ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়ন উদ্যোগ


রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়ন উদ্যোগ

নরসিংদী, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬ : নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়ন, দ্রুত সেবা প্রদান, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিতকরণ এবং মাঠপর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা জোরদারে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে, যা নানা সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করছে।

বর্তমানে রায়পুরা উপজেলার সাধারণ মানুষের জন্য সরকারি চিকিৎসাসেবার একটি প্রধান কেন্দ্র হিসেবে এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বহির্বিভাগে নিয়মিত এবং জরুরি বিভাগে ২৪ ঘণ্টা চিকিৎসাসেবা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এর ফলে প্রাথমিক ও সাধারণ চিকিৎসার জন্য রোগীদের জেলা সদর কিংবা রাজধানী ঢাকায় যাওয়ার প্রয়োজন আগের তুলনায় কমেছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, রোগ নির্ণয়ের প্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও দ্রুত করার লক্ষ্যে সম্প্রতি জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (জাইকা) অর্থায়নে আধুনিক সেল কাউন্টার মেশিন সংযোজন করা হয়েছে। এর ফলে বিভিন্ন ধরনের রক্ত পরীক্ষা দ্রুত ও নির্ভুলভাবে সম্পন্ন হচ্ছে। এতে রোগীদের সময় ও ভোগান্তি কমেছে এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যয়ও হ্রাস পেয়েছে।

আরও পড়ুন: জিয়ানগরে ইউপি নির্বাচনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী আব্দুল জলিল শেখের সমর্থকদের নিয়ে জনসংযোগ ও পথসভা

এছাড়া, ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসার জন্য স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০ শয্যার পৃথক ডেঙ্গু ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে। সেল কাউন্টার মেশিনের মাধ্যমে দ্রুত রোগ নির্ণয় করে ইতোমধ্যে দুই শতাধিক ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের উপস্থিতিও বৃদ্ধি করা হয়েছে।

হাসপাতালের প্যাথলজি বিভাগে এক্স-রে সহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা সরকারি নির্ধারিত মূল্যে করা হচ্ছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সরকারি সরবরাহ করা ওষুধও সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় রোগীদের মধ্যে বিতরণ করা হচ্ছে।

নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম ও তদারকির ফলে হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ ও বহিরাঙ্গন পরিবেশে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। রোগীদের জন্য অপেক্ষাকৃত পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা করতে দেখা যাচ্ছে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ শুধু হাসপাতালকেন্দ্রিক সেবার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে বিভিন্ন উদ্যোগ জোরদার করেছে। বিশেষ করে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই), হাম-রুবেলা ক্যাম্পেইন, ওপেন এসআরপি’র মাধ্যমে ডিজিটাল স্বাস্থ্য তথ্য সংরক্ষণ, ভারবাল অটোপসি এবং কমিউনিটি ক্লিনিকের কার্যক্রমে তদারকি বাড়ানো হয়েছে।

আরও পড়ুন: চলতি বছরে ৯ মাসে ‘মব’ সহিংসতায় নিহত ১৮৭ জন

উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রত্যন্ত এলাকার জনগণের, বিশেষ করে মা ও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা রায়পুরার নিলক্ষা এলাকার বাসিন্দা মাজেদা বেগম বাসসকে জানান, "আগে হাসপাতালে এসে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হতো। পরিবেশও তেমন ভালো ছিল না। এখন চিকিৎসকরা মনোযোগ দিয়ে রোগীদের কথা শুনছেন এবং পরিবেশও আগের তুলনায় অনেক পরিচ্ছন্ন হয়েছে।"

জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা এক রোগীর স্বজন আহমেদ ইসলাম বলেন, "জরুরি প্রয়োজনে এখন আগের তুলনায় দ্রুত চিকিৎসক ও নার্সদের সেবা পাওয়া যাচ্ছে। চিকিৎসকদের আন্তরিকতায় রোগী ও স্বজনদের ভোগান্তি কমেছে।"

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জান্নাতুন নাঈম বাসসকে বলেন, "দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে প্রাতিষ্ঠানিক চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি মাঠপর্যায়ের মানুষের কাছে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করা হচ্ছে।"

আরও পড়ুন: ফরিদগঞ্জে জালটাকা দিয়ে কেনাকাটার অভিযোগে ৪ নারী আটক

তিনি আরও বলেন, "চিকিৎসকদের নিয়মিত উপস্থিতি, ২৪ ঘণ্টা জরুরি সেবা, পরিচ্ছন্নতা এবং সরকারি ওষুধের স্বচ্ছ বণ্টন নিশ্চিত করার পাশাপাশি ইপিআই, হাম-রুবেলা ক্যাম্পেইন, কমিউনিটি ক্লিনিকের সেবা, ওপেন এসআরপি ও ভারবাল অটোপসির মতো কার্যক্রম নিবিড়ভাবে তদারকি করা হচ্ছে।"

ডা. জান্নাতুন নাঈম আরও জানান, "সেল কাউন্টার মেশিনের মতো আধুনিক সরঞ্জাম সংযোজনের ফলে রোগ নির্ণয়ের সক্ষমতায়ও গতি বেড়েছে। চিকিৎসক, নার্স, মাঠকর্মী এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় এসব পরিবর্তন আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।"

তিনি উল্লেখ করেন, "প্রয়োজনীয় জনবল ও আরও আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম পাওয়া গেলে রায়পুরার মানুষকে আরও উন্নত ও পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া সম্ভব হবে।"

নরসিংদীর সিভিল সার্জন ডা. মো. বুলবুল কবীর বাসসকে জানান, "সেবার মান আরও বাড়াতে রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১৫০ শয্যায় উন্নীত করা হবে। এ উপজেলাটি অনেক প্রত্যন্ত অঞ্চল রয়েছে, যেখানে স্বাভাবিকভাবে যাতায়াত করতে সময় লাগে। এসব এলাকার মানুষের জন্য আরও একটি ১৫০ শয্যার হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।"

আরও পড়ুন: রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে পশু চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য সহকারীর হাতে প্রসব, নবজাতকের মৃত্যু

তিনি বলেন, "প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে একটি ‘জীবন তরী’ পাঠানোর জন্যও আবেদন করা হয়েছে। সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য বিভাগ বদ্ধপরিকর।"

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, হাসপাতাল ও মাঠপর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে নেওয়া উদ্যোগগুলো অব্যাহত রাখা প্রয়োজন। পাশাপাশি ভর্তি রোগীদের জন্য শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধি, প্রয়োজনীয় সংখ্যক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক পদায়ন এবং আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো গেলে রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে আরও কার্যকর স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে পরিণত করা সম্ভব হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দেশের অর্থনীতি কাঠামোগত ফাঁদে: হোসেন জিল্লুর রহমান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:৩৩ পি.এম


দেশের অর্থনীতি কাঠামোগত ফাঁদে: হোসেন জিল্লুর রহমান

বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান মন্তব্য করেছেন যে, বাংলাদেশের অর্থনীতি বর্তমানে একটি গভীর ও জটিল কাঠামোগত ফাঁদের মধ্যে আটকে রয়েছে। এই কাঠামোগত ফাঁদের তিনটি মূল বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে পরিবার পর্যায়ের অর্থনৈতিক কষ্ট, বিনিয়োগের স্থবিরতা এবং রাজনৈতিক ও শাসনতান্ত্রিক দুর্বলতা। এটি সাময়িক কোনো অর্থনৈতিক সংকট নয়, বরং দেশের অর্থনৈতিক কাঠামোর একটি গভীরে প্রোথিত সমস্যা।

শনিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে পিপিআরসি আয়োজিত 'স্টেট অব দ্য রিয়াল ইকোনমি' বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন হোসেন জিল্লুর রহমান।

এসময় ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) প্রশাসক মো. ফজলুল হক, বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমানসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

হোসেন জিল্লুর রহমান জানান, কাঠামোগত ফাঁদের প্রথম বৈশিষ্ট্যটি হলো পরিবার পর্যায়ে অর্থনৈতিক কষ্টের ক্রমবর্ধমান বৃদ্ধি। পূর্বে সামগ্রিক দারিদ্র্যের হার কিছুটা কমলেও বর্তমানে তা আবার বাড়তে শুরু করেছে, বিশেষ করে অতিদারিদ্র্য ও মাঝারি দারিদ্র্যের হার উদ্বেগজনকভাবে ঊর্ধ্বমুখী। কেবল আয় ও ব্যয়ের তথ্য দিয়ে এই সংকটের বহুমাত্রিক রূপ প্রকাশ করা সম্ভব নয়।

তিনি উল্লেখ করেন, কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে কাজের সুযোগ থাকলেও সেখানে চাকরির কোনো স্থায়ী নিরাপত্তা নেই এবং পর্যাপ্ত সুযোগের অভাবে ছদ্ম বেকারত্ব বা আংশিক কর্মসংস্থান একটি বড় সমস্যা হয়ে দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য খাতের অতিরিক্ত খরচ পরিবারগুলোর জন্য বড় আর্থিক বোঝা তৈরি করছে, যেখানে অর্ধেকেরও বেশি পরিবারে অন্তত একজন সদস্য দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত এবং তারা প্রতিনিয়ত চিকিৎসার খরচের ধাক্কা সামলাচ্ছেন।

জিল্লুর রহমান বলেন, পরিবার পর্যায়ে সঞ্চয়ের তুলনায় ঋণের বোঝা শতকরা ৪৪ ভাগের চেয়েও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে, যা মানুষের ঋণের সংকটকে আরও গভীর করে তুলেছে। পরিবার পর্যায়ের এই অর্থনৈতিক কষ্টকে অর্থনীতির এক অনু বা ক্ষুদ্র বাস্তবচিত্র হিসেবে চিহ্নিত করা যায়। অর্থনৈতিক ফাঁদের দ্বিতীয় বৈশিষ্ট্যটি হলো বিনিয়োগ স্থবির হয়ে পড়া এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির নিম্নমুখী গতি। বিশ্বের অন্যান্য অনেক দেশে পরিবার পর্যায়ে অর্থনৈতিক কষ্ট থাকলেও সেখানে বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ঊর্ধ্বমুখী থাকে। তবে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে চিত্রটি ভিন্ন; এখানে পরিবার পর্যায়ের কষ্টের পাশাপাশি বিনিয়োগ স্থবির ও নিম্নমুখী এবং প্রবৃদ্ধির প্রকৃতিও নিম্নমুখী। বিশ্বব্যাংক, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের মূল্যায়নেও বিনিয়োগের এই স্থবিরতার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

কাঠামোগত ফাঁদের তৃতীয় বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করে হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, রাজনৈতিক ও শাসনতান্ত্রিক দুর্বলতা বা রাজনৈতিক অর্থনীতি। দেশের অর্থনীতিকে গতিশীল করতে হলে প্রধান তিনটি ক্ষেত্রে দৃষ্টি দেওয়া প্রয়োজন। এগুলো হলো—পরিবার পর্যায়ের আর্থিক কষ্টের উপশম করা, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতিশীলতা আনা এবং তা বাস্তবায়নে উপযুক্ত রাজনৈতিক ও শাসনতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করা। বর্তমানে দেশের অর্থনীতি পরিবার পর্যায়, মাঝারি অর্থনৈতিক ক্ষেত্র এবং রাজনৈতিক শাসনব্যবস্থার ফাঁদে আটকে রয়েছে। এই কাঠামোগত ফাঁদ থেকে উত্তরণ পেতে হলে প্রথমত স্বীকার করে নিতে হবে, অর্থনীতি একটি দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোগত সংকটে বন্দি, যা কেবল কোনো সাময়িক অর্থনৈতিক দুরবস্থা নয়।

তিনি পরামর্শ দেন, কেবল একটি ব্যাংক কমিশন গঠন করা বা নতুন কোনো নীতি প্রতিবেদন তৈরি করলেই এই সংকটের সমাধান হবে না। এর জন্য প্রয়োজন সমাজ, সরকার ও অর্থনীতির সমন্বয়ে একটি সর্বাত্মক উত্তরণমূলক রূপরেখা তৈরি করে সংস্কার করা জরুরি।

ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) প্রশাসক মো. ফজলুল হক বলেন, দেশের অর্থনীতিতে এককভাবে তৈরি পোশাক খাতের ওপর মাত্রাতিরিক্ত নির্ভরতাকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ সংকেত।

তিনি বলেন, গত দুই দশক ধরে চামড়া, ওষুধ ও আইটি খাতকে পোশাক খাতের বিকল্প প্রবৃদ্ধির চালিকাশক্তি হিসেবে আশাবাদ শোনানো হলেও বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ উল্টো। ব্যবসা-বাণিজ্য শুরুর সময় মোট রপ্তানিতে তৈরি পোশাক খাতের অবদান ছিল ৭৩ থেকে ৭৫ শতাংশ, যা বর্তমানে বেড়ে ৮৪ থেকে ৮৫ শতাংশে গিয়ে ঠেকেছে। পোশাক খাত ছাড়া অন্য সম্ভাবনাময় খাতগুলোর কোনো লক্ষণীয় উন্নতি না হওয়া এবং এক্সপোর্ট শেয়ার একমুখী হয়ে যাওয়া অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক। কেন নীতি সহায়তা দেওয়ার পরও অন্য খাতগুলো শক্তিশালী চালিকাশক্তি হতে পারছে না—তা নিয়ে গভীর ও সুনির্দিষ্ট গবেষণার প্রয়োজন।

তিনি আরো বলেন, বর্তমানে দেশে সার্টিফিকেটভিত্তিক শিক্ষার চেয়ে দক্ষতামূলক শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা সবচেয়ে বেশি। সরকারের টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটের বিশাল পরিসংখ্যানকে ‘নম্বর গেম’ বা সংখ্যার খেলা। প্রতি বছর কত লাখ শিক্ষার্থী ট্রেনিং পাচ্ছে সেই সংখ্যা দেখানো হলেও, কতজন শিক্ষার্থী বাস্তবে কর্মসংস্থানে প্রবেশ করছে তার কোনো সঠিক মূল্যায়ন বা তথ্য সরকারের পরিসংখ্যানে নেই।

ফজলুল হক বলেন, বর্তমান আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও ধীরগতির ফাইল চলাচলের কারণে তরুণ প্রজন্ম ব্যবসায়িক বিনিয়োগে আগ্রহ হারাচ্ছে। পুরোনো জেনারেশন অফিসে ঘুরে কাজ করতে অভ্যস্ত থাকলেও, নতুন জেনারেশন প্রযুক্তিনির্ভর ‘ওয়ান-বাটন সার্ভিস’ প্রত্যাশা করে। স্টার্টআপ সংস্কৃতি এই আমলাতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে বাইপাস করে গড়ে উঠলেও, সরকারি দপ্তরের হয়রানি বজায় থাকলে দেশে দীর্ঘমেয়াদে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগে বড় ধরনের স্থবিরতা তৈরি হতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সুনামগঞ্জে লালন সাঁইয়ের ১৩৫তম তিরোধান দিবস উপলক্ষে স্মরণানুষ্ঠান ও শোভাযাত্রা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:৩৩ পি.এম


সুনামগঞ্জে লালন সাঁইয়ের ১৩৫তম তিরোধান দিবস উপলক্ষে স্মরণানুষ্ঠান ও শোভাযাত্রা

সুনামগঞ্জ, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬ : মরমি সাধক ফকির লালন সাঁইয়ের ১৩৫তম তিরোধান দিবস উপলক্ষে সুনামগঞ্জে লালন স্মরণানুষ্ঠান ও শোভাযাত্রা আয়োজন করা হয়েছে।

আজ শনিবার বেলা ১১টায় সুনামগঞ্জের হাছনরাজা মিলনায়তনে এই স্মরণানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায়, জেলা শিল্পকলা একাডেমি সুনামগঞ্জের ব্যবস্থাপনায় এবং জেলা প্রশাসন সুনামগঞ্জের আয়োজনে এই স্মরণানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

এ উপলক্ষে জেলা শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণ থেকে একটি শোভাযাত্রা বের হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় জেলা শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) শাকিলা রহমানের সভাপতিত্বে ও জেলা কালচারাল অফিসার আহমেদ মঞ্জুল হক চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত স্মরণানুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য প্রদান করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. মতিউর রহমান খান।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সুনামগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি অধ্যক্ষ (অব.) শেরগুল আহমেদ, লোকসংস্কৃতি গবেষক মোহাম্মদ সুবাস উদ্দিন, সিনিয়র সাংবাদিক লতিফুর রহমান রাজু এবং জেলা শিক্ষা অফিসার মো. জুলফিকার হোসেন।

স্মরণানুষ্ঠানে মরমি সাধক লালন সাঁইয়ের জীবন, দর্শন ও লোকসংগীতে তাঁর অবদান স্মরণ করা হয়। তাঁর মানবতাবাদী দর্শন, সাম্য ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা নতুন প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।

এ অনুষ্ঠানে বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

উপসাগরীয় জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলায় পাকিস্তানে সংকটের শঙ্কা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:৩৪ পি.এম


উপসাগরীয় জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলায় পাকিস্তানে সংকটের শঙ্কা

বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম আকাশচুম্বী হওয়া সত্ত্বেও পাকিস্তান এখন পর্যন্ত এই ধাক্কা সামাল দিতে সক্ষম হয়েছে। তবে, পাকিস্তানের অর্থমন্ত্রী মুহাম্মদ আওরঙ্গজেব মন্তব্য করেছেন যে, সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় দেশগুলোর জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা দেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক পরিস্থিতির জন্য উদ্বেগজনক। এই তথ্য মিডল ইস্ট আইয়ের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

শনিবার ব্যাংককে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সভার ফাঁকে বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। আওরঙ্গজেব জানান, পাকিস্তানে নভেম্বর পর্যন্ত চলার মতো পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে। বর্তমানে শীতকালীন চাহিদা মেটানোর পরিকল্পনা চলছে, কারণ সাধারণত শীতকালে দেশের পরিবারের জ্বালানির চাহিদা বেড়ে যায়।

তিনি বলেন, “প্রাথমিক ধাক্কা পাকিস্তান ভালোভাবেই সামাল দিয়েছে। আমাদের জ্বালানির কোনো সংকট হয়নি, পেট্রলপাম্পগুলোতে দীর্ঘ সারি দেখা যায়নি, এমনকি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিরও অবনতি ঘটেনি।”

অর্থমন্ত্রী আরো জানান, একান্ত প্রয়োজন না হলে সরকার বেশি দামে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) তাৎক্ষণিক চালান কিনবে না। কারণ, আগে থেকে চুক্তি করা চালানের তুলনায় এসব চালানের দাম সাধারণত অনেক বেশি হয়ে থাকে।

গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর থেকে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। এর জবাবে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালিয়েছে এবং তেল-গ্যাস সরবরাহে বিঘ্ন ঘটেছে।

এদিকে, ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ নতুন করে তীব্র হয়ে ওঠায় হুতিরা সাম্প্রতিক দিনগুলোতে সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনা ও বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন অবকাঠামোয় বারবার হামলা চালিয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে আওরঙ্গজেব বলেন, জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা অব্যাহত থাকলে অর্থনৈতিক কার্যক্রম স্বাভাবিক হতে আরো বেশি সময় লাগবে। তিনি বলেন, “জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা শুরু হওয়াটাই এখন উদ্বেগের বিষয়। পরিস্থিতি কোন দিকে যাবে, তা আমি সত্যি বলতে জানি না। তবে অবকাঠামোয় হামলা চলতে থাকলে সংঘাত কমে এলেও স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে আরো বেশি সময় লাগবে।”

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কিশোরগঞ্জে নিখোঁজ যুবকের কঙ্কাল উদ্ধার, চারজন গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:৩৪ পি.এম


কিশোরগঞ্জে নিখোঁজ যুবকের কঙ্কাল উদ্ধার, চারজন গ্রেপ্তার

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর থেকে পাঁচ মাস আগে নিখোঁজ হওয়া আরিফ মিয়া, যিনি সালমান নামেও পরিচিত (১৯), হত্যার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি পুলিশ। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নরসুন্ধা নদী থেকে নিহতের কঙ্কালের বিভিন্ন অংশ এবং পরনের গেঞ্জি উদ্ধার করা হয়েছে।

শনিবার দুপুরে জেলা পুলিশের উদ্যোগে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সালমান ১৮ মে সন্ধ্যায় বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেননি। পরদিন তার পরিবার হোসেনপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে। দীর্ঘ তদন্তের পর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পুলিশ জানতে পারে যে, পূর্বপরিকল্পিতভাবে সালমানকে হত্যা করা হয়েছে।

নিহতের বাবা ফজলুর রহমান একটি হত্যা মামলা দায়ের করার পর ডিবি পুলিশ অভিযান চালিয়ে সাকিব (১৮), মাফি (১৫), রফিক (৪০) ও রমজান মিয়া (৩৫) নামে চারজনকে গ্রেপ্তার করে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা স্বীকার করে যে, হত্যার পর মরদেহ নরসুন্ধা নদীর কচুরিপানার নিচে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। পরে তাদের দেখানো স্থানে অভিযান চালিয়ে নিহতের গেঞ্জি, মাথার খুলি, বুকের পাঁজরসহ শরীরের বিভিন্ন অংশের ৭৭টি হাড় উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া গেঞ্জি দেখে নিহতের বাবা প্রাথমিকভাবে ছেলেকে শনাক্ত করেন।

পুলিশ জানায়, উদ্ধার হওয়া কঙ্কাল ময়নাতদন্ত এবং ডিএনএ পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে অন্য কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা তদন্ত করা হচ্ছে।

এমএইচ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫১
মাগরিব ০৫:২৮
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%