প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
গায়েহলুদ শেষ করে বাড়ি ফেরার পথে একটি সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন বর।
লক্ষ্মীপুর থেকে সংবাদদাতা জানান, আজ রবিবার বৌ-ভাতের অনুষ্ঠান ছিল। এর আগে, শনিবার রাতে কনের বাড়িতে গায়েহলুদ উৎযাপন করা হয়।
বর্ণিল সেই আয়োজনে বরও উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু গায়েহলুদ শেষে মোটরসাইকেলে করে ফেরার সময় সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান তিনি। এই ঘটনায় দুই পরিবারের বিয়ের আনন্দ মুহূর্তেই শোকে পরিণত হয়।
নিহত তরুণের নাম মাহিন, যিনি লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। কনে হলো মিফতাহ, যিনি লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা।
জানা গেছে, মাহিন ও মিফতাহ দুজনেরই বয়স ১৪ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে রয়েছে। তারা প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়ায় দুই দিন আগে গোপনে নিজেদের বিয়ে করেন।
আনুষ্ঠানিকতার অংশ হিসেবে শনিবার রাতে কনের বাড়িতে গায়েহলুদের আয়োজন করা হয় এবং রবিবার ছিল বৌ-ভাতের দিন।
শনিবার রাতে গায়েহলুদের অনুষ্ঠানের পর মাহিন মোটরসাইকেলে করে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে সদর উপজেলার চররুহিতা ইউনিয়নের বকুলতলা এলাকায় বেড়ির মাথা–মোল্লারহাট সড়কে ঘটনাটি ঘটে। গুরুতর আহত মাহিন ঘটনাস্থলেই মৃত্যুবরণ করেছেন বলে স্বজনেরা জানান।
নিহতের এলাকার বাসিন্দা হুমায়ুন কবির বলেন, গায়েহলুদ থেকে ফেরার পথে ছেলেটি দুর্ঘটনায় মারা গেছে। তার দুই দিন আগে বিয়ে হয়েছিল। এরপর কনের বাড়িতে গায়েহলুদের আয়োজন করা হয়েছিল। অনুষ্ঠান শেষে পথে দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু হয়। পরে তার দাফনও সম্পন্ন হয়েছে।
কনের মামা জাহেদুন সোহেল জানান, শনিবার রাতে তাঁর ভাগনির গায়েহলুদের আয়োজন ছিল, যেখানে বরও উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, "বর ও কনের বয়স ১৪ থেকে ১৫ বছর। এ কারণে দুই দিন আগে তাদের বিয়ে হয়েছে। রবিবার বৌ-ভাতের আয়োজন ছিল, কিন্তু গায়েহলুদের রাতেই সব আনন্দ শেষ হয়ে গেছে।"
কনের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, বিয়ের দাওয়াতের জন্য রান্না করা ও প্রস্তুত করা হাড়ি-পাতিল এলোমেলো অবস্থায় পড়ে আছে। অতিথিদের বসানোর জন্য আনা প্লাস্টিকের চেয়ারগুলোও এখন আর সাজানো হয়নি। বর জন্য নির্ধারিত স্থানটিও খালি।
সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওয়াহিদ পারভেজ বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় একজন নিহত হওয়ার খবর তিনি শোনেছেন। তবে মরদেহ কোথায় নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন। ঘটনার বিস্তারিত তথ্যও তার জানা নেই।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন