েছিল কি না, মোবাইল ফোনের যোগাযোগের তথ্য বা অন্যান্য ডিজিটাল আলামত সংগ্রহ করা হয়েছিল কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর তদন্তের মাধ্যমে বের করা জরুরি।
এখানে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, মামলায় আসামি করা মানেই আদালতে অপরাধ প্রমাণিত হওয়া নয়। অভিযোগের সত্যতা তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।
২০২৬ সালের সংশোধিত ফৌজদারি কার্যবিধির ১৭৩A ধারায় তদন্ত চলাকালে কোনো আসামির বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত প্রমাণ না থাকলে তদন্তের অগ্রগতি প্রতিবেদন চাওয়ার এবং নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে অব্যাহতির বিষয়ে আদালতের কাছে যাওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে।
তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. মোজাম্মেল হোসেনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন
মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে মো. মোজাম্মেল হোসেনের দায়িত্ব পালন নিয়েও সাংবাদিক আলাউদ্দিনের পক্ষ থেকে গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়েছে।
আলাউদ্দিনের অভিযোগ, মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পাওয়ার পর তদন্তের প্রয়োজনীয় কার্যক্রম যথাযথভাবে সম্পন্ন না করেই তিনি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এমনকি অভিযোগের সত্যতা যাচাই, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য গ্রহণ, ঘটনাস্থল পরিদর্শন, ডিজিটাল যোগাযোগের তথ্য যাচাই কিংবা অন্যান্য প্রাসঙ্গিক আলামত সংগ্রহের মতো তদন্ত কার্যক্রম না করেই টেবিলে বসে মামলার নথিপত্র প্রস্তুত করা হয়েছে—এমন অভিযোগ করেছেন তিনি।
তার আরও অভিযোগ, মামলাটি কীভাবে সংঘটিত হয়েছে এবং অভিযোগের পক্ষে কী ধরনের প্রাথমিক প্রমাণ রয়েছে—এসব যাচাই না করেই তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে কি না, সেটিও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।
তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. মোজাম্মেল হোসেনের পুলিশ পরিচয় নম্বর বিপি ৮৬১৪১৭০৪২০ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই হয়নি। তাই তদন্তকারী কর্মকর্তা আদৌ কী কী তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন, কোন কোন ব্যক্তির বক্তব্য নিয়েছেন, কী কী নথি বা ডিজিটাল তথ্য সংগ্রহ করেছেন এবং মামলার অভিযোগের পক্ষে কী কী প্রমাণ পেয়েছেন—এসব তথ্য প্রকাশের দাবি উঠেছে।
অন্যদিকে মামলাটি রেকর্ডকারী কর্মকর্তা হিসেবে ওসি (তদন্ত) আলমগীরের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। তার পুলিশ পরিচয় নম্বর বিপি ৮৬১৩১৫৫৯২৮ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ অবস্থায় একই ঘটনার ক্ষেত্রে মামলা রেকর্ডের পর্যায় থেকে তদন্ত পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভূমিকা স্বাধীনভাবে পর্যালোচনা করা হলে অভিযোগগুলোর প্রকৃত ভিত্তি সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যেতে পারে।
চাঁদাবাজির অভিযোগের আইনি প্রশ্ন
বাংলাদেশের দণ্ডবিধির ৩৮৩ ধারায় ভয় দেখিয়ে অসৎভাবে অর্থ বা সম্পদ আদায়কে ‘extortion’ বা চাঁদাবাজির সংজ্ঞার মধ্যে রাখা হয়েছে এবং ৩৮৪ ধারায় এর শাস্তির বিধান রয়েছে।
তাই ১৫ হাজার টাকা চাঁদা নেওয়ার অভিযোগ সত্য কি না, তা নির্ধারণে শুধু বাদীর বক্তব্য নয়—টাকা দাবির প্রমাণ, যোগাযোগের রেকর্ড, প্রত্যক্ষদর্শী, ডিজিটাল তথ্য এবং ঘটনার সময়-স্থানসহ পারিপার্শ্বিক প্রমাণ যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।
তদন্ত হলে যে বিষয়গুলো যাচাই করা যেতে পারে
এই ঘটনায় একটি নিরপেক্ষ ও থানার বাইরে/উচ্চতর পর্যায়ের তদন্ত হলে অন্তত নিম্নোক্ত বিষয়গুলো যাচাই করা যেতে পারে—
১. ০৯ জুলাই ২০২৬ বিকেল সাড়ে ৪টার সময় সাংবাদিক আলাউদ্দিনের অবস্থান কোথায় ছিল।
২. বাদী রাফি ও আলাউদ্দিনের মধ্যে ওই দিন বা তার আগে-পরে কোনো ফোন যোগাযোগ হয়েছিল কি না।
৩. প্রাসঙ্গিক CDR ও অন্যান্য আইনসম্মত ডিজিটাল তথ্য কী নির্দেশ করে।
৪. ১৫ হাজার টাকা লেনদেনের কোনো প্রমাণ, প্রত্যক্ষদর্শী বা ডিজিটাল রেকর্ড আছে কি না।
৫. সংগঠনের লোগো ব্যবহার করে অর্থ দাবির অভিযোগের পক্ষে স্ক্রিনশট, বার্তা, অডিও, ভিডিও বা অন্য কোনো প্রমাণ আছে কি না।
৬. মামলার আগে সাংবাদিক আলাউদ্দিনের বক্তব্য নেওয়া হয়েছিল কি না।
৭. অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা যাচাইয়ে থানার পক্ষ থেকে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল।
৮. ওসি লুৎফুর রহমান ছুটিতে থাকার সময় ওসি (তদন্ত) আলমগীর কী ক্ষমতাবলে ভারপ্রাপ্ত ওসি হিসেবে মামলাটি রেকর্ড করেন।
৯. পূর্বে ওসি (তদন্ত) আলমগীরকে নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনের সঙ্গে পরবর্তী মামলার সময়গত সম্পর্ক কোনো তদন্তে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে কি না।
১০. একই কর্মকর্তাকে ঘিরে পূর্বের অভিযোগ এবং পরবর্তী মামলার ঘটনায় স্বার্থের সংঘাতের সম্ভাবনা থাকলে মামলাটি অন্য কোনো ইউনিট দিয়ে তদন্ত করা হয়েছে কি না।
১১. তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. মোজাম্মেল হোসেন মামলার তদন্তভার গ্রহণের পর কী কী তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন।
১২. বাদী, সাক্ষী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য গ্রহণ করা হয়েছে কি না এবং তাদের বক্তব্যের কোনো লিখিত রেকর্ড রয়েছে কি না।
১৩. অভিযোগের পক্ষে থাকা কথিত কল রেকর্ড, মেসেজ, স্ক্রিনশট, অডিও-ভিডিও বা আর্থিক লেনদেনের তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই করা হয়েছে কি না।
১৪. তদন্তকারী কর্মকর্তা কোনো তদন্ত প্রতিবেদন, জব্দতালিকা, সাক্ষীদের জবানবন্দি বা অন্যান্য তদন্ত-নথি প্রস্তুত করেছেন কি না।
১৫. তদন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার আগে কীভাবে মামলার অভিযোগকে প্রাথমিকভাবে সত্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে—তার কোনো নথিভুক্ত ভিত্তি রয়েছে কি না।
পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রশ্ন
ঘটনাটি এখন শুধু একজন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলার বিষয় নয়; বরং একজন পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রকাশিত অভিযোগ, তার পরবর্তী সময়ে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা এবং মামলার রেকর্ডিং ও তদন্ত প্রক্রিয়া—এই তিনটি বিষয় পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কিত কি না, সেটিও তদন্তের দাবি রাখে।
তাই পুলিশের আইজিপি, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি, কুমিল্লা জেলা পুলিশ এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কাছে প্রশ্ন—
অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে কি স্বাধীন তদন্ত হবে?
মামলার বাদী ও আসামির বক্তব্যের পাশাপাশি ডিজিটাল ও পারিপার্শ্বিক প্রমাণ কি পরীক্ষা করা হবে?
মামলা রেকর্ডের সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার ভূমিকা কি আলাদাভাবে পর্যালোচনা করা হবে?
তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. মোজাম্মেল হোসেনের তদন্ত কার্যক্রম যথাযথভাবে সম্পন্ন হয়েছে কি না, তা কি ঊর্ধ্বতন কোনো কর্মকর্তা বা স্বাধীন তদন্তকারী সংস্থার মাধ্যমে যাচাই করা হবে?
আগের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উত্থাপিত অভিযোগেরও কি পৃথক তদন্ত হবে?
একটি নিরপেক্ষ তদন্ত হলে একই সঙ্গে দুটি বিষয় পরিষ্কার হতে পারে—সাংবাদিক আলাউদ্দিনের বিরুদ্ধে ১৫ হাজার টাকা চাঁদা নেওয়ার অভিযোগের বাস্তব ভিত্তি আছে কি না এবং এর বিপরীতে পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রকাশিত অভিযোগের কোনো সত্যতা আছে কি না।
অভিযোগ সত্য হলে দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা এবং অভিযোগ মিথ্যা হলে দায়মুক্তি—দুই ক্ষেত্রেই স্বাধীন তদন্তই হতে পারে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পথ
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন