প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
টাইফুন ডলফিনের আঘাতের আশঙ্কা তৈরি হওয়াতে চীনের ঘনবসতিপূর্ণ পূর্ব উপকূলীয় অঞ্চলে রোববার ব্যাপক প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। এর ফলস্বরূপ ঘূর্ণিঝড়টির কারণে ইতোমধ্যে ১ হাজারের বেশি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। পাশাপাশি বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে।
বার্তা সংস্থা এএফপি’র খবর অনুযায়ী, রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি জানায়, রোববার সাংহাইয়ের দুটি প্রধান যাত্রীবাহী বিমানবন্দর থেকে যাতায়াতকারী প্রায় ১ হাজার ৪০০টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। প্রতিবেশী ঝেজিয়াং প্রদেশের হাংঝু বিমানবন্দরেও আসা-যাওয়ার ২৭০টি ফ্লাইট বাতিলের তথ্য পাওয়া গেছে। টাইফুন ডলফিন এর আগের দিনগুলোতে জাপানের ওকিনাওয়া অঞ্চলে ভারী বৃষ্টি ও তীব্র বাতাস এনে দিয়েছে।
এছাড়াও, এটি রোববার গভীর রাতে অথবা সোমবার ভোরে ঝেজিয়াং কিংবা পাশের ফুজিয়ান প্রদেশে আঘাত হানতে পারে বলে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। ওকিনাওয়া সরকারের তথ্য অনুযায়ী, সেখান সাতজন সামান্য আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ১০০ বছরের বেশি বয়সী এক ব্যক্তি আছেন, যিনি ঝোড়ো বাতাসে পড়ে গিয়ে মাথায় আঘাত পান।
আঞ্চলিক বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ওকিনাওয়ার তথ্য অনুযায়ী, রোববার বিকেল পর্যন্ত ওকিনাওয়ার ৫ হাজার ২৯০টি পরিবার বিদ্যুৎবিহীন ছিল। পাশাপাশি, তাইওয়ানে ঝড়ের প্রভাবে রোববার দ্বীপটির উত্তরাঞ্চলে ভারী বৃষ্টি ও তীব্র বাতাস বয়ে গেছে, যার ফলে কয়েক ডজন ফেরি চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে এবং ১৮০টির বেশি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।
চীনের জাতীয় আবহাওয়া কেন্দ্র (এনএমসি) রোববার সকালে টাইফুন সংক্রান্ত ‘সর্বোচ্চ সতর্কতা’ জারি করেছে। এটি দেশটির মধ্যে সবচেয়ে গুরুতর আবহাওয়া সতর্কতা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। কেন্দ্রটি ঝেজিয়াংয়ের মধ্য ও পূর্বাঞ্চলের কিছু এলাকায় ‘অস্বাভাবিক ভারী বৃষ্টিপাতের’ পূর্বাভাস দিয়েছে।
এনএমসি জানিয়েছে, সোমবার বিশেষত বিকেল পর্যন্ত সাংহাই সহ ফুজিয়ান, আনহুই ও জিয়াংসু প্রদেশের কিছু এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। চীনের স্থলভাগে আঘাত হানার পর টাইফুন ডলফিন ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হবে বলেও পূর্বাভাস রয়েছে।
রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া জানাচ্ছে, ঝড় আসার পূর্বে শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ফুজিয়ানের ‘ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা’ থেকে প্রায় ৯৯ হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। তারা আরও জানায়, ঝেজিয়াং ও ফুজিয়ানে ২০০টির বেশি ফেরি বাতিল করা হয়েছে।
সংস্থাটি আরো জানিয়েছে, প্রান্তিক সমুদ্রের বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে এবং শুক্রবার সকাল পর্যন্ত ৪৭৪টি নির্মাণ কাজে ব্যবহৃত জাহাজকে বন্দরে ফিরিয়ে নেয়া হয়েছে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমও জানাচ্ছে, যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর কিছু ট্রেন চলাচল রোববার বন্ধ রাখা হয়েছে।
এতে উল্লেখযোগ্য যে, চীনে টাইফুন ডলফিনের আঘাতের পূর্বে দক্ষিণাঞ্চলীয় গুয়াংডং প্রদেশে গত দুই সপ্তাহ আগে টাইফুন নউল আঘাত হেনেছিল। কর্তৃপক্ষ তখন এটিকে চলতি বছরের চীনে আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী টাইফুন ঘোষণা করেছিল।
এছাড়া, টাইফুন নউলের তাণ্ডবে চীনে আঘাত হানার আগে ফিলিপাইনে তিনজন নিহত এবং শত শত বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন