প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (মাভাবিপ্রবি) ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি (আইসিটি) বিভাগের প্রথম বর্ষের দ্বিতীয় সেমিস্টারের শিক্ষার্থী মোঃ মনিরুজ্জামান মনিরের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা, পরিবারকে ক্ষতিপূরণ এবং শিক্ষার্থীদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতসহ ছয় দফা দাবি জানিয়েছে শিক্ষার্থীরা।
শনিবার (২৫ জুলাই) মনিরের সহপাঠী ও রংপুর ডিভিশনাল অ্যাসোসিয়েশন (আরডিএ) উদ্যোগে দুপুর ১২টায় একাডেমিক ভবন-৩-এর সামনে সুষ্ঠু বিচার ও নিরাপদ আবাসনের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করে। বিক্ষোভ মিছিল শেষে সুষ্ঠু বিচারসহ ৬ দফা দাবিতে প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করে।
বিক্ষোভ মিছিল শেষে দোষীদের বিচার, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের নিকট ছয় দফা প্রধান করে—
১. মেস মালিক ও পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের বিরুদ্ধে মামলা ও ক্ষতিপূরণ:
বিল্ডিং কোড লঙ্ঘন এবং ভাড়াটিয়া শিক্ষার্থীদের জীবন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত না করার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট মেস মালিক ও পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে নিহত শিক্ষার্থী মনিরুজ্জামান মনিরের পরিবারকে উপযুক্ত ও ন্যায্য ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
২. ২৪/৭ ‘ওয়ান কল সার্ভিস’ চালু:
জরুরি প্রয়োজনে শিক্ষার্থীদের দ্রুত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে ২৪ ঘণ্টা কার্যকর ‘ওয়ান কল সার্ভিস’ চালু করতে হবে। জরুরি সংবাদ পাওয়ার পর দ্রুততম সময়ে অ্যাম্বুলেন্স ঘটনাস্থলে পৌঁছানো নিশ্চিত করতে হবে এবং দায়িত্বে অবহেলার ক্ষেত্রে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
৩. ২৩ জুলাইয়ের ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলাকারী অ্যাম্বুলেন্স চালকদের শাস্তি:
দুর্ঘটনার দিন দায়িত্ব পালনকালে অবহেলা ও বিলম্বের অভিযোগে সংশ্লিষ্ট অ্যাম্বুলেন্স চালকদের চিহ্নিত করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়।
৪. ‘খাজা মেসে’ অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের নিরাপদ আবাসন:
মেসটিতে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের হল অথবা বিকল্প নিরাপদ আবাসনের ব্যবস্থা করার দাবি জানানো হয়।
৫. আশপাশের সব মেসের নিরাপত্তা যাচাই:
বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশের মেসগুলোর অবকাঠামোগত নিরাপত্তা, বৈদ্যুতিক সংযোগ ও বসবাসের উপযোগিতা যাচাই করতে বিশেষ তদন্ত টিম গঠনের দাবি জানানো হয়। অনিরাপদ মেস চিহ্নিত হলে সেখানে শিক্ষার্থীদের বসবাস নিরুৎসাহিত বা নিষিদ্ধ করার ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হয়।
৬. খাবারের মান উন্নয়ন ও নিয়মিত মনিটরিং:
ক্যাম্পাসের আশপাশের খাবারের দোকান ও হোটেলগুলোর খাবারের মান নিশ্চিত করতে নিয়মিত প্রশাসনিক তদারকি, মনিটরিং এবং প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়।
এ সময় শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো শোনেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী কল্যাণ ও পরামর্শদান কেন্দ্রের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. ফজলুল করিম, প্রক্টর অধ্যাপক ড. মনির মোর্শেদ, প্রক্টরিয়াল বডির সদস্য, হল প্রভোস্টসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য প্রশাসনিক কর্মকর্তারা।প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হয়। পাশাপাশি জরুরি ভিত্তিতে আজই ‘খাজা মেস’ পরিদর্শনে যাওয়ার কথা জানায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
এরআগে গত ২৩ জুলাই রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী এলাকায় ‘খাজা মেসে’ অসাবধানতাবশত বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে তৃতীয় থেকে নিচে পরে যায় আইসিটি বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থী মোঃ মনিরুজ্জামান মনির। তাৎক্ষণিকভাবে তার সহপাঠীরা উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মনিরুজ্জামানের বাড়ি দিনাজপুরের বিরল উপজেলায়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন