প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
তুরস্কের বৃহত্তম শহর ইস্তাম্বুলে ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে, যা ভারী বৃষ্টির কারণে ঘটেছে। সড়ক, বাড়িঘর এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পানিতে ডুবে গেছে। বিভিন্ন স্থানে সড়ক ধসে পড়ার ঘটনা ঘটেছে এবং যানবাহন আটকে পড়েছে। বৃষ্টির কারণে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ১৪ বছর বয়সি এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কর্তৃপক্ষ শহরজুড়ে উদ্ধারকর্মী এবং বিপুলসংখ্যক যানবাহন মোতায়েন করেছে।
আল-জাজিরার যাচাই করা নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, ইস্তাম্বুলের ফাতিহ জেলার বালাত এলাকায় একটি গাড়ির পার্কিংয়ের প্রবেশপথে জমে থাকা পানির মধ্যে হাঁটছিল কিশোরটি। হঠাৎ সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। ভারী বৃষ্টির মধ্যে পানিতে পা দেওয়ার পর বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে তার মৃত্যু ঘটে।
ইস্তাম্বুলের গভর্নরের কার্যালয় জানিয়েছে, কিশোরটিকে অচেতন অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। উদ্ধারকর্মীদের প্রচেষ্টা সত্ত্বেও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। এ ঘটনায় তদন্ত শুরু হয়েছে।
পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় বৃহস্পতিবার বাসিন্দাদের প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে না যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ইস্তাম্বুলের গভর্নর দাভুত গুল। তিনি বেসমেন্ট এবং নিচতলার ফ্ল্যাটে বসবাসকারীদের রাতের বেলায় ভবনের ওপরের তলায় থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। একই সঙ্গে খাল, ছোট নদীর তীর, আন্ডারপাস এবং বন্যাপ্রবণ এলাকা এড়িয়ে চলার নির্দেশ দিয়েছেন।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার শহরজুড়ে ক্লাস স্থগিত করা হয়েছে। মোটরসাইকেল চলাচলও নিষিদ্ধ করেছে কর্তৃপক্ষ। প্রতিবন্ধী সরকারি কর্মচারী এবং ছোট শিশুর মায়েদের ছুটি দেওয়া হয়েছে। বুধবার রাত ৯টা থেকে মোটরসাইকেল চলাচলের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তা বহাল থাকবে।
তুরস্কের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বুধবার ও বৃহস্পতিবার দেশের কয়েকটি প্রদেশে আকস্মিক বন্যার আশঙ্কায় সতর্কতা জারি করেছে। প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ মানুষের শহর ইস্তাম্বুলে প্রায় ৮ হাজার উদ্ধারকর্মী এবং ২ হাজার যানবাহন ও নির্মাণযন্ত্র মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির সংবাদমাধ্যম ডেইলি সাবাহ।
আড়াই হাজারের বেশি জরুরি খবর
তুরস্কের আবহাওয়া বিভাগের সতর্কবার্তার পর মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে ইস্তাম্বুলে বৃষ্টি শুরু হয়। এরপর বিভিন্ন এলাকার সড়ক ও আন্ডারপাস পানিতে ডুবে যায়। এসেনইউর্ট ও সুলতানগাজিসহ কয়েকটি এলাকায় যানবাহন আটকে পড়ে। বাড়িঘর, দোকানপাট এবং বেসমেন্টেও পানি ঢুকে পড়ে।
ডেইলি সাবাহ জানিয়েছে, আবহাওয়াজনিত ঘটনায় জরুরি সেবাকেন্দ্রে আড়াই হাজারের বেশি খবর আসে। কর্তৃপক্ষ ১ হাজার ২৭৭টি বন্যার ঘটনা এবং ১৫টি ভূমিধসের তথ্য নথিভুক্ত করেছে। বন্যার পানিতে ৪৭ জন আটকা পড়েন। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৮০০টির বেশি বাড়ি, ২৮০টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং ৭৬টি যানবাহন।
তুরস্ক টুডে জানিয়েছে, শহরের আইয়ুপসুলতান ও গাজিওসমানপাশা জেলায় সড়কের কিছু অংশ ধসে পড়েছে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, এসেনইউর্ট এলাকায় বন্যার পানিতে ভেসে যাওয়া এক নারীকে উদ্ধার করেন পথচারীরা।
বন্যার পানি দুটি হাসপাতালে পৌঁছেছে। হাচিওসমান মেট্রো স্টেশনের ছাদ থেকেও পানি ঢুকে পড়ে। সুলতানগাজি এলাকায় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষে থাকা অবস্থায় বিদ্যালয়ের সীমানাপ্রাচীরের ঠেকনাদেয়াল ধসে পড়ে। তবে কোনো শিক্ষার্থী আহত হয়নি।
ইস্তাম্বুলের এশীয় অংশের বেইকোজ জেলার ওমেরলি এলাকায় সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। ডেইলি সাবাহর তথ্য অনুযায়ী, সেখানে প্রায় ১৯৪ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়। ভারপ্রাপ্ত ইস্তাম্বুল মেয়র নুরি আসলান জানিয়েছেন, শহরের কয়েকটি এলাকায় ১২ ঘণ্টায় প্রায় ১০০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।
বুধবার সন্ধ্যায় কর্মব্যস্ত সময়ে শহরের যানজটের মাত্রা প্রায় ৯০ শতাংশে পৌঁছায়। তবে বিমান চলাচল স্বাভাবিক ছিল বলে জানিয়েছে ডেইলি সাবাহ।
[[KEEP_2]
এএম
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন