প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু জানিয়েছেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সরকারি ছুটি ছাড়া অতিরিক্ত কোনো ‘অফ ডে’ রাখা হবে না।
মন্ত্রী বলেন, শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্ট সবার সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। তিনি উল্লেখ করেন যে, এভাবে কাজ করতে পারলে আগামী এক বছরের মধ্যে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় দৃশ্যমান ও কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় লালমনিরহাট জেলা শহরের চার্চ অব গড মিশন ক্যাম্পাসে এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সদর উপজেলার মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে ‘আলোকিত লালমনিরহাট’ কর্মসূচির সচেতনতামূলক প্রচার উপকরণ বিতরণ করা হয়।
আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, দুপুরের পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে দেখা যায়, শিক্ষার্থীরা অনুপস্থিত। তাদের অনুপস্থিতির কারণ জানতে চাইলে বলা হয়, শিক্ষক নেই। তিনি প্রশ্ন করেন, “শিক্ষক না থাকলে শিক্ষার্থীরা প্রতিষ্ঠানে থাকবে কীভাবে?” মন্ত্রী আরও বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চলাকালে কোনো শিক্ষক-শিক্ষিকা বিকেল ৪টার আগে প্রতিষ্ঠান ত্যাগ করতে পারবেন না। শিক্ষকদের উপস্থিতি নিশ্চিত হলে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও নিশ্চিত হবে।
মন্ত্রী শিক্ষকদের উদ্দেশে বলেন, “আপনারা যখন চাকরিতে যোগদান করেছিলেন, তখন সরকারি ছুটি ছাড়া অতিরিক্ত ছুটি ভোগের বিধান ছিল না।” তিনি সতর্ক করেন যে, ধীরে ধীরে একটি অনিয়মের মধ্যে চলে যাচ্ছি এবং এ অবস্থার পরিবর্তন করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, পাঠদান শেষে যেসব শিক্ষকের ক্লাস নেওয়ার দায়িত্ব থাকবে না, তাদের প্রশাসনিক ও অন্যান্য দায়িত্ব পালন করতে হবে। সরকারি ছুটির বাইরে কোনো ‘অফ ডে’ রাখা যাবে না। প্রশাসনের কর্মকর্তারাও সরকারি ছুটির বাইরে বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন, শিক্ষকদেরও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।
মন্ত্রী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ডিজিটাল হাজিরা ব্যবস্থা ও সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের ওপর জোর দেন। তার মতে, প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ডিজিটাল হাজিরা বাধ্যতামূলক করা প্রয়োজন এবং শিক্ষার পরিবেশ, নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা উচিত। তিনি এ ক্ষেত্রে প্রয়োজন হলে সহযোগিতা দেওয়ার আশ্বাস দেন।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানদের হাতে ‘আলোকিত লালমনিরহাট’ কর্মসূচির লিফলেট ও প্রচারপত্র তুলে দেওয়া হয়। এ ছাড়া মন্ত্রীর লেখা ‘জাগো বাহে তিস্তা’ বইও বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মো. রাশেদুল হক, পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান, জেলা পরিষদের প্রশাসক একেএম মমিনুল হক, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনোনীতা দাস, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রুখসানা পারভীন, জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবিএম ফারুক সিদ্দিকসহ শিক্ষা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান ও শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন