প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
আসন্ন সরিষাবাড়ী পৌরসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আলোচনা ক্রমেই জমে উঠছে। সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীদের নিয়ে নানা হিসাব-নিকাশের মধ্যেই স্থানীয়ভাবে জনপ্রিয়তার আলোচনায় উঠে এসেছেন সরিষাবাড়ী উপজেলা বিএনপির সদস্য ও উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. রুহুল আমিন সেলিম (বেলজিয়াম সেলিম)।
স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিন ধরে জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে, শিক্ষা বিস্তার, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, সামাজিক উন্নয়ন এবং বিভিন্ন মানবিক উদ্যোগের কারণে তিনি পৌর এলাকার মানুষের আস্থা এবং গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেছেন। দলীয় রাজনীতির পাশাপাশি সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকায় তার পরিচিতি ও জনপ্রিয়তা তৃণমূল পর্যায়ে দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
রাজনৈতিক সূত্রে জানা যায়, স্কুলজীবন থেকেই তিনি ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। অষ্টম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত অবস্থায় স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন, যেখানে তিনি হরতাল, মিছিল ও পিকেটিংসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেন। পরবর্তীতে ১৯৯১ সালে সরিষাবাড়ী রিয়াজ উদ্দিন তালুকদার কলেজ ছাত্রদলের রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। ১৯৯৬ সালে পরিচালিত অপারেশন ক্লিন হার্ট অভিযানে তিনি সেনাবাহিনীর নির্যাতনের শিকার হন এবং এর ফলে কারাভোগ করেন, যা দলীয় সূত্র দাবি করছে।
পরবর্তীতে রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে তিনি দেশ ছেড়ে বেলজিয়ামে চলে যান। সেখানে অবস্থানকালেও তিনি বেলজিয়াম বিএনপির যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন, এবং বিভিন্ন আওয়ামী লীগবিরোধী কর্মসূচি, সমাবেশ ও মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করেন। দেশে ফিরে এসে তিনি বিএনপির রাজনীতিতে আবার সক্রিয় হন। তার সমর্থকদের দাবী, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে তিনি একাধিক রাজনৈতিক মামলার মুখোমুখি হন। একই সময়ে তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান স্বপ্ননীল পার্ক ও সেলিম ব্রিকস-এ হামলার ঘটনাও ঘটে। এসব প্রতিকূলতা সত্ত্বেও তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের পাশে থেকে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।
স্থানীয় নেতাকর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, জেলা বিএনপির সভাপতি ফরিদুল কবীর তালুকদার শামীম-এর নেতৃত্বে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রমকে শক্তিশালী করতে তিনি ধারাবাহিকভাবে কাজ করে আসছেন। এছাড়া তিনি সরিষাবাড়ী উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ আজিম উদ্দিন-এর ভাতিজা।
পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরে একজন সমাজসেবক হিসেবে তিনি মানুষের সুখ-দুঃখের সঙ্গে যুক্ত থাকেন। শিক্ষা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, সামাজিক উন্নয়ন ও মানবিক কর্মকাণ্ডে তার অবদান ইতিবাচকভাবে মূল্যায়ন করেন অনেকেই। ফলে সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী হিসেবে স্থানীয় অনেকেই তাকে শক্ত অবস্থানে দেখছেন।
লোকজনের দাবি, নিজস্ব অর্থায়নে তিনি মসজিদ, মাদ্রাসা, এতিমখানা ও পূজামণ্ডপে সহযোগিতা প্রদান, ঈদ উপলক্ষে শত শত অসহায় পরিবারের মাঝে উপহার বিতরণ, বন্যার্তদের ত্রাণ সহায়তা, দরিদ্র মানুষের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ, শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উপকরণ প্রদান, বৃক্ষরোপণ এবং বৃক্ষ বিতরণসহ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম চালিয়ে আসছেন। এসব উদ্যোগের কারণে পৌরবাসীর কাছে তিনি একজন উদার, সেবামুখী এবং পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির নেতা হিসেবে একটি স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেছেন।
এ বিষয়ে সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী মো. রুহুল আমিন সেলিম বলেন,"আমি দুর্নীতিমুক্ত থেকে সরিষাবাড়ী পৌরবাসীর সেবা করতে চাই। উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বেকার সমস্যা নিরসন এবং দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানোই হবে আমার অঙ্গীকার। জননেতা ফরিদুল কবীর তালুকদার শামীমের হাতকে আরও শক্তিশালী করতে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে চাই। আমি অতীতেও মানুষের পাশে ছিলাম, বর্তমানে আছি এবং ভবিষ্যতেও থাকব। নির্বাচিত হলে সরিষাবাড়ী পৌরসভাকে একটি আধুনিক, পরিচ্ছন্ন এবং নাগরিকবান্ধব পৌরসভায় রূপান্তর করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।"
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যদি দলীয় মনোনয়ন নিশ্চিত হয় এবং দল ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচন করে, তাহলে রুহুল আমিন সেলিম সরিষাবাড়ী পৌরসভা নির্বাচনে অন্যতম শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিবেচিত হতে পারেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন