প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভারতের কলকাতার নিউমার্কেট এলাকায় প্রায় দুই মাস বন্ধ থাকার পর বাংলাদেশি পর্যটকদের জন্য পরিচিত আবাসিক হোটেলগুলো খুলতে শুরু করেছে। কলকাতা হাইকোর্ট হোটেলমালিকদের করা মামলায় ১৩টি হোটেল বন্ধের নির্দেশ খারিজ করে দেওয়ার পর একে একে চালু হচ্ছে হোটেলগুলো। দুর্গাপূজার আগে হোটেলগুলো খুলতে শুরু করায় মালিক, কর্মী ও বাংলাদেশি পর্যটকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
গত আগস্ট মাসে কলকাতার নিউমার্কেট এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নয়জন প্রাণ হারান। নিহতদের মধ্যে কয়েকজন বাংলাদেশি নাগরিকও ছিলেন। ওই ঘটনার পর নিউমার্কেট এলাকার আবাসিক হোটেলগুলোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে পৌরসভা ও দমকল বিভাগ তৎপর হয়। নিরাপত্তার ঘাটতি চিহ্নিত হওয়ায় বেশ কয়েকটি হোটেল বন্ধ করে দেওয়া হয়।
তবে হোটেলমালিকদের একাংশের দাবি, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও বেশ কয়েকটি হোটেল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। এই নির্দেশনার বিরুদ্ধে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন ব্যবসায়ীরা। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে আদালত ১৩টি হোটেল বন্ধের সিদ্ধান্ত খারিজ করে দেয়। এরপর বন্ধ থাকা হোটেলগুলো আবার চালুর পথ খুলে যায়।
হোটেল ম্যানেজাররা জানান, দুর্গাপূজার কেনাকাটাকে কেন্দ্র করে বাজারে ক্রেতাদের সাড়া ভালো রয়েছে। কয়েক দিন ব্যবসা কিছুটা খারাপ গেলেও বর্তমানে আবার গ্রাহক আসছেন। পরিস্থিতিও ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে উঠছে।
প্রায় দুই মাস হোটেল বন্ধ থাকায় মালিকরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছিলেন। তবে মধ্য কলকাতার মার্ক স্ট্রিট, রফি আহমেদ, কিদে স্ট্রিট ও সাদার স্ট্রিটসহ বিস্তীর্ণ এলাকার বন্ধ হয়ে যাওয়া আবাসিক হোটেলগুলো আবার চালু হয়েছে। এতে আশার আলো দেখছেন বাংলাদেশি পর্যটক ও হোটেল ব্যবসায়ীরা। বাংলাদেশি পর্যটকরা জানান, আগের মতো সেবা পাওয়া গেলে তাদের জন্য ভালো হবে।
অন্যদিকে, কাজ হারানোর শঙ্কায় ছিলেন হোটেল কর্মীরাও। আদালতের নির্দেশে হোটেলগুলো খুলতে শুরু করায় সংশ্লিষ্টরা আবারও ভালো ব্যবসার আশা করছেন। পাশাপাশি পরিবহন খাতেও ফিরেছে ব্যস্ততা।
হোটেলকর্মী ও পরিবহন ব্যবসায়ীরা জানান, হোটেলগুলো খুলে যাওয়ায় পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক মনে হচ্ছে। তারা আশা করছেন সবকিছু আগের অবস্থায় ফিরবে।
দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে কলকাতায় বাংলাদেশি পর্যটকদের আনাগোনা বাড়ে। কেউ পূজা দেখতে আসেন, আবার কেউ চিকিৎসার প্রয়োজনে আসেন। ফলে নিউমার্কেট এলাকায় আবাসিক হোটেলের চাহিদাও বেড়ে যায়। হোটেলগুলো খুলতে শুরু করায় পর্যটকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরছে। তবে ব্যবসার স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি হোটেলগুলোতে অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিত করাও এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন