প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি জোবায়ের রহমান চৌধুরী মন্তব্য করেছেন, বর্তমান বিশ্বে 'জোর যার মুল্লুক তার' এই নীতিটি ক্রমশ বাস্তবায়িত হচ্ছে। পৃথিবীর দিকে তাকালে এর উদাহরণ স্পষ্টভাবে দেখা যায়। তিনি নির্দিষ্ট কোনো দেশের নাম উল্লেখ করতে চাননি এবং শালীনতার খাতিরে তা থেকে বিরত থাকছেন। তবে প্রধান বিচারপতি মনে করেন, মানবতা ও মানবাধিকার আমাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হওয়া উচিত।
শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের 'সামসময়িক বিশ্বে সার্বভৌমত্ব, মানবতা ও আইন' শীর্ষক দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক সম্মেলনে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
প্রধান বিচারপতি আরও বলেন, বর্তমান বিশ্বে মানুষের জীবন সবচেয়ে সহজে বিসর্জন দেওয়া যায় এমন পণ্য বা সম্পদ। তিনি এই মতের প্রতি অটল রয়েছেন এবং এর অসংখ্য উদাহরণ রয়েছে। তথ্যসূত্র বা উদ্ধৃতি দেওয়ার প্রয়োজন নেই, চারপাশে তাকালেই তা দেখা যায়।
তিনি উল্লেখ করেন, বাঘের অধিকার, কচ্ছপের অধিকার, শিশুদের অধিকার, শ্রমের অধিকার এবং শ্রমিকদের অধিকার—এইভাবে আমরা অধিকারের বিভিন্ন শ্রেণিবিভাগ করে থাকি। কিন্তু মানবাধিকার তো মানবাধিকারই। অধিকারের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে এতটাই ব্যস্ত হয়ে পড়েছি যে, অধিকারের আগে থাকা ‘মানব’ শব্দটিই যেন ভুলে গেছি।
প্রধান বিচারপতি আরও বলেন, "আমরা কি এমন একটি দিনের কথা বলতে পারি, যেদিন কোনো একটি দেশ, এমনকি কোনো একটি শহরেও একজন নিরপরাধ মানুষের প্রাণহানি ঘটেনি? এমন কোনো দিনের কথা কি আপনার মনে পড়ে? আমার তো পড়ে না। তবে আমার মতের সংশোধন হলে আমি তা গ্রহণ করতে প্রস্তুত।"
আন্তর্জাতিক এই সম্মেলনে দেশের বাহিরে থেকে আগত গবেষক ও শিক্ষাবিদদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে আইন বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. সাঈদা আঞ্জু বলেন, ভারত, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড, নেপাল, মালয়েশিয়া, দক্ষিণ সুদান, নামিবিয়া, গ্রিসসহ বিভিন্ন দেশ থেকে গবেষক ও শিক্ষাবিদদের অভাবনীয় সাড়া আমাদের সম্মেলনকে আন্তর্জাতিক মাত্রা দিয়েছে। জমা পড়া অসংখ্য গবেষণাপত্রের সারসংক্ষেপ থেকে মৌলিকত্ব ও একাডেমিক মানদণ্ডের ভিত্তিতে উপযুক্ত গবেষণাপত্র নির্বাচন করায় Abstract Selection Committee-কে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান তিনি। পাশাপাশি দেশ-বিদেশ থেকে আগত সম্মানিত সেশন চেয়ার ও প্যানেল আলোচকদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তাঁদের অভিজ্ঞতা, জ্ঞান ও মূল্যবান মতামত এই সম্মেলনের গবেষণামূলক আলোচনা ও একাডেমিক উৎকর্ষকে আরও সমৃদ্ধ করবে।
এ সময় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফরিদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, ন্যায়বিচার ও মানবাধিকারের ক্ষেত্রে ক্রমবর্ধমান চ্যালেঞ্জগুলো আমাদের জন্য নতুন উদ্বেগের সৃষ্টি করছে। এমন একটি জটিল বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব, মানবতা ও আইনের মধ্যকার সম্পর্ক নতুন করে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। সার্বভৌমত্ব আন্তর্জাতিক সম্পর্কের একটি মৌলিক নীতি। তবে সার্বভৌমত্বের পাশাপাশি মানবিক মর্যাদা রক্ষা, মৌলিক অধিকার সুরক্ষা এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে আমাদের সম্মিলিত দায়িত্বও যথাযথভাবে পালন করতে হবে।
উপাচার্য আরও বলেন, আইনের শাসন কেবল রাষ্ট্র পরিচালনার একটি মাধ্যম হিসেবেই কাজ করবে না; বরং অন্যায়, বৈষম্য এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে সুরক্ষাকবচ হিসেবেও ভূমিকা পালন করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান বিশ্বের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, বেসরকারি বাহিনী, অভিবাসন এবং আন্তর্জাতিক সংঘাতের মতো বিষয়গুলো বিশ্বজুড়ে নতুন নতুন আইনি ও নৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রয়োজন উদ্ভাবনী আইনি চিন্তাভাবনা, আন্তবিষয়ক গবেষণা এবং আরও শক্তিশালী আন্তর্জাতিক সহযোগিতা।
অনুষ্ঠানে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আব্দুল আলিম, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মামুনুর রশীদ, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মতিয়ার রহমান, দেশ ও দেশের বাইরের গবেষক ও শিক্ষাবিদসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীবৃন্দও উপস্থিত ছিলেন।
এমএইচ
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন