প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকা, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬ : ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি যুক্তরাষ্ট্রকে হরমুজ প্রণালিতে ‘নিরাপত্তাহীনতার’ জন্য দায়ী করেছেন। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ বর্তমানে শত্রু দুই দেশের মধ্যে চলমান সংঘাতের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এএফপি থেকে তেহরান জানায়, সোমবার রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভের সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে আরাকচি বলেন, "যুক্তরাষ্ট্র ও জায়নবাদী শাসকগোষ্ঠী (ইসরাইল) চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধ এবং অর্থনৈতিক অবরোধ আমাদের অঞ্চলে নিরাপত্তাহীনতার প্রধান উৎস।"
তিনি ‘উপসাগর ও হরমুজ প্রণালির’ নিরাপত্তা পরিস্থিতির কথাও উল্লেখ করেন।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর প্রথমবারের মতো সোমবার তেহরানে পৌঁছান ল্যাভরভ। মস্কো সংঘাত নিরসনে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভূমিকা রাখার চেষ্টা করছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়ী রোববার জানান, ল্যাভরভের সফরে ‘আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি’ নিয়ে আলোচনা হবে।
রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, সফরকালে ল্যাভরভের ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং তার ইরানি প্রতিপক্ষ আব্বাস আরাকচির সঙ্গে বৈঠক করার পরিকল্পনা রয়েছে।
অভিজ্ঞ এই কূটনীতিক পূর্বে বলেছেন, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে আলোচনা থমকে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে মস্কোর প্রচেষ্টা ‘বড় ধরনের যুদ্ধের পুনরাবৃত্তি ঠেকানোর’ লক্ষ্যে পরিচালিত হচ্ছে।
অক্টোবরের শুরুতে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন পেজেশকিয়ানকে জানান, মস্কো মধ্যস্থতার প্রচেষ্টায় অবদান রাখতে প্রস্তুত। এর পরপরই ল্যাভরভের এই সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
বিশ্বের সবচেয়ে বেশি নিষেধাজ্ঞার মুখে থাকা দেশগুলোর মধ্যে রাশিয়া ও ইরান অন্যতম। দুই দেশের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বিদ্যমান। ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসন শুরুর পর থেকে তাদের সামরিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি পেয়েছে।
গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হয়। এপ্রিলে যুদ্ধবিরতি এবং জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হলেও হরমুজ প্রণালি ও এর আশপাশে শত্রুতা অব্যাহত রয়েছে।
ইরান কৌশলগত এই জলপথের ওপর নিয়ন্ত্রণের দাবি করে আসছে। স্বাভাবিক সময়ে বিশ্বের মোট হাইড্রোকার্বনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। ইরানের অনুমোদন ছাড়া এই পথ অতিক্রম করা জাহাজগুলোকে দেশটি নিয়মিত লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করছে।
এর জবাবে ওয়াশিংটন ইরানের বন্দরগুলোকে ঘিরে পাল্টা নৌ অবরোধ বজায় রেখেছে।
রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ল্যাভরভের সফরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরানের বিরুদ্ধে ‘অবৈধ আগ্রাসনের ফলে সৃষ্ট তীব্র আন্তর্জাতিক সংকট নিরসনের উপায়’ নিয়ে আলোচনা হবে।
মন্ত্রণালয় আরও জানায়, এই যুদ্ধ কেবল নিকটপ্রাচ্য ও মধ্যপ্রাচ্যেই নয়, বরং বিশ্বব্যাপী স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তার ওপরও আঘাত হেনেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন